• ই-পেপার

৮ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

সিলেটে পৌঁছেছে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
সিলেটে পৌঁছেছে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

সিলেটে পৌঁছেছে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছায়।

এর আগে ২১ জুন সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। নিহতরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।

নিহতদের মরদেহ সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া, মরদেহগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তা যথাযথভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বাতাসের খবর কী

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বাতাসের খবর কী

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে ছিল বায়ুদূষণের কবলে। সবশেষ বায়ুরমান সূচকে শহরটির বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, ঢাকার স্কোর ১১৯। এই স্কোরে বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান সপ্তম।

এদিকে, একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৭০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। এছাড়া ১৬৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। ১৬৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। ১৫৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, ১৪৭ স্কোর নিয়ে ঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাজেটে বড় পরিবর্তন

সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২৬ পাস কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে বড় পরিবর্তন

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণের পর কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখার প্রস্তাব বাতিল করে জাতীয় সংসদে গতকাল কণ্ঠভোটে অর্থবিল-২০২৬ পাস করা হয়েছে। ১১ জুন উত্থাপন করা বাজেট ২০২৬-২৭ এর (অর্থবিল) আরো অনেক প্রস্তাব ও এ আইনের ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূক না করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা শিথিলের প্রস্তাব, ব্যক্তি পর্যায়ের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করাসহ আরো বেশ কিছু সংশোধনী এনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

অর্থবিলের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এসব সংশোধনী আনতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার দেওয়া সব সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়। এরপর গতকাল বিকালে বিলটি পাসের জন্য অর্থমন্ত্রী উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাস হওয়া অর্থবিল-২০২৬ এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলকভাবে লাগবে না টিআইএন।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত এবং রপ্তানি ও প্রবাস আয়ে অগ্রগতি সাধন এবং মানুষের উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর ভর করে আমরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নেব। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

বাজেট আলোচনার সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক ব্যয়ের এই বাজেট সংসদে আজ পাস হবে। এরপর তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে অনেক জমি প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আরও দুটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলো হলো- বেশির ভাগ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এর ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে।

চিংড়ি খাতকে সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি। দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেন। শিল্পে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল পণ্যে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম কর বাতিলেরও প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারে বিদ্যমান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান কমবে এবং কর পরিপালন বাড়বে। সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর পরিপালন সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে এসব সংশোধনী আনতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী তা সংসদে উত্থাপন করেন এবং সদস্যদের কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

কেন ইউনূসের অপশাসনের তদন্ত করা জরুরি?

অনলাইন ডেস্ক
কেন ইউনূসের অপশাসনের তদন্ত করা জরুরি?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। গত রবিবার জাতীয় সংসদে তিনি জনগণের মনের কথা বলেছেন। জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে তার বক্তব্যে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্ত হওয়া দরকার। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এ তদন্ত হতে পারে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। দেড় বছরের শাসনকালে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের অপকর্ম এবং অপশাসনের ক্ষতচিহ্ন এখন সর্বত্র।

রাজনীতি থেকে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে দেশরক্ষার কৌশল, আইন- বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কোথায় নেই ইউনূসের অপশাসনের কালো ছায়া? গভীরভাবে ইউনূসের শাসন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউনূস এবং তার সহযোগীরা যেন দেশ ধ্বংসের এক মহোৎসবে মেতেছিলেন। লুটেরা দুর্বৃত্ত ডাকাত দল যেমন একটি গ্রামে আগুন ধরিয়ে লুটপাট করে, ইউনূস গং দেড় বছরে বাংলাদেশের মাটিতে ঠিক তেমনটিই করেছে।

২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেন। দেশবাসী আশা করেছিল শান্তিতে নোবেলজয়ীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ নতুনভাবে বাঁচতে পারবে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউনূসের ভদ্রবেশী মুখোশ খুলে যায়। এ দেশের মানুষ দেখে শান্তির দূতের আড়ালে হিংস্র দানবের রূপ। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বর্তী সরকার দেড় বছরে দুটি কাজ অত্যন্ত সফলভাবে করেছে। প্রথমত দেশকে বিভক্ত করা, দ্বিতীয়ত দেশের সম্পদ লুটপাট করা।

২৪-এর ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক। দলমতনির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এই ঐক্যের শক্তি যে কী অসাধারণ জুলাই গণ অভ্যুত্থান তার প্রমাণ। ইউনূসের দায়িত্ব ছিল খুব সংক্ষিপ্ত ও সহজ। অন্তর্র্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। কিন্তু ক্ষমতা নিয়েই ড. ইউনূস বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজনের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেন। সংস্কারের নামে তিনি পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করেন রাজনৈতিক অনৈক্য, অবিশ্বাস। এর একমাত্র কারণ ছিল ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা।

সংস্কারের নামে ইউনূস সরকার শুরু করেছিল নাটক। যে নাটক দেশকে ক্ষতবিক্ষত করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঠিকভাবেই জাতীয় সংসদে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে সবাই মিলে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। সংস্কার নাটকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি তিনি অন্যত্র সরিয়ে নেন। এরপর ইউনূস সরকার এবং তাঁর উপদেষ্টাদের লুটপাটের কাহিনি আজ সারা বিশ্ব জানে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলেছে ইউনূস আমলে ঘুষ লেনদেনের নতুন রেকর্ড হয়েছে। সুইস ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ইউনূস আমলে সেখানে টাকা রাখার রেকর্ড হয়েছে।

