কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারো সিমেন্ট কংক্রিট (সিসি)-এর ব্লক ধসে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীররক্ষা বাঁধটির অন্তত ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।
একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু তোলা এবং ভেজা বালুভর্তি ভারী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চিলমারী উপজেলা রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীররক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সাতটি স্থানে বাঁধ কেটে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এসব সড়ক নির্মাণে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ব্যবহার করা হয়।
কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়বো।’
একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধ ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হবে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষার জন্য চার কিলোমিটারজুড়ে সিসি ব্লক বসিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গতকাল (বুধবার) এই বাঁধের ৩০ থেকে ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ফেলার জন্য ছয় হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে।