সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নান বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও-) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও-) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষায়িত বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এখানে যারা রয়েছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে। উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে, আমার এই মন্ত্রী মহোদয়রা যদি একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। পিছিয়ে পড়া জনপদকে এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করবো প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও সেভাবে গুরুত্ব দেবেন।’
এসময় সংসদে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, নানার বাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’
গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার প্রশ্ন করেন ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে?’। জবাবে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’
আক্তারুজ্জামান আরো বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি ৪৭ বছর পর ওই এলাকা থেকে এই সংসদে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ছিলাম গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে, আমার এখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে কলঙ্কিত করেছিলেন এই সংসদকে। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই। সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে, অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যে বিভিন্ন বিভাগে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক, আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাব উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’
তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন, আর জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনো যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, তারপরও সেটিই ব্যবহার করছি।’







