• ই-পেপার

ঐতিহাসিক জয়েও কানাডার বিষাদ, ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুঁকিতে পা ভাঙা তারকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফাতে অভিযোগ ইরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফাতে অভিযোগ ইরানের
ইরান জাতীয় ফুটবল দল। ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধের মাঝেও বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান। খেলছে যুদ্ধ করা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। এতে নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ইরান জাতীয় দল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরো একটি বাধার সম্মুখীন হয়েছে টিম মেলিরা। এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

ফেডারেশনের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের দুইদিন আগে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি গাড়তে চেয়েছিল ইরান। খেলার শেষে বিশ্রাম নিয়ে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করেছিল ইরান। তবে ইরানের এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

তাতে খেলার একদিন আগে পৌঁছাতে পারবে এবং খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে টিম মেল্লিদের।

তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া শর্তগুলো দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। যা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। এর ফলে আমাদের দলের কারিগরি ও কোচিং স্টাফদের পূর্বপরিকল্পিত রণকৌশল ও প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

তাই ইরানি ফুটবল ফেডারেশন ফিফার জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

স্কটিশ ফুটবলপ্রেমীদের পানীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বোস্টনের পাবগুলো

ক্রীড়া ডেস্ক
স্কটিশ ফুটবলপ্রেমীদের পানীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বোস্টনের পাবগুলো
বোস্টনের পাবে স্কটিশ সমর্থকদের লাইন। ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৮ সালের পর এবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জয়ে আত্মহারা স্কটিশ ফুটবলপ্রেমীরা। জয়ের খুশি উদযাপনে পাবগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পাব মালিকরা স্কটিশদের পানীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্কটল্যান্ডকে সমর্থন জানাতে প্রায় ১০ হাজার স্কটিশ ফুটবলপ্রেমী এসেছে বোস্টনে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে দেশ, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয়। উচ্ছ্বাস বাঁধ মানছে স্কটিশ সমর্থকদের। জাতীয় পতাকা ও সংগীত গেয়ে র‌্যালি করেছে শহরটিতে। তাঁদের এই উচ্ছ্বাসে বোস্টনের বাসিন্দাদের একাংশ বিস্মিত হলেও খুশি পাব মালিকেরা। 

বোস্টনের একটি জনপ্রিয় পাবের জেনারেল ম্যানেজার বিলি ডিকেইন বলেছেন, ৩০ বছরের বেশি ব্যবসা করছি। এমন পরিস্থিতি কখনো হয়নি। মরক্কোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে স্কটল্যান্ড দল বোস্টনে আসার পর থেকে বিয়ারের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি সামলানো গিয়েছে। এক সপ্তাহের মজুত চার দিনেই প্রায় শেষ। প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পানীয় সরবরাহ না করলে সপ্তাহের শেষে পানীয় সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, স্কটিশেরা সাধারণত পাবগুলোতে ভিড় করছেন। বোস্টনের গরমে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তাঁদের পছন্দ বিয়ার। বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই বোস্টনে বিয়ারের চাহিদা তুঙ্গে। পাবগুলোতে মজুত বিয়ার নেই বললেই চলে। চাহিদা দেখে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে বিয়ার সরবরাহের অনুরোধ করেছেন পাব মালিকেরা। চাহিদা এতটাই বেড়েছে বোতলের পাশাপাশি প্রচুর ক্যানও চলছে। বিশ্বকাপের সুবাদে হঠাৎ ব্যবসায় বৃদ্ধিতে খুশি পাব মালিকেরা।

একটি বিয়ার উৎপাদক সংস্থা জানিয়েছে, ৪ জুলাই থেকে বোস্টনে চার দিনের ছুটি থাকে। প্রতি বছর এই সময় বিয়ারের চাহিদা যা থাকে, তার চারগুণেরও বেশি বিয়ার বিক্রি হয়েছে সপ্তাহের প্রথম চার দিনে। চাহিদা সামাল দিতে উৎপাদন বাড়িয়েছে তারা। সপ্তাহের প্রথম চার দিনে ৪০০০ পিন্ট বিয়ার বিক্রি হয়েছে তাদের। উৎপাদন বাড়িয়েও ফুটবলপ্রেমীদের চাহিদা মেটানোর ব্যাপারে নিশ্চিত নয় সংস্থাটি। মনে করা হচ্ছে, দ্বিতীয় ম্যাচেও স্কটল্যান্ড জিতলে চাহিদা আরো বাড়বে। যদিও ব্যবসা বাড়ায় তারা বেজায় খুশি।

