• ই-পেপার

গ্রুপ ‘এফ’

রানার্সআপ জাপানের বিপক্ষে ড্র করে নকআউটে সুইডেনও

ব্রাজিলের রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিপক্ষ নিশ্চিত

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিপক্ষ নিশ্চিত
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের একটি আকর্ষণীয় লড়াই নিশ্চিত হয়ে গেছে। রাউন্ড অব ৩২-এ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান।

গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ষোলো নয়, নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘এফ’-এ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে জাপান।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ধীরে শুরু করলেও পরে ছন্দে ফিরে আসে। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতিকে ৩-০ এবং স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখছে সেলেসাওরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত ফর্ম দলটির বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে জাপানও পুরো টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল উপহার দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বড় জয় এবং সুইডেনের সঙ্গে সমতা—এই ফলেই নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। দ্রুতগতির আক্রমণ ও সংগঠিত রক্ষণভাগ ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আগামী ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ। জয়ী দল জায়গা করে নেবে রাউন্ড অব ১৬-এ। 

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় গোলের নায়ক ইয়ান পল হেকার। ছবি : রয়টার্স

টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন আগেই শেষ হয়েছে তিউনেশিয়ার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা তাই নিয়মরক্ষার। সঙ্গে ছিল সান্ত্বনার জয় পাওয়ার।

সেটা যে তিউনিশিয়ার কাছে দূরের বাতি। ম্যাচ শুরু হতেই আরও স্পষ্ট হলো। কেননা শক্তি-সামর্থ্যে তাদের থেকে ঢের এগিয়ে প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। ৮ নম্বরের বিপরীতে আবার তিউনিশিয়ার র‌্যাংকিং ৪৫।

শক্তিশালী ডাচদের বিপক্ষে জিততে কিংবা ড্র করতে হলে দারুণ কিছুই করতে হতো তিউনিশিয়াকে। কিন্তু কিসের কি? কানসাস সিটিতে রেফারির কিক অফের বাঁশি শেষ হতে না হতেই নিজেদের জালে বল খুঁজে পেল। সেটিও নিজেরাই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে।

আত্মঘাতী গোলটি করেছেন তিউনিশিয়ার অধিনায়ক। নেদারল্যান্ডসের ডিফেন্ডার ডেনজেল ডামফ্রিসের নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন ইলিয়াস স্কিরি। ৪ মিনিট পর আরেকটি গোল হজম করল তারা। ৭ মিনিটে গোলটি করলেন ব্রায়ান ব্রবি। সর্বশেষ ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন সান্ডারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড।

তাতে শুরুতেই যেন তিউনিশিয়ার হারের গল্প লেখা হলো। তবে না, ৫৪ মিনিটে হেডে এক গোল কমিয়ে ম্যাচ জমানোর ইঙ্গিত দিল ফরোয়ার্ড হাজেম মাসতৌরি। তবে ওইটুকুই। পরে আরেকটি গোল হজম করে ৩-১ ব্যবধানে হেরে বাড়ির বিমান ধরার অপেক্ষায় এখন তারা। বিপরীতে ‘এফ’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটের টিকিট কাটল নেদারল্যান্ডস।

নেদারল্যান্ডসের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ান পল হেকার। তিজানি রেইন্ডর্সের কর্নার থেকে হেডে গোলটি করেন তিনি। পরে আর কোনো গোল না হলে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ডাচরা। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। বিপরীতে রানার্সআপ জাপানের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।

আজকের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস। ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চূড়ায় তারা। বিপরীতে ৫ পয়েন্ট রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে সুযোগ পেয়েছে জাপানও। তৃতীয় হয়েও নকআউটে দুদলের সঙ্গী হয়েছে সুইডেন। তাদের পয়েন্ট ৪। তৃতীয় সেরা দলের তালিকায় বর্তমানে তার শীর্ষে আছে।

কুরাসাওকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
কুরাসাওকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের ইতিহাস
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট। ছবি : রয়টার্স

ইতিহাস গড়তে আইভরি কোস্টের প্রয়োজন ছিল ১ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই হতো তাদের। ইতিহাসটা হলো— বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউটে জায়গা পাওয়া।

তবে ড্র নয়, ফিলাডেলফিয়ায় ইতিহাসটা জয় দিয়েই রাঙাল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে। দলের জন্য ঐতিহাসিক মুহুর্তে এনে দেওয়ার নায়ক জোড়া গোল করা নিকোলাস পেপে। এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১৪ টানা তিন বিশ্বকাপ খেলে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল তারা।

ইতিহাস গড়ার ম্যাচে আইভরি কোস্ট প্রথম গোলটি পায় ৭ মিনিটে। প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলে গোলটি করেন পেপে। বক্সের মধ্যে কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে না পারলে সুযোগটা কাজে লাগান ভিয়ারিয়ালের ফরোয়ার্ড। তার সেই গোলে পরে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আইভরি কোস্ট।

