• ই-পেপার

মাদক মামলার বিচারে হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

হাওর ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা বাড়ছে। ফলে শুধু দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে আগাম প্রস্তুতি, পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রম এবং জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘হাওর বেসিন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক পারিবারিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ (হাউজহোল্ড ইকোনমি অ্যানালাইসিস-এইচইএ) প্রতিবেদন’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ), এফএও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংগঠন, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু একটি গবেষণা দলিল নয়, বরং ঝুঁকি ও বিপদাপন্নতা বোঝা, আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক একটি প্রমাণভিত্তিক তথ্যভান্ডার।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধস, অতিবৃষ্টি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস দিনমজুরি হলেও তাদের খাদ্যের বড় অংশ বাজার থেকে কিনতে হয়। ফলে দুর্যোগের সময় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নারীর অর্থনৈতিক অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় অঞ্চলে অতি দরিদ্র পরিবারের মোট আয়ের প্রায় ৮ দশমিক ৬ থেকে ৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে। তবে দুর্যোগের সময় এই আয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তাই নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই বোরো ধান কাটার মৌসুমে আঘাত হানে, ফলে বছরের প্রধান ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। একইভাবে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও অতিবৃষ্টি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি বাজার ও সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়।

ভূমিমন্ত্রী জানান, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দখল ও দূষণ রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে দখল, ভরাট, দূষণ ও প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নদী, খাল, বিল, হাওর ও অন্যান্য জলমহাল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো পরিবেশ ও লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব রক্ষায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ভূমিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এটি ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নানা বাড়ির দিকে নজর দিতে বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নানা বাড়ির দিকে নজর দিতে বললেন স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নান বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও-) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও-) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষায়িত বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এখানে যারা রয়েছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে। উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে, আমার এই মন্ত্রী মহোদয়রা যদি একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। পিছিয়ে পড়া জনপদকে এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করবো প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও সেভাবে গুরুত্ব দেবেন।’

এসময় সংসদে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, নানার বাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’

গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার প্রশ্ন করেন ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে?’। জবাবে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’

আক্তারুজ্জামান আরো বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি ৪৭ বছর পর ওই এলাকা থেকে এই সংসদে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ছিলাম গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে, আমার এখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে কলঙ্কিত করেছিলেন এই সংসদকে। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই। সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে, অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যে বিভিন্ন বিভাগে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক, আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাব উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’ 

তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন, আর জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনো যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, তারপরও সেটিই ব্যবহার করছি।’

বাসসের সাবেক এমডি মাহবুব মোর্শেদকে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসসের সাবেক এমডি মাহবুব মোর্শেদকে দুদকে তলব
মাহবুব মোর্শেদ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তার বক্তব্য শুনতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে তাকে দলব করেছে দুদক।

আজ বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সই করা নোটিশে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে মাহবুব মোর্শেদকে।

এ সময় তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের কপি এবং বক্তব্য-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

আপাতত বিভাগীয় ৫ সেন্টারে মিলবে ভারতীয় ভিসা, বাড়বে পরিধি

অনলাইন ডেস্ক
আপাতত বিভাগীয় ৫ সেন্টারে মিলবে ভারতীয় ভিসা, বাড়বে পরিধি
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করেছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী—এই পাঁচটি কেন্দ্র থেকে  ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসাকেন্দ্রেও এ সেবা চালু করা হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রমণ সহজ করতে ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসার পাশাপাশি সাধারণ ভ্রমণকারীরাও আবার ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণরূপে লুণ্ঠিত ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও (আইভ্যাক) হামলার মুখে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত হুমকি এবং হাইকমিশনের স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র হামলার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারী অনেকেই গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের কথা বিবেচনায় রেখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীতে ভিসা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারত প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়া অন্য সব ধরনের দেড় হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করছে।