• ই-পেপার

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

মধুখালীতে সাবেক কাউন্সিলরের ডেকোরেটরের দোকানে অগ্নিকাণ্ড

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
মধুখালীতে সাবেক কাউন্সিলরের ডেকোরেটরের দোকানে অগ্নিকাণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের মধুখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান লিটনের ডেকোরেটর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে মধুখালী থানার সামনে অবস্থিত লিটন ডেকোরেটরে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের মালিক ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান লিটন জানান, প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যা ৭টার দিকে কর্মচারীরা দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। গভীর রাতে পাশের এক ব্যবসায়ী ফোন করে তাকে দোকানে আগুন লাগার খবর দেন।

তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এসে দেখি পুরো দোকানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তখন এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে আমি দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। কিন্তু দোকানে থাকা কাপড়, প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল, বৈদ্যুতিক তারসহ দাহ্যসামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমার ২৭ বছরের তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাশেদুল আলম জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।

তিনি বলেন, ‘ডেকোরেটর দোকানের ভেতরে বিপুলপরিমাণ কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রী ও বৈদ্যুতিক উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এরই মধ্যে দোকানের প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।’

যমুনা নদীতে গোসলে নেমে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর প্রতিনিধি
যমুনা নদীতে গোসলে নেমে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নদীর পূর্বপাড় চরাঞ্চলের নিশ্চিতপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর নৌকাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজিপুর থানার ওসি এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় মাদরাসার তিন ছাত্র গোসলের জন্য নদীতে নেমেছিল। স্রোতের কারণে দুজন নদীতে ডুবে যায় এবং একজন কোনোরকমে নদীর তীরে ওঠে। পরে স্থানীয় জেলেরা নদীতে জাল দিয়ে দুপুর ১২টার দিকে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। খবর পেয়ে নাটুয়ারপাড়া ফাঁড়ি ও নৌপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নিহতরা হলেন–টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার হালিদাপাড়ার (ভদ্রশিমুল) জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জুনায়েত হোসেন (১৩) ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ক্ষুদ্র কাটেঙ্গা চরাঞ্চলের আব্দুল হালিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১১)।

এ সময় জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার জামিরা গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল্লাহ (১৩) জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এরা তিনজনই কাজিপুর উপজেলার নিশ্চিতপুর ইউনিয়নের জজিরা মদিনাতুল উলূম কওমীয়া ও হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়ত।      
 

গৌরীপুর

লাইনচ্যুত বিজয় এক্সপ্রেসের ৩ বগি ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
লাইনচ্যুত বিজয় এক্সপ্রেসের ৩ বগি ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বা কোচ ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ ঘটনাস্থলে রেখে বাকি ১১টি কোচ নিয়ে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কোচগুলো উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা কাজ করেন।

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম জানান, এদিন দুপুর ১২টার পর‌ লাইনচ্যুত তিনটি কোচ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের রেল লাইন মেরামতের কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিজয় এক্সপ্রেসের পরিচালক মাসুদ মিয়া জানান, আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টা ২২ মিনিটে গৌরীপুর জংশনে প্রবেশ করে এবং রাত ১০টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পেছনের তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়।

তিনি বলেন, ‘ট্রেনটির গতি তখন কম ছিল। চালক দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

ট্রেনের যাত্রী ইফতেখার ইসলাম জানান, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি কোচের মধ্যে দ্বিতীয় কোচে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে এবং মালামাল নিয়ে দ্রুত কোচ থেকে নেমে যান।

আরেক যাত্রী নেওয়াজ আলী বলেন, ‘পেছনের কোচগুলো থেকে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও ঝাঁকুনিতে সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুর অবস্থা গুরুতর ছিল’।

স্বজনরা জানান, তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করে। পাশাপাশি যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, বর্তমানে ট্রেন চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। তবে একটি ক্রস লাইনে মেরামতের কাজ চলমান। খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে।

মাদারীপুরে চাচাতো ভাইয়ের ঘুষিতে নিহত ১

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে চাচাতো ভাইয়ের ঘুষিতে নিহত ১
প্রতীকী ছবি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ঘুষিতে আলতাফ মাদবর (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বারেক মাদবর পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের সাড়ে এগাররশি (বাচ্চু মাদবরকান্দি) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলতাফ মাদবর ওই গ্রামের ইসলাম মাদবরের ছেলে। অভিযুক্ত বারেক মাদবর একই গ্রামের মোসলেম মাদবরের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলতাফ ও বারেক মাদবরের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বারেক মাদবর আলতাফ মাদবরের বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।