• ই-পেপার

ঝিনাইগাতী সীমান্তে পাইপগানসহ আটক ১

নেত্রকোনায় নদীতে ভাসমান নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় নদীতে ভাসমান নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের হাটখলা বাজারসংলগ্ন সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয়রা সেতুর নিচে ভাসমান অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি একটি কালো রঙের শার্টে মোড়ানো ছিল এবং ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতকের মরদেহ নদীতে কে বা কারা ফেলে গেছে তা এখনো জানা যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের ঢলে ফুলে-ফেঁপে উঠছে তিস্তা। পানির প্রবাহ বেশি থাকায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলা যথাক্রমে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা বাড়ছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ৯ সেন্টিমিটার বেশি ছিল। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পানি কিছুটা কমলেও নদীর প্রবল স্রোত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে।


পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। সেই ঢলের প্রভাবেই বাংলাদেশ অংশে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। পরদিন পানি কমলেও নতুন করে উজানের ঢলে আবারও নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।ইতোমধ্যে তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিচু এলাকা,গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি ও চারণভূমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন, ‘বিকেল থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের কয়েকটি বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। যদি পানি আরও বাড়ে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া বাঁধগুলো ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যার সময় আমরা রাত জেগে পাহারা দিই।’

একই উপজেলার গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে পানি ওঠানামা করছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই অনেক বেড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দি হতে শুরু করেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। গবাদিপশু নিরাপদে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো শুষ্ক মৌসুমে টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। স্থায়ী সমাধান না থাকায় সামান্য পানি বাড়লেই নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা এলেই তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ নতুন করে সামনে আসে। তাই কেবল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে নদীশাসন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের টেকসই সংস্কার, ড্রেজিং এবং তিস্তা অববাহিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় উজানের প্রতিটি ঢলই উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ বয়ে আনবে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বেড়েছে। নদীর পানির প্রবাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম

বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত

২০৪ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ রবিবার বিকেলে ভেঙে পড়ে। সোমবার দুপুরে তোলা। -সংগৃহীত

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এরই মধ্যে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) দুপু‌রে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে পাওয়া তথ‌্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও শাকসবজিসহ ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে ব‌লে কু‌ড়িগ্রাম কৃ‌ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জা‌নি‌য়ে‌ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো সংস্কার না করায় রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এর পর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকতে  শুরু করে।

ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচেও পানি ঢুকতে দেখা গেছে। এতে ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য রওনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক  পর্যবেক্ষণ করছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, উজানের ঢলে প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধে জেলার প্রত্যেক উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে।

চাঁদপুরে সিঁধ কেটে চুরি করতে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরে সিঁধ কেটে চুরি করতে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বসতঘরে সিঁধ কেটে চুরি করতে গিয়ে বাধা দেওয়ায় ফাতেমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা বেগম ওই এলাকার মৃত সাদেক মিয়াজীর স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে রোববার ভোর ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের দেয়াল সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরির সময় ফাতেমা বেগম বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।