ইউনূসের নিজস্ব দুর্নীতির ফিরিস্তি বাংলাদেশের সব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, এনিয়ে নতুন করে কিছু লিখতে চাই না। শুধু ইউনূস একা নন আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমানসহ অধিকাংশ উপদেষ্টার একমাত্র কাজ ছিল দুর্নীতি এবং লুটপাট। দেড় বছর একজন উপদেষ্টা যখন নিজের চিকিৎসার নামে প্রায় কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আত্মসাৎ করেন তখন এই অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিকতার মান কতটা নিচে ছিল তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

অন্তর্বর্তী সরকার, কোথায় দুর্নীতি করেনি? বিচারক নিয়োগ থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়নে দেড় বছরে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। শিশুদের হামের টিকা থেকে পুলিশের পোশাক কেলেঙ্কারি, সর্বত্র ইউনূস সরকারের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট। এসব দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা যেন রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন সংজ্ঞা আমাদের সামনে হাজির করেছে। ক্ষমতায় যাওয়া মানেই দুর্নীতির লাইসেন্স পাওয়া। ক্ষমতায় যাও, দুর্নীতি কর, দেশ বেচে দাও, বিদেশে টাকা পাচার করো-তারপর জাতির বিবেক হয়ে জনগণকে জ্ঞান দাও-এটাই ছিল ইউনূস সরকারের মূলমন্ত্র।

যেকোনো দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য এটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। ইউনূস সরকার কেবল সীমাহীন দুর্নীতি এবং লুটপাট করেনি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার আইনকানুন, রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। আর এ কারণেই ইউনূস শাসনের দেড় বছরের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। আইনের শাসনের মূল ভিত্তি তিনি ভালো করেই জানেন। এখন তিনি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে। বিগত চার মাসে তিনি নিশ্চয়ই অনুভব করছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে বাধা কোথায়? ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় কী?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি মৌলিক নীতি হলো, প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। একজন অপরাধী, দুর্নীতিবাজের একমাত্র পরিচয় হলো, তিনি অপরাধী। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অংশ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার। আইনের এই সাম্যতার নীতি তখনই কার্যকর হবে যখন ড. ইউনূস এবং তার উপদেষ্টাদের মতো হোয়াইট কালার ক্রিমিনালরা আইনের আওতায় আসবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন, একটি অন্যায়ের বিচার না করলে আরেকটা অন্যায়ের বিচার করার নৈতিক অধিকার থাকে না। আইনের পরিভাষায় বলা হয়, একটি বিচারহীনতা আরও দশটি অপরাধের জন্ম দেয়। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

সাধারণ মানুষ মনে করবে ক্ষমতায় থাকলে যা খুশি তাই করা যায়, তার বিচার করা হয় না। এর ফলে নির্বাচিত সরকার সম্পর্কে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সরকারের ভিতরে অনেক সুযোগসন্ধানী মনে করবে ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা যদি এত দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যায় তাহলে আমরা একটু করলে দোষের কী?

আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ইউনূস সরকার নামে অন্তর্র্বর্তী সরকার হলেও, এটি আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে গঠিত হয়েছিল। আজকে যদি ইউনূসের অনিয়মের তদন্ত না হয় তাহলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার একই পথে হাঁটবে। ইউনূস এবং তার উপদেষ্টারা সুশীল সমাজের সফেদ পোশাকে কালি লেপ্টে দিয়েছেন। দেড় বছরের ইউনূস শাসনের পর এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সুশীল সমাজ সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়েছে। নিরীহ মানুষ এখন মনে করে সুশীল মানেই ইউনূস গংদের মতো মতলববাজ, দুর্নীতিবাজ। এ কারণেই সুশীল সমাজের ইমেজ রক্ষার জন্য হলেও ইউনূস সরকারের দেড় বছরের সব অপকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রবিবার জাতির কণ্ঠ হিসেবে ভাষণ দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে, বিএনপি জনগণের কাছে তিনটি প্রধান অঙ্গীকার করেছে নির্বাচনের আগে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা এবং রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধ। এই তিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে ইউনূস সরকারের অপকর্মের তদন্ত করতেই হবে। ইউনূস আমলে মব সন্ত্রাস, লুটপাটের মাধ্যমে আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। তাই এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগের আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। দুর্নীতি দমন করতে হলে, দেড় বছরের সীমাহীন দুর্নীতির তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশা করি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নতুন কমিশন গঠিত হবে। নতুন কমিশনের প্রথম কাজ হবে ড. ইউনূস এবং তার উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে জমাকৃত অভিযোগের তদন্ত। রাষ্ট্রীয় অপচয়েও ইউনূস সরকার ছিল শীর্ষে। ড. ইউনূসের উড়োজাহাজ ভর্তি করে প্রমোদ ভ্রমণ থেকে ধর্ম উপদেষ্টার ৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা বিল, সবই রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের প্রামাণ্যচিত্র। এসবের সুষ্ঠু তদন্ত না করলে নতুন করে অপচয়বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই সরকারকে সফল হতে হলে, ইউনূস সরকারের আমলে সব ধরনের অনিয়মের তদন্ত করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন