• ই-পেপার

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (২৯ জুন)

বাংলাদেশের পর ভূমিকম্পে কাঁপল ভারত-মায়ানমার সীমান্ত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের পর ভূমিকম্পে কাঁপল ভারত-মায়ানমার সীমান্ত
ফাইল ছবি

ভারত-মায়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি বাংলাদেশ সময় রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সংঘটিত হয়। ৩ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট আগে বাংলাদেশেও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এর উৎপত্তিস্থল ছিল ২৬.৮৬৭° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৫.২৬৮° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভারতের ডিব্রুগড় শহর থেকে প্রায় ৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং সোনারি শহর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, যা ভারত-মায়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের কাছাকাছি।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ২১.৫৬৯° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২.৫৩৯° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং এর গভীরতা ছিল ৪৯ কিলোমিটার।

সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানিয়েছেন, রাত ৯টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল মায়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল ৩৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

এ ভূমিকম্প শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতির খবর পায়নি অধিদপ্তর।

সকালের মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

অনলাইন ডেস্ক
সকালের মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
ফাইল ছবি

দেশের ৯ জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অন্য বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্য কয়েকটি বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে ঢাকাতেও লোডশেডিং হবে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে লিকেজ দেখা দেওয়ায় সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

তবে কোন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিবৃতিতে তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় সংকট উল্লেখ করে তিনি সংসদের মাধ্যমে জনগণ ও বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের প্রকোপও কমে আসবে।

লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার

ট্রেড লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনে, আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার
সংগৃহীত ছবি

দেশে ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যেখানে গড়ে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে, সেখানে ভবিষ্যতে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১৪ দিন। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা হবে এবং সেবাগুলোকে দ্রুত ও ডিজিটাল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ব্যবসা শুরু থেকে কার্যক্রমে যেতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। আমরা সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। লক্ষ্য হচ্ছে, একটি নতুন কম্পানি যেন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।’

তবে সব ধরনের লাইসেন্স ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার লাইসেন্সসহ কিছু ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন হয়। এজন্য এসব সেবায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

ট্রেড লাইসেন্স হবে অনলাইনে
ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সরাসরি যেতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালে আবেদন ও ফি জমা দিলেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি জমা হবে।’

এছাড়া যৌথ মূলধনি কম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক দপ্তর (আরজেএসসি), শেয়ার হস্তান্তর এবং কম্পানি অবসায়ন প্রক্রিয়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির ওপর জোর
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে মুক্তাদির বলেন, এবারের বাজেট তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বাজেটকে ‘স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা বৃদ্ধি।’ তিনি জানান, মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো গেলে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

লজিস্টিক ব্যয় কমানোর তাগিদ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের বড় ব্যবধান কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

জ্বালানি সংকটে আটকে শিল্প বিনিয়োগ
জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।

তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সার কারখানার জন্য পৃথক এলএনজি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

চামড়া ও পাটে নতুন সম্ভাবনা
চামড়া ও পাট খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ রপ্তানির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) উন্নয়নের মাধ্যমে চামড়া খাতের রপ্তানি ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

এ ছাড়া গবেষণা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাট খাতকেও আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষদিকে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাজেট ও নীতিগত সংস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।’