• ই-পেপার

সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা, পাঠানো হয়েছে চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। বুধবার (১৭ জুন)  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।  

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারির প্রশংসা করেন এবং উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশে অধিকতর দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং এ লক্ষ্যে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টা ২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার, সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার, সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জিটুজি (গভমেন্ট টু গভমেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০ কম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তেলের দাম পড়বে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার বা (বাংলাদেশি ২০ হাজার কোটি টাকার মতো)। এই তেল কেনায় সমঝোতা করতে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি দল।

সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, কম দামে তেল কেনায় সমঝোতা করতে এবারই প্রথম কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছেন। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানসহ মন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। 

বিপিসির একটি সূত্র জানায়, বছরে ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় দরপত্রের মাধ্যমে। বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সমঝোতা করে কেনা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার জন্য ১০ দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসির চুক্তি আছে। তার আওতায় ওইসব দেশের সরকারি-বেসরকারি কম্পানি বছরের জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর দুই ভাগে তেল সরবরাহ করে। 

সূত্রটি আরো জানায়, এবারের সমঝোতায় যে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সমঝোতা হবে, তাতে অংশ নেবে-ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি ও কিউ ট্রেডিং এবং পেটকো মালয়েশিয়া।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জিটুজি ভিত্তিতে তেল কেনার প্রক্রিয়ায় তেলের দাম নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না। প্ল্যার্টসের দামের ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি ওই তেলের দাম পরিশোধ করবে। জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমঝোতা হবে প্রিমিয়াম বা জাহাজ ও ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে। আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ টনের পরিশোধিত তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সম্পন্ন করেছে বিপিসি। এতে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম হবে ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনা করে ওই প্রিমিয়াম চেয়েছে তেল সরবরাহকারীরা। আগামী শুক্রবার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেই প্রিমিয়াম অনেক কমে আসবে বলে মনে করছে বিপিসির কর্মকর্তারা। 

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্বস্তি ফিরছে। মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধকালীন ৩০ হাজার টনের পরিশোধিত তেল কিনতে সরকারকে দিতে হয়েছিল ৫ কোটি ডলার। এখন সেটি সাড়ে তিন কোটি ডলারে নেমে এসেছে। সবশেষ প্ল্যার্টস ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি এখন ডিজেল কিনছে প্রতি লিটার ১৬৩ টাকায়। এর মধ্যে এনবিআরের আমদানি শুল্ক আছে ৩৬ টাকা।

দেশে ১৪ জুন পর্যন্ত অকটেন ৫১ হাজার ৭৮ টন, পেট্রোল ২৮ হাজার ৮৩২ টন, জেট ফুয়েল ৫২ হাজার ৯০৪ টন, ডিজেল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন এবং ফার্নেস অয়েল আছে ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন। এই তেল দিয়ে ৩২ দিনের বেশি চাহিদা মেটানো যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডা. শফিকুর রহমান ও ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস ও মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার (দোভাষী) মাহফুজুল হক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিনিময়, মেডিক্যাল টুরিজম এবং মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ইরান সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সাক্ষাতের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সাফল্য এবং ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত তাকে বিশেষ অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের সকল নাগরিকের জন্য গভীর দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন।

যুদ্ধ বিরতি ত্বরান্বিত করার স্বার্থে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, এই শান্তি চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং ইরান আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আলোচনাকালে উভয়পক্ষই ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন ও ঢাকা-তেহরান সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা, পাঠানো হয়েছে চিঠি | কালের কণ্ঠ