• ই-পেপার

খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডা, আর্জেন্টিনা সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে ৩ যুবকের কারাদণ্ড

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে ৩ যুবকের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটকের পর তিন যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  আনোয়ার হোসেন এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাগর আলী (২০), শিলন আলী (২৪) ও জাহিদ (১৯)।



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাতে একজন যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পায় এবং সঙ্গে থাকা দুই জন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাংনী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এতে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিস মের্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই : সেতুমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই : সেতুমন্ত্রী
পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, পদ্মা রেলওয়ে সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের প্রয়োজনেই করা হয়েছে এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই। সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রবিউল আলম বলেন, ‘মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। বরং প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই কাজ করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ী ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আর সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থেই সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে। রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যেটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, সেটুকু অবশ্যই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

রুপগঞ্জে এমপির উদ্যোেগে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
রুপগঞ্জে এমপির উদ্যোেগে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু
সংগৃহীত ছবি


​রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছেন সম্পূর্ণ ফ্রি বাস সার্ভিস। যখন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের মুহূর্তে যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছিল, তখন এমপি দিপু ভূইয়া তাদের জন্য হয়ে উঠেছেন এক অভয়দাতা অভিভাবক। তার এই ভালোবাসাভরা উদ্যোগ কেবল যাতায়াতের বিড়ম্বনাই দূর করেনি, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে বুনে দিয়েছে সাফল্যের অদম্য সাহস।

পরীক্ষার প্রস্তুতির এই সময়ে যখন প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, তখন রূপগঞ্জের ব্যস্ত সড়কে গণপরিবহনের অনিশ্চয়তা আর অমানবিক যানজট অনেক শিক্ষার্থীর মেধাকে পিষে মারছিল। হাজারো স্বপ্ন নিয়ে যারা কলেজের পথে পা বাড়ায়, তাদের সেই ক্লান্ত মুখগুলো এমপি দিপু ভূইয়ার হৃদয়ে স্পর্শ করায় তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই উদ্যোগ যেন এক শুষ্ক মরূদ্যানের বুকে নেমে আসা শীতল বৃষ্টির ধারা— প্রতিদিন সকালে যখন বাসগুলো শিক্ষার্থীদের তুলে নেয়, তখন সেটি কেবল একটি যানবাহন নয়, হয়ে ওঠে এক নিরাপদ নীড়।


​পরীক্ষার্থী জারিফ হোসেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, ‘পরীক্ষার আগের এই দিনগুলোতে বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটা ছিল এক বড় আতঙ্ক। এমপি স্যার আমাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। এখন বাসে বসার পর মনে হবে, অভিভাবক হিসেবে স্যার আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস জোগাচ্ছেন।’ ​

কেয়া সুলতানা নামে আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ‘দিপু স্যারের বাসে চড়া মানেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি। জানালার পাশে বসে যখন বাইরের দৃশ্য দেখব, তখন মনে হবে আমাদের প্রতিটি লড়াইয়ে স্যার সঙ্গে আছেন। বাসের ভেতরে আমরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেব, তখন মনে হবে আমরা একে অপরের অনুপ্রেরণা।’


​সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘মা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তার চেয়ে বড় আর কী থাকতে পারে? এমপি দিপু ভূইয়া আজ আমাদের কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি আমাদের সন্তানদের বিপদের বন্ধু। এই মানুষের কল্যাণকামী হৃদয়ের ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’

​মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর এই জনহিতকর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দাপট নয়—রাজনীতি মানে মানুষের হৃদয়ের খুব কাছে গিয়ে ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতিটি স্বপ্নকে নিজের করে নিয়েছেন। তার এই স্নেহের ছায়ায় আজ মুড়াপাড়া কলেজের পরীক্ষার্থীরা নির্ভয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, চোখে তাদের আগামীর উজ্জ্বল আকাশ। দিপু ভূইয়ার এই মমতা রূপগঞ্জের মাটিকে করেছে ঋণী, আর শিক্ষার্থীদের করেছে আজন্ম কৃতজ্ঞ।

নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি, আর ফিরলেন না পারভেজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি, আর ফিরলেন না পারভেজ
মো. পারভেজ

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নিখোঁজ হওয়া রোগী মো. পারভেজ (৪৭) মারা গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সমবেদনা জানানো হয়েছে। পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামা শহীদুল্লাহ আহমদ।

মৃত পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

শহিদুল্লাহ আহম্মদ জানান, পারভেজকে ১১ জুন ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২০ জুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তাকে নিচে রেখে ফাইল নিয়ে আমি উপর তলায় যাই। এরপর এসে তাকে আর পাইনি। গলায় ক্যান্সারের কারণে সে কথা বলতে পারতো না। ৫ দিন সেখানে অপেক্ষা করেও তাকে খুঁজে পাইনি। পরে তার সন্ধানে ২১ জুন বনানী থানায় জিডি করেছি। বুধবার (১ জুলাই) তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া যায়।

হুইপের পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাস সূত্র জানায়, পারভেজের সংসারে স্ত্রী ৩ মেয়ে ও ৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারভেজের রোগ ও অর্থাভাবের কথা জানতে পেরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তার চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। চিকিৎসা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে হুইপের অধীনস্থ একজন সহকর্মীকেও ট্যাগ করে রাখা হয়। চিকিৎসাও চলছিল।

স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করা হয়, যেদিন পারভেজকে কেমোথেরাপি দেওয়া হবে সেদিন কোনো এক অজানা কারণে (কেমোথেরাপির কষ্টের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে) কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর হাসপাতাল বা আশেপাশে পাওয়া যায়নি। অবশেষ তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া গেছে। মরণব্যাধি ক্যান্সার তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় হুইপ বনানী থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে হুইপের লোকজন অ্যাম্বুলেন্স করে তার মরদেহ নিয়ে যায় কমলনগরের চরবসু গ্রামে।

পারভেজের প্রতিবেশী লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী রিদোয়ান হোসেন ফয়সাল বলেন, রাজধানীর আফতাবনগর গেটের সামনে পারভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে লোকজন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। গলায় ক্যান্সার হওয়ার কারণে তিনি খেতে পারতো না এবং কথা বলতেও পারতো না। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। রাতেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।