• ই-পেপার

‘আমার বাবা একাত্তরের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, মরদেহ খুঁজে পাইনি’

পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বিরুদ্ধে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ মে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরে ওই ছাত্রী তার বাবাকে জানান যে শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে থানায় গেলে মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের বিষয়টি সামনে এনে অভিযোগ প্রত্যাহার অথবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বলেন, ‘আমার মেয়ের নিরাপত্তা ও লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৮ বছর পর বগুড়া চেম্বারের নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ৫ জুলাই

বগুড়া অফিস
১৮ বছর পর বগুড়া চেম্বারের নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ৫ জুলাই
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১৮ বছর পর বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (২০২৬-২৮) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৫ জুলাই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১ হাজার ৭৭ জন ব্যবসায়ী ভোট দেবেন। 

সোমবার (১৫ জুন) প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে ১২টি পদের বিপরীতে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সভাপতি পদ। একদিকে বিএনপি সমর্থিত ‘বাদল-হিরু প্যানেল’, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘সেলিম-এরশাদ প্যানেল। বগুড়ার ব্যবসায়ী অঙ্গনে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রভাব থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি ও জামায়াতপন্থী দুই বলয়ের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।

সভাপতি পদে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা পেয়েছেন ছাতা প্রতীক। সহসভাপতি পদে আনারস প্রতীক পেয়েছেন হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এরশাদুল বারী এরশাদ এবং মোমবাতি প্রতীক পেয়েছেন মামুনুর রশিদ মামুন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহামুদুর রহমান শিপনের প্রতীক খেজুরগাছ।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ১৬ জন প্রার্থী। ফলে শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদে দুজন, সহসভাপতি পদে চারজন এবং পরিচালক পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। পরিচালক পদে দুই প্যানেলের বাইরে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে আছেন। ফলে ভোটের অঙ্কে তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বগুড়া চেম্বারে সবশেষ সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৯ সালে মমতাজ উদ্দিন এবং ২০১৩ সালে তার ছেলে মাসুদার রহমান মিলন বিনা ভোটে সভাপতির দায়িত্ব নেন। দীর্ঘসময় ধরে ভোটবিহীন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে মিলন আত্মগোপনে গেলে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জোরালো হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রশাসক নিয়োগ এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভোটের পথ খুলে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার আসল পরীক্ষা হবে ভোটের দিন। কারণ, দীর্ঘদিন পর তারা শুধু প্রতীক নয়, নিজেদের মতামতও ব্যালটে প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকের ভাষায়, এটি চেম্বারের নির্বাচন হলেও এটি বগুড়ার ব্যবসায়ী সমাজে ‘নির্বাচন বনাম মনোনয়ন’ সংস্কৃতির লড়াই।

সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সেলিম রেজা বলেন, ‘অতীতের মতো আর বিনা ভোটে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ভোটের পরিবেশ ঠিক থাকলে আমরাই জয়ী হব।’

অন্যদিকে বাদল-হিরু প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেম্বারকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। এবার ব্যবসায়ীরাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।’

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আছিয়া খাতুন জানান, দীর্ঘসময় পর নির্বাচন হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে। আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভালুকায় সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিল্লাল হোসেন (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের ভরাডোবা হোম গার্ডেনের সামনে ভরাডোবা-ঘাটাইল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বিল্লাল হোসেন গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিল্লাল হোসেন ভালুকার মেদুয়ারী এলাকায় এক বন্ধুর বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে ভরাডোবা-ঘাটাইল সড়কের ভরাডোবা হোম গার্ডেন এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভালুকা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবুজ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওমরায় গিয়ে ৩ বছর হাসপাতালের শয্যায়, দেশে ফেরার ১ মাস পরই মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি
ওমরায় গিয়ে ৩ বছর হাসপাতালের শয্যায়, দেশে ফেরার ১ মাস পরই মৃত্যু
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে মানিক হুজুর।

ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে মানিক হুজুর (৬৫)। টানা ৩ বছর তিন মাস সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে গত ১৩ মে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর সুস্থ করে ঘরে ফেরানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত হেদায়েতুল ইসলাম পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় আরো কয়েকজনের সঙ্গে সৌদি আরব যান মানিক হুজুর। মক্কায় কয়েক দিন অবস্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ফ্লোরে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪-৫ মাস সিসিইউ ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর প্রায় ৩ বছর তিন মাস তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের দাবি, এই সময়ে তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল পরিবার। সর্বশেষ তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

আবুল কালাম নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘একদম সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ করতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অসুস্থ হয়ে অচেতন অবস্থায় (কোমায়) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে কেউ থাকার সুযোগ না থাকায় স্ত্রী তখনই দেশে ফিরে আসেন। এলাকার মানুষজন মাঝেমধ্যে গিয়ে দেখতে যেত। তার ছেলেও সৌদি গিয়ে বাবাকে দেখে এসেছিল। টানা এত দিন একজন মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ায় সৌদি সরকার অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের মধ্যস্থতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও আর ঘরে ফেরা হয়নি। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

মৃত মানিক হুজুরের ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, দীর্ঘ ৩ বছরেরও বেশি সময় পর আমরা বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আশা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা আর হলো না। আমরা সবার কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে বাবাকে দাফন করা হবে।’