• ই-পেপার

শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পেল মরক্কো?

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানির হতাশাজনক বিদায়ের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন নয়্যার। ম্যাচজুড়ে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জার্মানির সবচেয়ে বড় সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন নয়্যার। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতাতে অসাধারণ অবদান রাখেন তিনি। দুর্দান্ত শট ঠেকানো, নিখুঁত নেতৃত্ব এবং ‘সুইপার-কিপার’ হিসেবে নতুন ধারার সূচনা করে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই জার্মান কিংবদন্তি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নয়্যারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে জার্মান ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়েরও সমাপ্তি হলো।

জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে প্যারাগুয়ে। আর এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) দেশটির সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় থাকবে।

এক বিশেষ পুশ বার্তায় সোমবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ফুটবল দলের এই অভাবনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য যেন পুরো দেশবাসী একসঙ্গে উদযাপন করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ে এদিন স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্যারাগুয়েকে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় ছিল। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ু ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে শক্তিশালী জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেয় প্যারাগুয়ে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই রাজপথে নেমে আসে দেশটির লাখো ফুটবলপ্রেমী। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস।

কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছে প্যারাগুয়ে। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়াটা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। ফুটবলবোদ্ধারা এই জয়কে প্যারাগুয়ের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবলারদের এই ঐতিহাসিক কীর্তিকে সম্মান জানাতেই নিজের সেই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই জাতীয় ছুটি ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। 
 

ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
ছবি : রয়টার্স

শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর আর টানটান উত্তেজনা—ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এর চেয়ে দারুণ কোনো চিত্রনাট্য বোধহয় আর হতে পারত না। মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মরক্কো।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তই ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর দুর্দান্ত এক গোলে লিড নিয়ে উল্লাসে মেতেছিল নেদারল্যান্ডস। ডাচ সমর্থকরা যখন জয়ের প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে পাশার দান উল্টে দেন ইসা দিয়োপ। তার নাটকীয় গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যপরীক্ষা তথা টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষেই ছিল। প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন টেউন কুপমাইনার্স। অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে প্রথম শট নিতে এসে হতাশ করেন নিল আল আইনাউই, তার শটটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে লেগে। তবে ডাচদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। জাস্টিন ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমির শট ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন হাত দিয়ে ছোঁয়ালেও বল জড়ায় জালে, সমতায় ফেরে মরক্কো।

এরপর ভাউট ভেগহর্স্ট ডাচদের হয়ে এবং তালবি মরক্কোর হয়ে গোল করলে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে। তবে ডাচ ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় নেদারল্যান্ডস। মরক্কোর সামনে সুযোগ ছিল লিড নেওয়ার, কিন্তু আশরাফ হাকিমিও মারেন পোস্টে!

ম্যাচে ফেরার এমন সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ডাচরা। ক্রাইভেন সামারভিলের শট বাম দিকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বনো।

সবশেষে মরক্কোর নায়ক হয়ে স্পট কিক নিতে আসেন ইসমাইল সাইবারি। কোটি ভক্তের চোখ তখন তার পায়ে। কোনো ভুল করেননি তিনি, নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়েই বুনো উল্লাসে মাতান পুরো দলকে। আর তাতেই ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ ষোলোর উল্লাসে মেতে ওঠে মরক্কো। 

বিশ্বের সেরা দল ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমে আসছে : জাপান কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বের সেরা দল ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমে আসছে : জাপান কোচ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরো একটি হৃদয়ভাঙা রাত কাটল ব্লু সামুরাইদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুক চিতিয়ে লড়াই করেও শেষরক্ষা হলো না। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলের নাটকীয় হারে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ হলো জাপানের এবারের স্বপ্নযাত্রা।

তবে এমন চরম নাটকীয় আর কষ্টের হারের পরও ভেঙে পড়ছেন না জাপানের মাস্টারমাইন্ড হাজিমে মোরিয়াসু। ম্যাচ শেষে তার কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরলেও, ভবিষ্যতের জন্য ছিল বুকভরা আত্মবিশ্বাস। জাপান কোচের সাফ কথা, বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের দূরত্বের ব্যবধানটা এখন অনেকটাই ঘুচে এসেছে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, ‘ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব এখন অনেকটাই কমে আসছে। ওরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে আমরাও এখন ওদের সেই স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।’

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান জাপানের জন্য এক নির্মম ট্র্যাজেডির নাম। এ নিয়ে টানা তিন আসরের নকআউট পর্বে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে না পেরে বিদায় নিতে হলো এশিয়ান এই পরাশক্তিকে। 

২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও প্রথমে লিড নিয়ে টাইব্রেকারে বিদায়ের স্তব্ধতা। আর এবারও সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। লিড নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না জাপানের।

হিউস্টনের মাঠে সোমবার ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর চমৎকার গোলে লিড নিয়ে ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল জাপান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হওয়া সেলেসাওদের আর আটকে রাখা যায়নি। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল জাপানের বুক ভেঙে দেয়।

এই হারের ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের প্রথম জয়ের অপেক্ষাটা আরো দীর্ঘ হলো। তবে মোরিয়াসু বিশ্বাস করেন, এই ইতিহাস একদিন বদলাবেই। তার ভাষায়, ‘ইতিহাস হয়তো আমাদের প্রতি সদয় হচ্ছে না। তবে আমি নিশ্চিত, একদিন আমরা এই বৃত্ত ভাঙবই। সেদিন ইতিহাসটাই বদলে যাবে।’

ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৫ বারের দেখায় এটি জাপানের ১২তম হার। দুটি ম্যাচ ড্র হলেও একমাত্র জয়টি এসেছিল গত অক্টোবরের এক প্রীতি ম্যাচে। কোচের মতে, সেই জয় আর এবারের জানপ্রাণ লড়াই প্রমাণ করে জাপান সঠিক পথেই এগোচ্ছে, তবে চূড়ায় পৌঁছাতে হলে নিজেদের মান আরো বাড়াতে হবে।

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে শিষ্যদের সান্ত্বনা দিয়ে এই হতাশাকেই ভবিষ্যৎ এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি বানানোর তাগিদ দিয়েছেন মোরিয়াসু। তবে দলের স্বপ্নপূরণ না হওয়ার সব দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন এই জাপানি ট্যাকটিশিয়ান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন। কিন্তু সেটা আমরা পারলাম না। প্রধান কোচ হিসেবে আমি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ওদেরকে সাফল্যের সেই শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য হয়তো আমি নিজেই যথেষ্ট যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’