• ই-পেপার

আগৈলঝাড়ায় রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

চিলমারী

ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস, নদপারে আতঙ্ক

ধস ছাড়াও ১০ স্থানে ফাটল নদের পানির চাপ অব্যাহত

রোকনুজ্জামান মানু, আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি (কুড়িগ্রাম)
ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস, নদপারে আতঙ্ক
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধের ধসে পড়া স্থানে জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবো। বৃহস্পতিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারো সিমেন্ট কংক্রিট (সিসি)-এর ব্লক ধসে গেছে।  বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ‌্যার পর থেকে হঠাৎ উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীররক্ষা বাঁধটির অন্তত ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।

একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে  ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু তোলা এবং ভেজা বালুভর্তি ভারী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।

জানা গে‌ছে, চিলমারী উপ‌জেলা রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীররক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সাতটি স্থানে বাঁধ কেটে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এসব সড়ক নির্মাণে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ব্যবহার করা হয়।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার  কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়বো।’

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধ ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হবে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষার জন্য চার কিলোমিটারজুড়ে সিসি ব্লক বসিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। 

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গতকাল (বুধবার) এই বাঁধের ৩০ থেকে ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ফেলার জন্য ছয় হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। 

এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোছা. শাহিদা আক্তার দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আলমনগর মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে তাকে নাটোরের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, অর্থ ঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ছয় লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম গোলাম মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ রায়হান ফেরদৌস, এএসআই মো. নাহিদ হাসানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে রংপুর মহানগরীর আলমনগর মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন থেকে কেউই পালিয়ে থাকতে পারে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।’

কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় বগুড়ায় পরীক্ষা দেওয়া হলো না ১০ শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় বগুড়ায় পরীক্ষা দেওয়া হলো না ১০ শিক্ষার্থীর
বগুড়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলেজের সামনে এসে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করেন প্রতারণার শিকার ১০ শিক্ষার্থী।

বগুড়ায় প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র না পাওয়ায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকেই কলেজের সামনে এসে উপস্থিত হয় প্রতারণার শিকার ১০ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জোরালো অভিযোগ উঠেছে কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে। অবস্থা বেগতিক অনুমান করে বুধবার (১ জুলাই) বিকেল থেকেই পলাতক রয়েছেন সাব্বির। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্র জানিয়েছে, ফরম পুরণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার করে টাকা নেন। গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র বিতরণ করা হলেও ঐ ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাগজপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটরের মেবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পলাতক থাকায় কোনরকম যোগাযোগ করা যায়নি তার সঙ্গে। বৃহস্পতিবার যথারীতি পূর্ব নির্ধিারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় শিক্ষার্থী ও ভূক্তভোগি অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও একজনমাত্র কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হাসর জানান, ফরম পূরণের সময় পার হয়ে যাওয়ায় তারা চিন্তিত ছিলো। তখন শাওন নিজ থেকেই স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং ৪ হাজার টাকা নেয়। পরে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র চাইলে আর একটু সময় লাগবে বলতো। এমনকি সে এই কাজের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান করছেন, কৌশলে এমন ভিডিও পাঠিয়ে তাদেরকে আশ^স্থ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বুধবার রাত থেকে তার ফোন বন্ধ।

অপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো.সম্রাট সরকার জানান, শাওন আমাদের বলেছিল, সে কলেজের স্টাফ ও স্যারদের বলে সব ব্যবস্থা করে দেবে, সেই বিশ্বাসে তারা শাওনকে টাকা দিই। কিন্তু সে শুধু আজকে-কালকে বলে আমাদেরকে ঘুরাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে কলেজে এসে যখন প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে জানাই, স্যার বলেন এখন আর কিছু করার নেই। তাদের একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল, শাওন এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছে ভূক্তভোগি শিক্ষার্থীরা।

মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছর তার কলেজ থেকে পৃথক ৩ টি বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষা দিতে না পারা ১০ শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বগুড়া জেলায় সর্বমোট ৩৪ কেন্দ্রে মোট ২৭ হাজার ২শ’ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এরমধ্যে ১৪ হাজার ২৫২ জন ছাত্র এবং ১২ হাজার ৯৪৮ জন ছাত্রী। সমমনা আলিম পরীক্ষায় সর্বমোট ১৪ টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৬৭৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৬ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ২০২ জন ছাত্রী। এছাড়া সর্বমোট ১৫ কেন্দ্রে বিএমটি’র (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজি) পরীক্ষার্থী সংখ্যা রয়েছে ৩ হাজার ৮২৪ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ৭৪৭ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ৭৯ জন ছাত্রী।

নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীর ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। 

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষার পর ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। সেখানে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে দুটি কক্ষের অন্তত শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের বাংলা প্রথমপত্রের ‘খ’ সেট ১২১ কোডের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এসে উত্তর মিলাতে গিয়ে ভুল দেখতে পায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও ভালে ফলাফল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা।

মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি বুঝতে পারিনি। বাড়িতে এসে উত্তর মিলাতে গিয়ে দেখি পুরোনো প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা এখন ভালো ফলাফল নিয়ে চিন্তিত।

কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণে এমনটি ঘটেছে। বিষয়টির সমাধানের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কে‌ন্দ্রে আসার আগে যে ধাপগুলো আছে, সেই হিসেবে এক পরীক্ষার প্রশ্ন আরেক পরীক্ষায় আসা অনেকটা অসম্ভব বলা যায়। এক্ষে‌ত্রে দা‌য়ি‌ত্বে থাকা কলেজের শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।