• ই-পেপার

কালীগঞ্জে ইয়াবাসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ের দাবিতে প্রবাসীর বাড়ি অবস্থান তরুণীর

ফেনী প্রতিনিধি
ফেসবুকে প্রেম, বিয়ের দাবিতে প্রবাসীর বাড়ি অবস্থান তরুণীর
সংগৃহীত ছবি

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রণয়। এখন পরিণতির জন্য ফেনীর সোনাগাজীতে ওমান প্রবাসী আরিফ হোসেন নামে এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন নীলফামারি জেলার ফেরদৌসী আক্তার (২২) নামের এক তরুণী (২২)। গত ১৬ জুন থেকে ওই তরুণী যুবকের বাড়ি উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির সামনে ৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উৎসুক জনতাও ভিড় জমাচ্ছেন ওই বাড়িতে। 

তবে ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিয়ে ছাড়া তিনি স্থান ত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন ওই তরুণী। ওই তরুণীর পাহারায় রয়েছে গ্রাম পুলিশ।

ফেরদৌসী আক্তার নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মশরত ধলিয়া সর্দার পাড়ার মো. কালার কন্যা।

 ওই তরুণীকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চিরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করেছেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার। এ ছাড়া তোহুর নামে এক এসআইয়ের ইন্ধনে ওই তরুণী ওই যুবকের বাড়ি ছাড়ছে না অভিযোগ পরিবারটির।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ হোসেন ওমানে থাকাকালীন প্রায় এক বছর পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস পূর্বে আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসলে ফেনির মহিপালে তার সঙ্গে দেখা করেন। তরুণীকে সরাসরি দেখার পর ওই যুবকের পছন্দ না হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে তার পিতার বাড়িতে সৈয়দপুর দিয়ে আসেন ওই যুবক। এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ওই তরুণী আরিফের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে তার বাড়িতে আসেন। 

এ খবর পেয়ে আরিফের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যান এবং পুলিশকে ফোন দেন। এসআই তোহুর আহমদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাউকে না পেয়ে তরুণীকে এক গ্রাম পুলিশকে পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে যান। 

এদিকে তরুণীর কারণে যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে পারছে না বলে দাবি করেন।  তাকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে ১৭জুন বুধবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার।

ওই তরুণী জানান, বিয়ের কথা বলে ওই যুবক তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়েছে। কিন্তু সে আমাকে দেখার পর থেকে বিয়ে না করার জন্য নানা টালবাহনা করছেন। আমি তার বাড়িতে আসার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে সে তার পিতা-মাতাকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। সে আমাকে বিয়ে করা ছাড়া আমি তার বাড়ি ছাড়বোনা। 

ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক। ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছি। এখনও ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হ্যানি ট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে এক সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন সে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন। 

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু  তরুণী বিয়ে ছাড়া ঘটনাস্থল ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন।’

পুকুরে ডুবসাঁতার খেলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পুকুরে ডুবসাঁতার খেলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বন্ধুদের সাথে পুকুরে ডুবসাঁতার খেলতে গিয়ে জিহাদ (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার সময় বাউফল পৌরশহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল রোড এলাকার কাছারিবাড়ির পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জিহাদ ওই এলাকার ইলিয়াস বাহালীর ছেলে। সে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সামনের কাছারিবাড়ির পুকুরে অন্যান্য শিশুদের সাথে ডুবসাঁতার খেলছিল জিহাদ। খেলার একপর্যায়ে সে পুকুরের সিঁড়ি-ঘাটলার নিচে চলে যায়। কিন্তু ওখান থেকে আর বেড়িয়ে আসতে পারেনি। ​কিছু সময় ব্যবধানে তাকে দেখতে না পেয়ে সাথে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুকুরের সিঁড়ি-ঘাটলার নিচ থেকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি না থাকায় এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

থানায় লিখিত অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রতারণা করে নিজের নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার পরও বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার (৯০)। তিনি উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের তালদশী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ছেলের নাম মো. মহির উদ্দীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জব্বার বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন। এই সুযোগে প্রায় এক বছর আগে মহির উদ্দীন তার বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা করার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে না নিয়ে কৌশলে পাকুন্দিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে তালদশি মৌজার ৫৫৫ ও ৫৫৬ নম্বর দাগ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মহির উদ্দীনের কাছে ওই জমি ফেরত চাওয়ায় বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন তিনি।

বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দীন জানান, বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্যদের জানানোর পর এ নিয়ে একাধিক সালিশ-দরবার হয়। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। জমি ফেরত চাওয়ায় এবং সালিশ দরবার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মহির উদ্দীন আমাকে ও বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বাবা বাদী হয়ে মহির উদ্দীনের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত মহির উদ্দীন বলেন, ‘আমি জমি প্রতারণা করে লিখে নিইনি। বাবা স্বেচ্ছায় আমাকে লিখে দিয়েছেন। বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য নয়।’

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় অপহৃত শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় অপহৃত শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় পাঁচ বছরের শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্বপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সাইফুদ্দীন (৩৯), শাহানুর আক্তার (৩৫) ও নিহা (১৮)। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহান ও ওয়াসিফা নামের আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয় জায়হান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পটিয়া থানায় জিডি করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিরকুটের হাতের লেখা, স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছিল শিশুটিকে। তবে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মৃত জায়হানের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রতিবেশীরাই পরিবারের সঙ্গে শিশু জায়হানকে খোঁজার নামে নাটক করছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেয়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।