প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সরকারি আনুষ্ঠানিকতা বা চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন প্রজন্মের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সাংস্কৃতিক উৎসব, প্রকাশনা, নাট্যোৎসব এবং ডিজিটাল সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নজরুলের জীবন ও কর্মের সম্পর্ক আরো গভীর করতে জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচিতে নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের ভার্চুয়ালি যুক্ত রাখার বিষয়টিকে অধিক যৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন।
আরো পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর অত্যন্ত সফল : ইয়াও ওয়েন
প্রধানমন্ত্রী জানান, কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বহুভাষিক অনুবাদ ও গবেষণার মাধ্যমে নজরুলের মানবিক বার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনায় কাজী নজরুল ইসলাম আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের মন।” ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।