• ই-পেপার

কেরানীগঞ্জে শ্রমিক-চালকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১০

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

গাইবান্ধায় চার উপজেলার ২৫ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় চার উপজেলার ২৫ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তিস্তা নদীর পানি গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার বিকেলে গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

মঙ্গলবার পাউবোর দুপুরের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৯ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৫৩ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে উজানের ঢল ও পানি বাড়া কমার সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বসতভিটা, আবাদি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড নদ নদী তীরবর্তী জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙনের কথা স্বীকার করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ।

ভাঙনকবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর। এসব এলাকার দু’শ পরিবারের বসতভিটা ও দেড়’ শ বিঘা আবাদি জমি তিস্তা নদীতে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ওই ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে ২’শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।

চর চৌমোহনে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত দু’শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চার’শ বিঘা আবাদি জমি ও বিপুল সংখ্যক গাছপালা। ভাঙনের শিকার নরনারী ঘরবাড়ির টিন কাঠ ও আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামেও নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ফজলুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী মন্ডল বলেন, পানি বাড়তে শুরু করার পর এলাকার মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহনসহ বেশ কিছু এলাকার ৫’শ থেকে ৭’শ পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে। উড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, নদীতে পানি বাড়া কমার এই সময়ে রতনপুরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল এলাকায় ভাঙনে এর মধ্যে ২০ থেকে ৩৫ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনের মুখে আছে আরও অনেক পরিবার। ভাঙনের মুখে স্থানীয় সিধাইল কওমি মাদরাসার দু’টি ঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। বিপদের মুখে আরও দুটি ঘর দ্রুত না সরাতে পারলে ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ২০ থেকে ২৫টি স্পটে ভাঙন শুরু হয়েছে। রিপোর্ট পাঠানোর পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা মঙ্গলবার ভাঙ্গন কবলিত দক্ষিন রসুলপুরএলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানকার অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। তিনি গৃহহীন এক নারীকে আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার দেন।

ভাঙ্গায় দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে দেড় ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে দেড় ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই তীরের পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ৮টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে দুই পক্ষের শত শত মানুষ ইট-পাটকেল, ঢাল ও সড়কি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে কয়েকজন আহত হন। এছাড়া একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কুমার নদের সেতুর ওপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। এদের মধ্যে সুমন নামের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য দু'জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সংঘর্ষের কারণে রাত ৮টা ২০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সালথায় নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সালথায় নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গাছবোঝাই একটি নছিমন ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জুলহাস মাতুব্বর (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুলহাস মাতুব্বর উপজেলার নিধিপট্টি গ্রামের ওহিদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত নছিমনের চালক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, শৈলডুবি এলাকায় গাছবোঝাই একটি নছিমনের সঙ্গে একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নছিমনের চালক জুলহাস মাতুব্বর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে অস্থির শিল্পনগরী টঙ্গী

রিপন আনসারী, গাজীপুর
কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে অস্থির শিল্পনগরী টঙ্গী
২৮ জুন ঝুট ব্যবসা দখলের জন্য টঙ্গী বিসিকে জনৈক কিশোর এভাবেই অস্ত্র উঁচিয়ে মোটরসাইকেল মহড়ায় অংশ নেয়। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ঝুট ব্যবসার হাতবদল ও দখল  নিয়ে টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে (বিসিক) প্রায়শই মোটরসাইকেলের মহড়া হয়। কয়েক দিন পর পর ব্যবসার হাতবদল ও ব্যবসা দখলের হাতিয়ার হিসেবে এই ধরনের মহড়া এখন নিত্যদিনের চিত্র। যে কোনো সময় মহড়া শুরু হওয়ার কারণে শিল্পনগরী টঙ্গীর দুই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন দোকানপাট ও  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ জননিরাপত্তা এখন হুমকিতে পড়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টঙ্গী বিসিকে দুই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলমান রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ঝুটসহ নানা ধরনের লাভজনক ব্যবসা সব সময়ই রাজনৈতিকভাবে করা হয়ে থাকে। যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে সে দলের লোকজন এসব ব্যবসা করেন। ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্ধ অন্ধকারে থেকে ভাগ-বাটোয়ারা করেন। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এসব ব্যবসারও হাতবদল হয়। হাতবদলের সময় ব্যবসা দখলে বেআইনি শক্তি প্রদর্শনের জন্য মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে শক্তির জানান দেওয়া হয়। কারণ শিল্পপতিরা যে নেতার শক্তি বেশি তাকেই ব্যবসার সুযোগ দেয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে শিল্পমালিকেরা শক্তিশালী নেতাদের এসব ব্যবসার সুযোগ দেন সব সময়। তবে ক্ষমতাসীন স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কে কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করবেন তাও আবার ওপর থেকে ডিও লেটারের মতো সংকেত আসে। কাঁচা টাকার লাভজনক এই ব্যবসার জন্য শিল্প এলাকায় এখন রাজনীতি বেশি হয়। যে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যত কম রাজনৈতিক সহিংসতা ওইসব এলাকায় তত কম।

