• ই-পেপার

৬ মাস পর খোলা হল পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্স, চলছে গণনা

চৌদ্দগ্রামে তিন গাড়ির সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে তিন গাড়ির সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তিনটি পণ্যবাহী যানবাহনের সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাতিসা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকের হেলপারের নাম সিয়াম (২৫)। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। 

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৪১৫৩ ) কোনো ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার না করে মহাসড়কের বাম পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় একই দিকে যাওয়া (চট্ট মেট্রো-ট-১২-০৭৮৬) নম্বরের মালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের হেলপার সিয়ামসহ তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ট্রাকের সামনের অংশ ও কাভার্ডভ্যানের পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আরেকটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৪১০) দ্রুতগতিতে এসে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকটির পেছনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তিনটি গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ওসি রুহুল আমিন আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রামগতি

সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিশারী জামে মসজিদ থেকে তহসিলদার বাড়ি পর্যন্ত ‘মুক্তিযোদ্ধো সায়েদুলহক সড়ক’ নামের এক কিলোমিটার রাস্তাটি ২৬ বছরেও পাকা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। 

জানা যায়, ২০০০ সালে রামগতি পৌরসভা গঠিত হলে রাস্তাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চলে যায়। এর আগে এটি রামগতি উপজেলার আওতাধীন ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে রাস্তাটি প্রথমে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চলাচলের জন্য নির্মাণ করেন। পরে এটি পৌরসভার রাস্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও রাস্তাটি পাকা করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধি আসছে আর গেছে, কিন্তু কেউই এ রাস্তার দিকে নজর না দেওয়ায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।

তবে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সায়েদুলহক সড়কসহ মোট ৫টি রাস্তা নিয়ে একটি প্যাকেজ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে প্যাকেজটি অনুমোদন হয়। বর্তমান ওই প্যাকেজের কাজটি চলমান রয়েছে। অল্পসময়ের মধ্যে ওই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেকজান্ডার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়ম বলেন, ‘যখন উপজেলার আওতাধীন ছিল, তখনও পাকা করার কোন উদ্যোগ নওয়া হয়নি। এর পর পৌরসভা গঠিত হলেও কেউ জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির দিকে নজর দেয়নি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। তাই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পৌরসভার রাস্তার এমন অবস্থা হলে গ্রামের রাস্তা কেমন হবে?  তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা।’

এ বিষয়ে রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফখরুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘রাস্তাটি পাকা করণের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

রামগতি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ শুরু হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হবে।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।’

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবক নিহত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবক নিহত
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সমসার হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নজির হোসেন আখঞ্জি (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত নজির হোসেন উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম আখঞ্জির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী সমসার হাওরে মাছ ধরতে যায় নজির হোসেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে সুমন শেখ (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ।

নিহত সুমন শেখ ওই গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হোসাইন শেখ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন আলাউদ্দিন শেখ ও শওকত শেখ। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিহাব নামে এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে কাশিয়ানীর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন সুমন। পথে উকিল শেখের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল অস্ত্রধারী তার গতিরোধ করে।

হোসাইন শেখের নেতৃত্বে হামলাকারীরা চাপাতি ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার বছর আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা হামলার পর মামলাও হয়। এক সপ্তাহ আগেও সুমন শেখকে ঘিরে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে সুমন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সুযোগ বুঝে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজম খান বলেন, ‘সুমন ও হোসাইন সম্পর্কে ফুপাতো ভাই। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগেও সুমনের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল। এবার তাকে আর বাঁচতে দেওয়া হলো না।’

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হোসাইন শেখসহ হামলায় জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।’