• ই-পেপার

কলেজছাত্র নয়ন হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র মানিক জেলহাজতে

নিখোঁজের ৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরল কিশোরী

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৩ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরল কিশোরী
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ এক কিশোরী তিন দিন পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় আব্দুলপুর রেলস্টেশন এলাকায় ১৪-১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা লালপুর থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে হেফাজতে রাখে।

প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানা না গেলেও পরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার নাম রুমা খাতুন (১৪) বলে শনাক্ত করা হয়। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভুলবশত ট্রেনে উঠে সে আব্দুলপুর রেলস্টেশনে নেমে পড়ে।

পরবর্তীতে লালপুর থানা পুলিশের যোগাযোগের মাধ্যমে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তার ভাই মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন থানায় এসে উপস্থিত হন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপস্থিতিতে কিশোরীকে তার ভাইয়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজটি করেছি। কিশোরীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।

গৌরীপুরে পিকআপ চালক হত্যা : বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
গৌরীপুরে পিকআপ চালক হত্যা : বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সোয়েব মুন্সি। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপ চালক ও উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়া (৪০) হত্যার অভিযোগে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত নেতা সোয়েব মুন্সি (টেরা সোয়েব)সহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের সতিষা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, গুরুতর আহত মানিককে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আগে অস্ত্রের মুখে তাকে দিয়ে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’—এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণে বাধ্য করা হয়। পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুলাই ভোরে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুশ ইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ভারতে ফেরত পাঠাল বিজিবি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
পুশ ইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ভারতে ফেরত পাঠাল বিজিবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

৫২ বিজিবি বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে জুড়ীর কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী এবং এক শিশু রয়েছে।

আটকের পর তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে বিজিবি। তবে কেউই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে অনুপ্রবেশের সুযোগ না দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের বিষয়ে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

এ ঘটনার পর জুড়ী সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

যশোরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার অভিযোগে শহিদুল শেখ (১৮) নামের এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল শেখ উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকার আদিল শেখ ও লাভলী বেগমের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, মাদক সেবনের পর মাতলামি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগের ভিত্তিতে রেলবস্তি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শহিদুলের কাছ থেকে এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।