• ই-পেপার

প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী

ময়মনসিংহ

নগরেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫ শতাংশ, গ্রামে আরো বেশি

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
নগরেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫ শতাংশ, গ্রামে আরো বেশি
প্রতীকী ছবি।

তাপমাত্রা বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট- এ ধারণা গ্রামের বাসিন্দাদের। তবে গত কয়েকদিন ধরে ময়মনসিংহ নগরেই লোডশেডিং বেড়েছে অনেক বেশি। 

বাসিন্দারা বলছেন, নগরে দিনে-রাতে কিছুক্ষণ পরপর লোডশেডিং চলছে। আর অনেক গ্রামে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মানুষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ময়মনসিংহ নগরে দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এ দুটি কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে চাহিদার ২৫ শতাংশ ঘাটতি যাচ্ছে। তবে কখনো কখনো আরো কমছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে শহরের সব এলাকায়ই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। 

গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ নগরের নওমহল ও আর কে মিশন রোড এলাকায় গিয়ে জানা যায়, এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করা হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় বসে থাকতে দেখা গেছে। 

আর কে মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ লোডশেডিং খুব থাকে। তবে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুক্ষণ  পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এই গরমের দিনে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষ খুব কষ্টের মধ্যে পড়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার থেকে হঠাৎ করেই ময়মনসিংহ নগরে লোডশেডিং বেড়েছে। 

পিডিবির বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র ময়মনসিংহ উত্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরবরাহ ছিল ৩০ মেগাওয়াট। ১০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করা হয়।

নগরের বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার (২৭ জুন) সকালে ওই কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট।

সুব্রত রায় জানান, তিনটি গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তিনটি গ্রিডের মধ্যে একটি হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর গ্রিড। বর্তমানে শ্রীপুর গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ জেলায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে  ময়মনসিংহ শহরেও বেড়েছে লোডশেডিং।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘন্টার চেয়েও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩-এর অধীনে জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার কিছু অংশসহ মোট সাতটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে ওই সাত উপজেলার বাসিন্দাদের। 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, দিনে ও রাতে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও কষ্ট বেড়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম (কারিগরি) আবু রায়হান জানান, শুক্রবার বেলা ১২টায় জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছির ৭৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদার তুলনায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। এ চাহিদা ও ঘাটতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হয়।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে থাকা বাকি ছয় উপজেলার গ্রামগুলোতে কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাপক লোডশেডিং। সেসব এলাকার মানুষও  ভোগান্তিতে পড়েছে।

একাধিক প্রকল্প বরাদ্দে জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
একাধিক প্রকল্প বরাদ্দে জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগ্নে-ভগ্নিপতিকে সভাপতি করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। 

চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লাখ, কাবিটার ২৫ লাখ ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। তার সংসদীয় আসনে বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে প্রকল্প দাখিল করেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাট করণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।

আরেকটি প্রকল্প একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগ্নে ও ভগ্নিপতি। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকটাত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, একই ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্প এমপি তার বোনজামাই ও ভাগ্নে প্রকল্প সভাপতি হওয়ায় তার সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে। 

একই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরাতন জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরে কথা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল থেকে ক্যান্সারের রোগী নিখোঁজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
হাসপাতাল থেকে ক্যান্সারের রোগী নিখোঁজ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বের হয়ে পারভেজ হোসেন নামের ক্যান্সার আক্রান্ত এক রোগী আট দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) ক্যান্সার আক্রান্ত এই রোগী নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ পারভেজ (৪০) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় কৃষক।

নিখোঁজ পারভেজের মামা শহিদুল্লাহ আহম্মদ বলেন, ‘পারভেজকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার (২০ জুন) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তাকে নিচে রেখে ফাইল নিয়ে আমি ওপরতলায় যাই। এরপর এসে তাকে আর পাইনি। নিখোঁজের ঘটনায় পরের দিন রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর বনানী থানায় জিডি করেছি, যার নম্বর ১৮১৬।’ 

তিনি আরো জানান, গলায় ক্যান্সারের কারণে তিনি কথা বলতে পারেন না। পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত পারভেজকে কোথাও পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপারে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান, ৩ জনের কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান, ৩ জনের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে রবিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (৫) ধারায় ১ (এক) বছরের জেল দুইশত টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে ০৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার বাড়ালিয়াকোনা গ্রামের মকবুল হোসেনের পুত্র সাজাহান (৪২), নয়াপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের পুত্র শরিফুল ইসলাম (৪০), জুগলী নয়াপাড়া গ্রামের সামলাল রবিদাসের পুত্র মতিরাজ রবিদাস (৪০)। তারা সবাই হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় থানা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘উপজেলায় মাদক নির্মূলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’