• ই-পেপার

মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মায়ের

বগুড়া

প্রশাসক পেল নবগঠিত সেই চার ইউনিয়ন পরিষদ

বগুড়া অফিস
প্রশাসক পেল নবগঠিত সেই চার ইউনিয়ন পরিষদ

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় উপজেলায় নবগঠিত চার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান এসব ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠান।

ইউএনও স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বলা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত মীর বাড়ি, স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুয়ায়ী নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওইসব  ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।

এতে চারজন সরকারি কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়। তারা হলেন  শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, মোকামতলা উপজেলার স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশল নাজমুল হোসাইন এবং দিগন্ত ইউনিয়ন পরিষদের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মামুন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গেজেট অনুযায়ী, ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। ১৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। একইভাবে সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে সীমান্ত ইউনিয়ন। ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। 

এছাড়া দেউলী ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে দীগন্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। আটটি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।

এর আগে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামে দুই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, তিনি নিজের সন্তানদের নামে কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করেননি। এটি মিরাক্কেল বা কাকতালীয় ঘটনা।

টেকনাফে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকনাফে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২১ হাজার পিছ ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবগত ২টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ হ্নীলা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশে ভয়াবহ মাদক বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি এবং এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা শাহ আলম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আলী আজগরের ছেলে এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদেবপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি আকাশমনি বাগানের জমি নিয়ে নবা সুতার ও বাদশা মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বৃষ্টির পানিতে নবা সুতারের বাড়ির মাটি ধুয়ে বাদশা মিয়ার জমিতে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শাহ আলমসহ কয়েকজন আহত হন।

শাহ আলমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুস ছালাম বলেন, যুবদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পারিবারিক বিরোধে জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
পারিবারিক বিরোধে জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাই আমির হোসেন সরদার (৪৫) মারা গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছোট ভাই জুয়েল সরদার (২৭) পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১০টার দিকে গোসাইরহাট পৌরসভার মিত্রসেনপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হোসেন সরদার ওই এলাকার মৃত গনি সরদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। ছোট ভাই সোহেল সরদারের তিন হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মেজ ভাই জুয়েল সরদারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে আসেন বড় ভাই আমির হোসেন।

একপর্যায়ে আমির হোসেন জুয়েলকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েল কিছু সময় পর একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ফিরে আসেন। পরে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সময় তার স্বামী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে জুয়েল এসে তার স্বামীর মাথায় আঘাত করেন।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।