ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ভেন্নাতলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচজন। অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মিভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোররাত চারটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের নাম বাবুল মোল্যা। তিনি পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি একজন নসিমন চালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে আসে। সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে থাকেন। এসময় বাবুল মোল্যাও (৩৫) সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। হঠাৎ একটি দোকানের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বাবুল মোল্যা, আল-আমিন, আকিদুল, জাহাঙ্গীর হোসেন, হোসাইন বিশ্বাসসহ কয়েকজন আহত হন। বাবুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে পুড়ে যায় নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, হাবিব মোল্যার সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির হোসেনের কাপড়ের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসার পুঁজি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে দোকান পুড়ে মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। আগুন নেভানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন নসিমন চালক নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে জানানো হবে।’





