বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে এবার নকআউটের হাইভোল্টেজ মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার ‘পাওয়ারহাউজ’ জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোয় ওঠার এই লড়াইয়ে যে দলই জিতবে, তারা মুখোমুখি হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের।
কাগজে-কলমে এবং মাঠের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ম্যাচের আগে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে সাম্বার দেশ ব্রাজিল। ফুটবলভিত্তিক ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা সুপার কম্পিউটার’-এর ২৫ হাজার সিমুলেশনের ফলও বলছে সে কথাই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা যেখানে ৫৭.৩ শতাংশ, সেখানে জাপানের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১৯.৭ শতাংশ। বাকি ২৩ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর।
টুর্নামেন্টের শুরুটা কিছুটা খাপছাড়া হলেও ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরছে কার্লো আনচেলত্তির দল। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রেখেছে তারা। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেলেসাওদের। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের উত্তরসূরিরা।
প্রথম ম্যাচে গোল খাওয়ার পর থেকে টানা সাত গোল করেছে ব্রাজিল, বিপরীতে হজম করেনি একটিও। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করার এমন ধারাবাহিকতা এবারই প্রথম দেখাল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
এদিকে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৪ বারের দেখায় ১১ বারই শেষ হাসি হেসেছে ব্রাজিল, ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। জাপানের জয় মাত্র একটিতে। তবে সামুরাই ব্লুজদের সেই একমাত্র জয়টি এসেছিল দল দুটির সর্বশেষ দেখায়, যা ব্রাজিলের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
গত অক্টোবরে টোকিওতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচটি হেরে বসে ব্রাজিল। জাপানের হয়ে সেই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আয়াসে উয়েদা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালে ৪-১ ব্যবধানের দাপুটে জয় পেয়েছিল ব্রাজিলই।