সূত্রমতে, ক্ষমতার পালাবাদলের সঙ্গে সঙ্গে কিছু দিন এসব মহড়া দিয়ে ব্যবসা দখল জবরদখল ও হাতবদল হয়। কিন্তু নেতাদের দলে গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেলে বা বড় নেতাদের আশীর্বাদ কমে গেলে আবার ব্যবসারও হাতবদল হয়ে যায়। রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটা থাকার কারণে প্রায় সারা বছরই ঝুট ব্যবসার জন্য হাতিয়ার হিসেবে মোটরসাইকেল মহড়া অবধারিত হয়ে যায়। ফলে নেতারাও মহড়া দেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করতে গিয়ে মহড়ার লোকজন হাতে রাখেন।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, মোটরসাইকেল  মহড়ায় যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই বয়সে তরুণ বা কিশোর। অল্প বয়সে কাঁচা টাকার গন্ধে তারা সহজেই মহড়ার সদস্য হয়ে যায়। এ ছাড়া টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে ১৯টি বস্তিতে বসবাসকারী দুই লক্ষাধিক বাসিন্দার মধ্যে ৩০/৪০ হাজার মানুষ নিম্ন আয়ের ও বেকার। বেকার থাকায় জীবিকার তাগিদে তারা সহজেই চুরি, ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে যায়। ফলে সহজেই ঝুট ব্যবসা দখলের জন্য মোটরসাইকেল মহড়ায় কিশোরদের ব্যবহার করা যায়। আর যারা মাদক সেবন করে তাদের কিছু টাকা দিলেই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে। ফলে মোটরসাইকেল মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ কিশোর ও তরুণ দুর্ধর্ষ হয়ে গেছে। তারা অ্যাকশনের সময় যা খুশি তাই করতে পারে। সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকেরা এই মহড়ার ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকে। এতে টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের দুই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কয়েক লাখ মানুষ সব সময় নিরাপত্তা সংকটে আতঙ্কিত থাকেন। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে বস্তির সংখ্যা বেশি হওয়ায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের ছড়াছড়ি অহরহ। সব মিলিয়ে টঙ্গী এখন অনিরাপদ অনেকটাই।

টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের পাগার এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী তাসলিমা বেগম (৪৫) জানান, বিভিন্ন মিলে প্রায়ই হোন্ডার বহর আসে। এরকম দেখলে ভয়ে আমরা হোটেল বন্ধ করে ফেলি।
টঙ্গীর তিস্তারগেট এলাকার চায়ের দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকাশ্যেই অস্ত্র নিয়ে দোকানে চা খেতে আসে অল্প বয়সীরা। আমি ভয়ে চা-সিগারেট দিই। টাকা না দিলেও চাই না। কারণ যদি ভাঙচুর শুরু করে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে টঙ্গীতে অবস্থিত তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তন, নেতাদের ক্ষমতা কমে যাওয়া ও ঝুট ব্যবসার হাতবদলে প্রায়ই মহড়ার মুখোমুখি হই আমরা। অনেক সময় আমাদের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরও হয়। এসব বিষয়ে আমরা সহজে আইনের আশ্রয় নিই না। কারণ এখানেই ব্যবসা করতে হবে। তাই নিরাপত্তা একটি বড় বিষয়।

এসব বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, টঙ্গীতে ছিনতাই ও মাদক আগের থেকে কমেছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে অভিযান করছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনার আমাদের সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করছি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে উন্নতি হয়েছে, সামনে আরো উন্নতি হবে ইনশাআল্লাহ।