• ই-পেপার

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নে হতবাক পচেত্তিনো

জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে সুযোগ পাওয়ায় ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে সুযোগ পাওয়ায় ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা
জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পর জাতীয় পতাকা হাতে ইকুয়েডরের ফুটবলাররা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার অভিজ্ঞতা এর আগেও আছে ইকুয়েডরের। তবে সেটা দীর্ঘ ২০ বছর আগে। ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম এবং শেষবারই খেলে তারা। সেবার বিশ্বকাপ হয়েছিল জার্মানি।

সেই জার্মানিকে হারিয়েই নকআউটে খেলার দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরিয়েছে ইকুয়েডর। নিউইয়র্ক/নিউ জার্সিতে জয়টি এসেছে দুর্দান্ত এক কামব্যাকের গল্পে। প্রত্যাবর্তনের গল্প না লিখলে বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার স্বপ্নও তাদের ভেস্তে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা হতে দেননি ইকুয়েডরের ফুটবলাররা।

জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেশের জন্য স্মরণীয় এক মুহূর্ত এনে দিয়েছে ইকুয়েডর। আনন্দময় এক সময় উপহার দেওয়ায় দেশে এক দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া।

 

সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় দানিয়েল লিখেছেন, ‘সব সমালোচনা, অপমান এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য খেলোয়াড় এবং কোচকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা পুরো দেশের জন্য বিশাল এক আনন্দের জোয়ার বয়ে এনেছেন। এই খুশিতে আগামীকাল (শুক্রবার) দেশে ছুটি! দীর্ঘজীবী হোক ইকুয়েডর।’

জার্মানির বিপক্ষে প্রথম জয়ের শুরুটা ধাক্কায় হয়েছিল ইকুয়েডরের। কেননা দ্বিতীয় মিনিটে লিরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে সমতায় ফিরতে ৭ মিনিট সময় নেয় ইকুয়েডর। ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। আর বিরতির পর ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে ইকুয়েডরকে আনন্দে ভাসান গঞ্জালো প্লাতা। 

২-১ গোলের জয়টি কোনো বিশ্বকাপ জয়ী দলের বিপক্ষে প্রথম ইকুয়েডরের। এ জয়ে ‘ই’ গ্রুপের ৩ নম্বর দল হিসেবে নকআউটে সুযোগ পেয়েছে তারা। বিপরীতে ম্যাচ হারলেও গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ সুযোগ পেয়েছে জার্মানি। তাদের ৬ পয়েন্ট। সমান ৬ পাওয়া আইভরি কোস্ট রানার্সআপ হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার নকআউটে সুযোগ পেয়েছে।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে লিওকে বিশ্রাম দেওয়ার ভাবনা স্কালোনির

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপের শেষ ম্যাচে লিওকে বিশ্রাম দেওয়ার ভাবনা স্কালোনির

বিশ্বকাপে নিজের গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ কি গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাবেন না লিওনেল মেসি? ইতিমধ্যেই গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউটে পৌঁছে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে আগামী রবিবার সকালে জর্ডনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার শেষ গ্রুপ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে মেসিকে। নিয়মরক্ষার ম্যাচে দলের বাকিদের দেখে নিতে চাইছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

গ্রুপ পর্বে দু’টি ম্যাচ হেরে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের নকআউটের লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছে জর্দান। তাই তাদের সামনে আর্জেন্টিনাকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। 

সেই কারণেই কি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের বিশ্রাম দেবেন স্কালোনি? আর্জেন্টিনার কোচ সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। আমার মতে, সকলের সুযোগ পাওয়া উচিত। জর্দান ম্যাচে সেই সুযোগ রয়েছে। তাই সেটাই করব।’

তিনি কাকে বিশ্রাম দিতে চান, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেননি স্কালোনি। তবে জল্পনা, সেই তালিকায় মেসি রয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন মেসি। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। করেছিলেন হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পুরো ৯৫ মিনিটই খেলেছেন। একটি পেনাল্টি ফস্কালেও জোড়া গোল করেছেন।

নকআউটে তরতাজা মেসিকে প্রয়োজন স্কালোনির। আমেরিকার গরমে ফুটবলারদের খেলতে কষ্ট হচ্ছে। ফলে শারীরিক ধকল সামলানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তবে অন্য একটি জল্পনাও উঠে আসছে। মেসি যে ফর্মে রয়েছেন, তাতে জর্দানের বিরুদ্ধে খেললে আরো একটি হ্যাটট্রিক করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর গোলের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। মেসির পিছনেই রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। দুই তারকার লড়াই চলছে। সেই লড়াইয়ে আরও খানিকটা এগিয়ে যেতে পারবেন তিনি। নকআউটের ম্যাচের আগে পাঁচ দিন সময় রয়েছে। বিশ্রামের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। ফলে কোচ চাইলেও মেসি বিশ্রাম নেবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্তত প্রথমার্ধ খেলার চেষ্টা করবেন তিনি।