তীব্র গরমে বিশেষ ব্যবস্থায় আর্জেন্টিনার অনুশীলন

ক্রীড়া ডেস্ক
তীব্র গরমে বিশেষ ব্যবস্থায় আর্জেন্টিনার অনুশীলন
সংগৃহীত ছবি

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার। ম্যাচের পর একদিনের বিশ্রামের পর আবার নেমে পড়েছে অনুশীলনে। তবে মাঠের লড়াই উতরে গেল যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমও এখন লিওনেল মেসিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কানসাসে বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে বিশেষ ‘কুলিং ভেস্ট’ ব্যবহার করেছে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।

জানা যায়, কানসাসের ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরমে অনুশীলনে বেগ পেতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। তাই প্লেয়ারদের গায়ে দেখা যায় ফর্মুলা ওয়ানে বহুল ব্যবহৃত বিশেষ ‘কুলিং ভেস্ট’। তাদের জার্সি প্রস্তুতকারী সংস্থাই এই কুলিং ভেস্ট তৈরি করেছে। 

এই ভেস্টে থাকে একাধিক পকেট, যেখানে থাকে একধরনের ঠাণ্ডা জেল। সেটা প্লেয়ারদের শরীরের কাছাকাছি থাকায় তা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আগে এই জেলগুলোকে ঠাণ্ডা করা হয়, এর পর সেগুলো পরে নামেন প্লেয়াররা। একটা কুলিং ভেস্টের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ বুটও, যার সহজে পা-কে গরম হতে দেয় না।

তবে আর্জেন্তিনা একমাত্র দল নয়। এর আগে স্পেন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় থেকেই বিশেষ ভেস্ট ব্যবহার করছিল। সৌদি আরবের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশের প্লেয়াররাও এই বিশেষ ভেস্ট ব্যবহার করছেন।

বিশ্বকাপের ‘সেমিফাইনালে’ ইউরোপিয়ান পরাশক্তিদের ৭-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের ‘সেমিফাইনালে’ ইউরোপিয়ান পরাশক্তিদের ৭-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সাম্বা ফুটবলের জাদুতে যুগে যুগে বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়েছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। তবে যদি প্রশ্ন করা হয়, ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয় কোনটি? তাহলে সবাই জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেই দুঃস্বপ্নের ৭-১ গোলের কথা একবাক্যে বলবেন। তবে যদি প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় কোনটি?

তবে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে সাত দশকেরও বেশি সময় আগে, ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে। সেবার ঘরের মাঠে ইউরোপের পরাশক্তি সুইডেনকে ৭-১ গোল ব্যবধানে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল। সেই বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচে স্পেনকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিল সুইডিশরা।

১৯৫০ সালের ৯ জুলাই ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার দর্শকের সামনে জাদুকরী এক ফুটবল প্রদর্শনীর জন্ম দিয়েছিল স্বাগতিকরা। বর্তমান বিশ্বকাপের ফরম্যাটের হিসাবে ম্যাচটি ছিল সেমিফাইনালের সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সেবার নকআউট পদ্ধতির বদলে শীর্ষ চার দল নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফাইনাল রাউন্ডের সেই ম্যাচে সুইডিশ রক্ষণভাগকে আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস করে দেয় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ।

সেলেসাওদের এই রেকর্ড জয়ের মূল নায়ক ছিলেন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার আদেমির। সুইডেনের রক্ষণভাগের বুহ্য ভেদ করে একাই ৪টি গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচের ১৭, ৩৬, ৫২ এবং ৫৮ মিনিটে গোলগুলো করেন এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে চার গোল করার অনন্য কীর্তিও এটি।

আদেমিরের চার গোলের পাশাপাশি উইঙ্গার চিকো ৩৯ ও ৮৮ মিনিটে করেন জোড়া গোল। আর ম্যাচের ৭০ মিনিটে সুইডেনের কফিনে পেরেক ঠোকেন আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিজিনহো। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সুইডেনের পক্ষে পেনাল্টি থেকে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করেছিলেন অ্যান্ডারসন।