• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন গ্রেপ্তার

মুলাদীতে স্বামীর মাটিচাঁপা দেওয়া লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
মুলাদীতে স্বামীর মাটিচাঁপা দেওয়া লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে মাটি চাঁপা দেওয়া হারুন হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বামীকে মাটি চাঁপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের তিনদিন পর সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নিজ বসত ঘরের পেছন থেকে মাটিচাঁপা দেওয়া হারুন হাওলাদারের (৫৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছেন পরকীয়া প্রেমের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী সেলিনা বেগমকে তাৎক্ষনিক থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে হারুন হাওলাদার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। এ ব্যাপারে হারুনের ছেলে মোস্তফা হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামি করে মুলাদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্রমতে, সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পেছনে মাটি আলগা ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা হারুন হাওলাদারের লাশ দেখতে পায়।  পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ এবং নিহতের স্ত্রীর পরকীয়া জেরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার পর থেকে হারুনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মাটিচাঁপা দেওয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গভিরভাবে তদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আটককৃত সেলিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, যুবক আটক

ফেনী প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, যুবক আটক
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করায় মোহাম্মদ জনি (২৩) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। 

সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয় নারায়ণপুর বক্স আলী মৌলভি বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক জনি পূর্ব জয় নারায়ণপুর বক্স আলী মৌলভি বাড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে জনি তার ফেসবুক আইডিতে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট করে। পরে স্থানীয় নাজিম বাড়ির সামনে জনি অবস্থান করছে—এমন খবরে এলাকাবাসী তাকে ঘেরাও করে। এ সময় রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আশিক, রনি ও পলাশের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে একটি ঘরের গ্রিলের সঙ্গে হাত বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় জনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করে পোস্ট করে। 

এলাকাবাসী জানায়, অপরাধী যে-ই হোক তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, আটকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তার এ কাজে অন্য কারো ইন্ধন বা সহযোগিতা আছে কিনা তা তদন্ত করা হবে।

চোর অপবাদে প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
চোর অপবাদে প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নড়াইলে চোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তার বড় ভাই।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহত প্রতিবন্ধী যুবকের নাম আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁচগ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালো বাড়া এলাকার  নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহত আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তারা জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও ফোলা সৃষ্টি হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল  হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের দাবি।

আহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন জানান, আমার ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা জানান, ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল লোকটি। ছেলেটি চোর বলে ডাক দিলে স্থানীয় অনেক লোক ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মেরেছে সেটি জানিনা। সেখানে অনেক লোক ছিল। পরে আমার ছেলেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। 

নড়াইল সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তা ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানায়, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের যে জেলার ডিসি-ইউএনও সবাই নারী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
দেশের যে জেলার ডিসি-ইউএনও সবাই নারী
সদর উপজেলার ইউএনও তিথি মিত্র, জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, আলমডাঙ্গার ইউএনও শাহীনুর আক্তার এবং দামুড়হুদার ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন (বাঁ দিক থেকে। মাঝে জেলা প্রশাসক)। ছবি : সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলার চার উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)—সব পদেই দায়িত্ব পালন করছেন নারী কর্মকর্তা। এতে জেলা প্রশাসনে নতুন এক নজির সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লুৎফুন নাহার। তিনি চুয়াডাঙ্গার দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। তাঁর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর—চার উপজেলার ইউএনও পদেও নারী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে চুয়াডাঙ্গায় নারী জেলা প্রশাসক ও নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করলেও, জেলা প্রশাসকসহ চার উপজেলার ইউএনও পদে একই সময়ে পাঁচ নারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ঘটনা এবারই প্রথম।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ জুন চুয়াডাঙ্গার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সায়মা ইউনুস। তিনি ২০১৭ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রায় এক দশক পর গত ২৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২ এপ্রিল জেলার ৩০তম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একই সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন তিথি মিত্র। পরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে আলমডাঙ্গা উপজেলার ইউএনও হিসেবে শাহীনুর আক্তারকে পদায়ন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৪ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে লাভলী ইয়াসমিনকে দামুড়হুদা এবং সুমাইয়া সুলতানা এ্যানিকে জীবননগর উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে লাভলী ইয়াসমিন ইতিমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে জীবননগরের নবনিযুক্ত ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি এখনো যোগদান করেননি। বর্তমানে সেখানে মো. আশরাফুল আলম রাসেল দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের জন্য ভালো কাজ করছে—এটি তারই প্রমাণ। আমি যখন দেখলাম এই জেলায় আরো দুজন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন আমার মনে হয়েছে এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। আমি কাজের ক্ষেত্রে ছেলে ইউএনওদের সঙ্গেও কাজ করেছি, তারাও ভালো কাজ করেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, মেয়েরা আরো ভালো কাজ করেন। তারা যেমন আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের সংসার সামলান, তেমনি কর্মক্ষেত্রও আরো বেশি আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করেন-আমার কাছে এমনটিই মনে হয়েছে।’