মেসির পরিবর্তে তরুণ স্ট্রাইকার নিকোলাস পাজকে খেলাতে পারেন স্কালোনি। জুলিয়ান আলভারেজ়, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, নিয়োনার্দো পারেদেসরাও বেশিক্ষণ থাকতে পারেন মাঠে। তাঁরা চোট সারিয়ে ফিরেছেন। ফলে তাকে ম্যাচ ফিট করতে চাইবেন স্কালোনি। আগের ম্যাচে চোট পেয়ে উঠে যাওয়া ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকোও বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তাঁর বদলে শুরু থেকে খেলতে পারেন নিকোলাস ওটামেন্ডি।

দল ঢেলে সাজানোর কথা অস্বীকার মরিনহোর

ক্রীড়া ডেস্ক
দল ঢেলে সাজানোর কথা অস্বীকার মরিনহোর

বিশ্বকাপ শুরুর দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর নাম ঘোষণা করলো রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ড্রেসিংরুমেকে ঢেলে সাজানোর একটি সংবাদ চাউর হয়। সেই সাথে বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কেও সাইন করান তিনি। তবে এরই মাঝে এলো নতুন তথ্য। রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা অস্বীকার করেছেন কোচ হোসে মরিনহো।

‘বিস্ট মোড অন’ পডকাস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরিনহো বলেছেন, দলের সেরা খেলোয়াড়রা থাকুক এবং তাদের ফর্মের উন্নতি ঘটুক। 

এদিকে লা লিগার এই জায়ান্টরা টানা দুই মৌসুম কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। কারণ দলের তারকা কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র (যার চুক্তি আগামী গ্রীষ্মে শেষ হচ্ছে) এবং জুড বেলিংহ্যাম দলকে সাফল্য এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মরিনহো বলেন, ‘আমাদের রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ে কথা বলা উচিত নয়, তবে আমি শুধু একটি ছোট বিষয় উল্লেখ করতে পারি। আমি কিছু লেখা পড়েছি যেখানে লোকেরা বলছিল; হোসে মরিনহো এখানে আসছেন এবং তিনি দলের সেরা কিছু খেলোয়াড়কে বাদ দেবেন, যাদের নাকি এই মৌসুমে কিছু সমস্যা ছিল।’

এখন আমাকে এমন একটা দল গড়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যাতে আগের মৌসুমগুলোতে তাদের যে ধরনের সমস্যা হয়েছিল, সেরকম কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু সেরা খেলোয়াড়রাই হলো সেই খেলোয়াড় যাদের আপনি চান। যদি খুব ভালো নয় এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে আপনার সমস্যা হয়, তবে সেটা একটা বড় সমস্যা। বড় খেলোয়াড়রা তো বড় খেলোয়াড়ই বলে যোগ করেন তিনি।

মেজর সকার লিগে মেসির বিপক্ষে দেখা যেতে পারে নেইমারকে!

ক্রীড়া ডেস্ক
মেজর সকার লিগে মেসির বিপক্ষে দেখা যেতে পারে নেইমারকে!

ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন ব্রাজিলিয়ার তারকা নেইমার। গভীর এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু এসবকে ছাপিয়ে যে খবর সামনে এলো সেটা হলো—সান্তোস ছেড়ে মেজর সকার লিগের ক্লাব সিনসিনাটির যোগ দেওয়ার আলোচনা থেকে সরে এসেছেন। যার ফলে এমএলএসে লিওনেল মেসির সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগটি আপাতত বন্ধ হলো। 
 
বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচে মাঠে নেমে দলকে অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত ছিল সমর্থকরা। এসবের বাইরেও সবার মনোযোগ ছিল, মেজর লীগ সকারে তার সম্ভাব্য দলবদলের খবর।

দ্য অ্যাথলেটিকের টম বোগার্টের তথ্য অনুযায়ী, লিখিত চুক্তিপত্রের অভাব এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নেইমার এফসি সিনসিনাটির সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে এসেছেন। এর আগে ক্লাবের কর্মকর্তা ক্রিস অলব্রাইট এবং জেফ বার্ডিং নেইমার ও তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এপ্রিলে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি চুক্তির মতো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় গড়ায়নি বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে এমএলএস ক্লাবটি যথেষ্ট আন্তরিক ছিল না বলেই আলোচনা থেকে সরে গিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। আর্থিক শর্তে সমঝোতা হলে সিনসিনাটিতে যোগ দিতে রাজি ছিলেন, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না থাকায় আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেন তিনি।

সিনসিনাটির সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে এলেও নেইমার মেজর লিগ সকারে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। দ্য অ্যাথলেটিক আরো জানিয়েছে, অন্য কোনো ক্লাব উপযুক্ত কোনো প্রস্তাব দিলে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী থাকবেন তিনি।