• ই-পেপার

রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের বিবৃতি

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের একজন আস্থাভাজন প্রতিনিধিকে অবিলম্বে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের পর সেই আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে সই করেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, ড. জোবাইদা নাসরীন, পাভেল পার্থ, সালমা আলী, কাজল দেবনাথ, রেজাউল করিম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ মহল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের প্রতি যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক ভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়।

তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে বর্তমান শূন্যতা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ইতিবাচক নয়।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তাদের আস্থাভাজন একজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত।

বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে উপজাতীয়দের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে উপমন্ত্রী করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত ছিল।

গরিবের ১০০ টাকাই অর্থনীতি সচল রাখে : সংসদে রেজা কিবরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
গরিবের ১০০ টাকাই অর্থনীতি সচল রাখে : সংসদে রেজা কিবরিয়া

কোটিপতিদের হাজার টাকা দিলেও লাভ নেই, গরিবের ১০০ টাকাই অর্থনীতি সচল রাখে বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, আপনি একজন কোটিপতিকে যদি ১০ হাজার টাকা দেন, সে হয়তো খরচই করবে না- এটা আমাদের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু গরিবরা ১ হাজার টাকা কি, ১০০ টাকা পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যয় করে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই কোটিপতিদের তোষণ বন্ধ করে প্রান্তিক মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনীতিতে আয়ের সুষম বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রেজা কিবরিয়া বলেন, একজন দিনমজুরের দৈনিক আয় এবং বাজারে সবচেয়ে সস্তা চালের দামের অনুপাত দেখলেই সাধারণ মানুষের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। জনবান্ধব সরকারের উচিত নিয়মিত এ সূচকের দিকে নজর রাখা।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থ দিয়ে শুধু বড় বড় শপিং মল বা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগকে উৎপাদনমুখী শিল্প ও কারখানা স্থাপনের দিকে নিতে হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছাবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ৫ শতাংশ সুদ দিলেও ব্যাবসায়িক ঋণে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। এটি ব্যাংকিং খাতের অদক্ষতার প্রতিফলন।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সমালোচনা করে রেজা কিবরিয়া বলেন, বিগত ১৫ বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় কখনো লক্ষ্যমাত্রার ৮০ থেকে ৮৪ শতাংশের বেশি হয়নি। উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরে বাজেট প্রণয়ন করায় বছর শেষে সরকারকে ব্যাংক, বেসরকারি খাত ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়।

তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : ডেপুটি স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে। ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব, যা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। গারো, হাজং, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণরা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি আরো সুদৃঢ় করতে পারে। এ ধরনের আয়োজন শুধু খেলাধুলার বিকাশই নয়, বরং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিবৃতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য
আজ শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠক। ছবি : পিএমও

বাংলাদেশ ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরো জোরদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আরো গভীর করার বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। তা ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সব ধরনের সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে।

আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সরকারি সফরে চীন যান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়ন্স ২০২৬-এর ১৭তম বার্ষিক সভা (সামার দাভোস)-এও অংশ নেন।

সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এ ছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং দুই দেশ বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছে।

সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছে। দুই দেশই মনে করে, তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

চীন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নীতির প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মনে করে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’কে আরো উন্নীত করে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলা হবে, যাতে দুই দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়।

কৌশলগত সংলাপ ও ‘২+২’ উদ্যোগ

দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সরকার, আইনসভা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়ানো হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করবে দুই দেশ।

‘এক চীন’ নীতিতে বাংলাদেশের পুনর্ব্যক্ত সমর্থন

যৌথ ঘোষণাপত্রে দুই দেশ একে অপরের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়, পৃথিবীতে একটিই চীন, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিংই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনা সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান জানিয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে।

চীন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশের জন্য শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।

দুই দেশ যৌথভাবে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংযোগ ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির নতুন নতুন সুযোগ খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা

যৌথ ঘোষণাপত্রে তিস্তা নদীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা আরো গভীর করবে।

চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে সফর, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘পিপল-টু-পিপল এক্সচেঞ্জ ইয়ার’ সফলভাবে উদযাপনের প্রশংসা করেছে দুই দেশ।

গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে। জনস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ইউনান প্রদেশসহ স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় চীনের সহযোগিতার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন

বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ ধারণা এবং তাঁর প্রস্তাবিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতিও সমর্থন দিয়েছে।

দুই দেশ আঞ্চলিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় অঞ্চলের আরও দেশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দুই দেশ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল সমুন্নত রাখা এবং ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের পুনরুত্থানের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতার কথাও যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদভিত্তিক যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে চীন।

চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে তারা সহায়ক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সফরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সরকার ও জনগণের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।