• ই-পেপার

সকাল ৯টার মধ্যে ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

নবম পে স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, গেজেট প্রকাশ কবে?

অনলাইন ডেস্ক
নবম পে স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, গেজেট প্রকাশ কবে?
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

জানা গেছে, সময় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের নির্ধারিত সময় প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে। এর জন্য পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চূড়ান্ত এই রূপরেখা অনুযায়ী, একবারে পে স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মোট তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে। নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিকের শতভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলেও আলোচনা হচ্ছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিন স্তরে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

এদিকে, নতুন বেতন কাঠামোতে কেবল মূল বেতন নয়, বরং শিক্ষা, টিফিন ও বৈশাখী ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বর্তমানের ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

দেশে ফিরলেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি, মারা গেছেন ৫১

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরলেন ৫৫ হাজার ১৩৩ হাজি, মারা গেছেন ৫১

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫০ হাজার ৮২০ জন।

এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫১ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ১৪ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৬৫ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৯ হাজার ৬৮৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৩ হাজার ৮০৩ জন হাজি।
হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৩১ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৬১টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৯টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৪২৭টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৮১০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মেধাপাচারকে ‘মেধা প্রবাহে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা সরকারের

বাসস
মেধাপাচারকে ‘মেধা প্রবাহে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা সরকারের

উচ্চশিক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ‘মেধা পাচার’ (ব্রেইন ড্রেন) চ্যালেঞ্জকে ‘মেধা আবর্তন’ (ব্রেইন সার্কুলেশন)-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল—বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের মেধা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা।

এ পরিকল্পনার আওতায় সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট ট্রান্সফার পদ্ধতি, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সামার স্কুল, ভিজিটিং স্কলার স্কিম এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগ চালু করবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ না ছেড়েই বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাদার নেটওয়ার্কের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। 

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মেধা পাচারকে মেধা আবর্তনে রূপান্তর করতে কাজ করছি।’ তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

বাজেট বক্তৃতায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশীয় গবেষণা কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে আরো বেশি সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকীকরণ প্রচেষ্টার পাশাপাশি, সরকার দেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি যোগ্যতার সমমান মানদণ্ডের বাস্তবায়ন জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা থেকে শুরু করে মাদরাসা, কারিগরি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সকল স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, পরিবেশগত সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন ও বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

বাজেটে মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে ডিজিটাল লার্নিং টুলস এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।  

শিক্ষকদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং উন্নত কল্যাণমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।  

যুব উন্নয়নকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের শিশু ও তরুণরাই দেশের আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির মূল শক্তি। কোনো পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন প্রতিভা বিকশিত হতে বাধা না পায়, তেমন একটি পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা কেবল নিজেদের ভবিষ্যৎই গড়বে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, উদ্ভাবন বাড়াবে এবং সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেবে।

যুব-নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক রূপান্তর ও জাতীয় অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, তারা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করবে না। বরং নিজেরাই সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আগামী অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন, যার মোট পরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এর আগে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ১০ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছ, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। 

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।