• ই-পেপার

বকশীগঞ্জে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটে ইউপি চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে ইউপি চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর মাদক সেবন করছেন।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীর মাদক সেবনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত তিনটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া গেছে। ভিডিও পোস্টের নিচে স্থানীয় অনেকে মন্তব্য করেছেন, নিন্দা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে এসব ভিডিও ছড়াতে শুরু করলেও এগুলো কয়েকদিন আগের। বুধবার প্রথম একটি ভিডিও পোস্ট করেন ফয়জুল ইসলাম ফয়জুল। মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সংখ্য মানুষ পোস্ট করে সমালোচনা করতে থাকেন। পরবর্তীসময়ে মাদক সেবনের আরো একাধিক ভিডিও পোস্ট করেন একাধিক জন। এর মধ্যে তিনটি ভিডিও কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। সেগুলোর একটি ৫ মিনিটে, একটি ২৯ সেকেন্ডের এবং একটি ৪৬ সেকেন্ডের।

ফয়জুল ইসলাম ফয়জুল নামের এক আইডি থেকে করা পোস্টে ভিডিওর সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘জৈন্তাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমাকে বাবাখাওয়া শিখিয়েছে। এখন আমার বউয়ের সঙ্গে লিংক করে আমাকে আলাদা করে রেখেছে। আমি তিনটা বাচ্চা নিয়ে অসহায় আছি। আমি মানবজাতির কাছে বিচার চাইলাম’

এসব ভিডিও চিত্রে স্থানীয় কয়েকজন সনাক্ত করেছেন, জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের সারিঘাট ঢুপি গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম ফজলুর ঘরে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে ইয়াবা সেবন করছেন। ভিডিওতে দেখা যায় ফয়জুল ইসলাম আগুন দিয়ে ইন্তাজকে সেবনে সহায়তা করতে। পোস্টের নিচে শিমুল আহমদ নামে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য লিখেছেন, ‘নাউজুবিল্লাহ।’ আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ইমনরে কইছিল হে গাঁজাকুর, এখন দেখি হে বাবাকুর’।

ইন্তাজ আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। তবে সারিঘাট ঢুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম ফজলুর ঘনিষ্ঠ একজনের দাবি, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী নিয়মিত তার ঘরে গিয়ে মাদক সেবন করতেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ প্রসঙ্গে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানান।

সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।’ খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সিলেটে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার চারখাই এলাকায় বিআরটিসি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে কালাই মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের চারখাই এলাকার কাঠলিপুল সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কালাই মিয়া কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কালাই মিয়ার মৃত্যু হয় এবং আরো দুজন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের চারখাই এলাকায় বিআরটিসি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ সুব্রত সাহা পেশায় চিকিৎসক। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে। তারা চার বন্ধু মিলে ঢাকা থেকে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখতে এসেছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বিজিবির ক্যাম্পের সামনে গোসলে নামেন চার পর্যটকের তিনজন। নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতের মধ্যে চলে যান তারা। তাদের দুজন তীরে উঠতে পারলেও সুব্রত পানির নিচে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধারে নেমেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলাগঞ্জ টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করছে।’


 

রঙ্গনে রঙিন উঠান, এক গাছে শতাধিক ফুল

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রঙ্গনে রঙিন উঠান, এক গাছে শতাধিক ফুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামে একটি রঙ্গন গাছে ফুটেছে শতাধিক ফুলের থোকা।

ফুলের গন্ধটা বেশ মৃদু। উজ্জ্বল লাল, কমলা, হলুদ, গোলাপি আর সাদা রঙের এ ফুলে চোখ জুড়ায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যটা বাড়িয়ে দেয়। ফুলের একেকটি থোকা দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সতেজ তাকে। এমনিতে সারা বছর ফুটলেও মে থেকে সেপ্টেম্বর নাগাদ বেশি ফুটে।

লাল রঙ্গনে রঙিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের বৃক্ষপ্রেমী ও সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহম্মেদ খানের বাড়ি। তার একটি রঙ্গন গাছে ফুটেছে শতাধিক ফুলের থোকা। সাধারণত একটি গাছে ১০০ থোকা হয় না।

ইকবাল আহম্মেদ খান বলেন, ‘আমার বাড়ির উঠানে রঙ্গন ফুলের দুটি গাছ আছে। এর মধ্যে একটির বয়স ২২ বছর। দিন যত যায় এ গাছটিতে ফুলের সংখ্যা বাড়ে। এবার ১২৫টির বেশি ফুল রয়েছে গাছটিতে। সাধারণত এত বেশি রঙ্গন ফুটে না। তবে সব কিছু নির্ভর করে যত্নের ওপর।’

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ছোট রঙ্গনে চারটি করে পাপড়ি থাকে। রঙ্গন ফুটে থোকায় থোকায়। একেকটি থোকায় ২০ থেকে ৫০টির মতো ফুল থাকে। একেকটি থোকা প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সতেজ ও রঙিন থাকে। এ গাছ রোপণে পর্যাপ্ত রোদ নিশ্চিত করতে হয়।

রঙ্গন হলো একটি চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাগান ও শোভাবর্ধনে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই গাছ সাধারণত চার থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সারা বিশ্বে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতি রয়েছে। দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা রোদ পায়, এমন স্থানে গাছটি ভালো জন্মে। এর ওষুধি গুণগুণ রয়েছে।