বগুড়ার সোনাতলায় জোড়গাছা ইউনিয়নের নিমেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ৪ বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও আজও তা অপসারণ করা হয়নি। ফলে যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে নিমেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এলজিইডি একটি ভবন নির্মাণ করে। ভবনটি নির্মাণের মাত্র ৩২ বছরের মাথায় ওই ভবনের ছাদের প্লাস্টার ধ্বসে পড়ছে। এমনকি বৃষ্টি এলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার জন্য ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্র এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিল করেন। এর পরপরই ওই বিভাগ ভবনটি যাচাই করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বর্তমানে ওই ভবনের দরজা-জানালা নেই। স্কুল ছুটির পর পুরো স্কুল ক্যাম্পাসটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
এছাড়াও সন্ধ্যার পর ওই পরিত্যক্ত ভবনে নেশাখোর ও জুয়াড়ুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। স্কুল সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের পরিত্যক্ত শ্রেণিকক্ষে খেলাধুলায় মেতে ওঠে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের পাঠদানের জন্য ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০২২ সালে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট পূর্ব-পশ্চিম দক্ষিণ দুয়ারী ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও আজ অবধি তা অপসারণ করেনি। ফলে তৈরি হয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বারবার আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল হয়নি। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনায়েতুর রশীদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘নিভৃত পল্লী এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এলজিইডিকে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তিনি অত্র উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