পিছিয়ে পড়া কুরাসাওকে সমতায় ফিরতে না দিয়ে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। গোলে অ্যাসিস্ট করেন ইব্রাহিম সানগার। পরে তার জোড়া গোলেই ইতিহাস রচিত হয় আইভরি কোস্টের।

আজকের জয়ে জার্মানির সমান ৬ পয়েন্ট হয় আইভরি কোস্টেরও। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নেয় তারা। তাদের সঙ্গী হয়েছে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা ইকুয়েডর। জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় সেরা হয়ে নকআউটে জায়গা পেয়েছে ইকুয়েডর।

জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর
ইকুয়েডরকে নকআউটের টিকিট এনে দেওয়ার গোলটি করেছেন প্লাতা (১৯ নম্বর জার্সি)। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৯ গোল দিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের বিপক্ষে জয় পাবে ইকুয়েডর এমনটা কজন বিশ্বাস করতেন। এমনকি ইকুয়েডরের অনেক ফুটবলাররাও হয়তো এমনটা ভাবেননি।

তবে তাদের হয়ে আজ বাজি ধরেছিল ওয়াল্টার নামে ওরাংওটাং এক প্রজাতি। জার্মানির বিপক্ষে আজ ইকুয়েডর জিতবে ভবিষ্যৎদ্বাণী করে বোর্নি-সুমাত্রান প্রজাতির ওরাংওটাং। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে তার করা সেই ভবিষ্যৎদ্বাণী মিলেও গেছে।

জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম জয় বিশ্বকাপের নকআউটও নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপের ৩ নম্বর দল হিসেবে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর তাই বাঁধাভাঙা উল্লাসে মাতল ইকুয়েডর। 

জার্মানির আগের দুই ম্যাচেও ভবিষ্যৎদ্বাণী করেছে ওয়াল্টার। কুরাসাও এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানরা জিতবে এমন ভবিষ্যৎদ্বাণী করেছিল ডর্টমুন্ড চিড়িয়াখানার এই ওরাংওটাংটি। সেই ভবিষ্যৎদ্বাণীও ঠিক হয়েছিল।

 

 

ইকুয়েডরের কাছে প্রথম হারের ম্যাচে দারুণ শুরু করেছিল জার্মানি। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২ মিনিটে লিড নিয়ে। বক্সের মধ্যে থেকে গোলটি করেন লিরয় সানে।

তবে সমতায় ফিরতে খুব একটা সময় নেয়নি ইকুয়েডর। ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। পরে উভয় দলই কিছু আক্রমণ সাজালেও আর গোলের দেখা না পেলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর পরেই পেনাল্টি পেয়েছিল জার্মানি। তবে ভিএআরে তা বাতিল হয়। ৪৬ মিনিটে ডি বক্সে কাই হাভার্টজ ফাউলের শিকার হওয়ার আগেই তার সতীর্থ সানে ইকুয়েডরের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে বসেন। ফলস্বরূপ মনিটরে দেখার পর নিজের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনেন রেফারি।

৬২ মিনিটে ইকুয়েডরকে লিড এনে দেওয়ার মতো এক শট নিয়েছিলেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। তবে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরাল শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় প্রতিহত করেন ম্যানুয়েল নয়ার। ৭২ মিনিটে অল্পের জন্য বল পোস্টের কাছ দিয়ে যাওয়ায় আবারও গোল হজম থেকে বেঁচে যায় তারা।

বিপরীতে ৭৬ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছেন সানে। বক্সের মধ্যে থেকে শট নিতে গিয়েও না নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় কিকটা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের হাতে দিয়ে বসলেন। 

অন্যদিকে ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে উল্লাসে মাতে ইকুয়েডর। কেভিন রদ্রিগেজের হেড থেকে গোললাইনের কাছ থেকে নয়্যারকে পরাস্ত করেন ভলি শটে গোল করা গঞ্জালো প্লাতা। তার সেই গোলেই পরে জার্মানদের বিপক্ষে প্রথমবার জয় পায় ইকুয়েডর। আগের দুই দেখায় হেরেছিল তারা।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন সর্বশেষ ম্যাচে বদলি নেমে জার্মানির নায়ক বনে যাওয়া ডেনিজ উনদাভ। কিন্তু শটটা মারলেন গোলপোস্টের বাইরের জালে। পরে আর গোল শোধ দেওয়া হয়নি জার্মানির। টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানি তাই ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

ইকুয়েডরের কাছে হারলেও গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে গেছে জার্মানি। ‘ই’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা চূড়ায়। সমান ৬ পয়েন্ট আইভরি কোস্টের হলেও গোল ব্যবধানে তারা পেছনে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে। দুই দলের সঙ্গী হয়ে নকআউটের টিকিট পেয়েছে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডর। তৃতীয় সেরাদের তালিকায় তারা বর্তমানে চূড়ায় আছে।