• ই-পেপার

নাফ নদ ও সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার, ড্রোনে নজরদারি বৃদ্ধি

সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ সুব্রত সাহা পেশায় চিকিৎসক। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে। তারা চার বন্ধু মিলে ঢাকা থেকে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখতে এসেছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বিজিবির ক্যাম্পের সামনে গোসলে নামেন চার পর্যটকের তিনজন। নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতের মধ্যে চলে যান তারা। তাদের দুজন তীরে উঠতে পারলেও সুব্রত পানির নিচে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধারে নেমেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলাগঞ্জ টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করছে।’


 

রঙ্গনে রঙ্গিন উঠান, এক গাছে শতাধিক ফুল

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রঙ্গনে রঙ্গিন উঠান, এক গাছে শতাধিক ফুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামে একটি রঙ্গন গাছে ফুটেছে শতাধিক ফুলের থোকা।

ফুলের গন্ধটা বেশ মৃদু। উজ্জল লাল, কমলা, হলুদ, গোলাপী আর সাদা রঙের এ ফুলে চোখ জুড়ায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য্যটা বাড়িয়ে দেয়। ফুলের একেকটি থোকা দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সতেজ তাকে। এমনিতে সারাবছর ফুটলেও মে থেকে সেপ্টেম্বর নাগাদ বেশি ফুটে।

লাল রঙ্গনে রঙ্গিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের বৃক্ষপ্রেমী ও সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহম্মেদ খানের বাড়ি। তার একটি রঙ্গন গাছে ফুটেছে শতাধিক ফুলের থোকা। সাধারণত একটি গাছে ১০০ থোকা হয় না।

ইকবাল আহম্মেদ খান জানিয়েছেন, আমার বাড়ির উঠানে রঙ্গন ফুলের দু’টি গাছ আছে। এর মধ্যে একটির বয়স ২২ বছর। দিন যত যায় এ গাছটিতে ফুলের সংখ্যা বাড়ে। এবার ১২৫টির বেশি ফুল রয়েছে গাছটিতে। সাধারনত এত বেশি রঙ্গন ফুটে না। তবে সব কিছু নির্ভর করে যত্নের উপর।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি, প্রতিটি ছোট রঙ্গনে চারটি করে পাপড়ি থাকে। রঙ্গন ফুটে থোকায় থোকায়। একেকটি থোকায় ২০ থেকে ৫০টির মতো ফুল থাকে। একেকটি থোকা প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সতেজ ও রঙিন থাকে। এ গাছ রোপণে পর্যাপ্ত রোদ নিশ্চিত করতে হয়।

রঙ্গন হলো একটি চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের বাগান ও শোভাবর্ধনে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই গাছ সাধারনত চার থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সারাবিশ্বে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতি রয়েছে। দৈনিক ৬-৭ ঘন্টা রোদ পায় এমন স্থানে গাছটি ভালো জন্মে। এর ওষুধি গুনাগুণ রয়েছে।

চিলমারী

ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস, নদপারে আতঙ্ক

ধস ছাড়াও ১০ স্থানে ফাটল নদের পানির চাপ অব্যাহত

রোকনুজ্জামান মানু, আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি (কুড়িগ্রাম)
ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস, নদপারে আতঙ্ক
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধের ধসে পড়া স্থানে জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবো। বৃহস্পতিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারো সিমেন্ট কংক্রিট (সিসি)-এর ব্লক ধসে গেছে।  বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ‌্যার পর থেকে হঠাৎ উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীররক্ষা বাঁধটির অন্তত ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়ে।

একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে  ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু তোলা এবং ভেজা বালুভর্তি ভারী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।

জানা গে‌ছে, চিলমারী উপ‌জেলা রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীররক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সাতটি স্থানে বাঁধ কেটে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এসব সড়ক নির্মাণে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ব্যবহার করা হয়।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার  কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়বো।’

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধ ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হবে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষার জন্য চার কিলোমিটারজুড়ে সিসি ব্লক বসিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়ে। 

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গতকাল (বুধবার) এই বাঁধের ৩০ থেকে ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ফেলার জন্য ছয় হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। 

এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোছা. শাহিদা আক্তার দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আলমনগর মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে তাকে নাটোরের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, অর্থ ঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ছয় লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম গোলাম মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ রায়হান ফেরদৌস, এএসআই মো. নাহিদ হাসানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে রংপুর মহানগরীর আলমনগর মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন থেকে কেউই পালিয়ে থাকতে পারে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।’