• ই-পেপার

গোলশূন্য প্রথমার্ধ নেদারল্যান্ডস-মরক্কোর

অতিরিক্ত সময়ে গড়াল নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ

ক্রীড়া ডেস্ক
অতিরিক্ত সময়ে গড়াল নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ
ছবি : রয়টার্স

জয় উদযাপনের জন্য হয়তো ক্ষণ গুনছিলেন ডাচ খেলোয়াড়রা। এমন মুহূর্তে যোগ করা সময়ের গোলে তাদের স্তব্ধ করে দিয়ে ১-১ গোলের সমতায় ফেরে মরক্কো।

গোলবিহীন প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ করতে থাকেন আশরাফ হাকিমিরা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো।

এখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হবে। এতে ফল না আসলে ম্যাচ গড়াবে টাই ব্রেকারে।

বিরতির সময় দলকে কি বলেছিলেন জানালেন ব্রাজিল কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিরতির সময় দলকে কি বলেছিলেন জানালেন ব্রাজিল কোচ
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধে চেনা ব্রাজিলকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাদের একের পর এক আক্রমণ কেবল হতাশারই জন্ম দিচ্ছিল। উল্টো জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে গোল হজম করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সেলেসাওরা। তবে বিরতির পর যেন খোলস ছেড়ে বেরোল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের চরম ভোগান্তি ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যাবধানে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। 

ম্যাচ শেষে কৌশল দিয়ে জয়ের কথাই শোনালেন ব্রাজিলিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। শুরু থেকেই সোজাসুজি আক্রমণে উঠে ব্যর্থ হওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে রণকৌশল বদলে ডি-বক্সে ক্রস বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়। আর তাতেই আসে সাফল্য। গাব্রিয়েল মাগালাইসের নিখুঁত ক্রস থেকেই হেডে প্রথম গোলটি করেন কাসেমিরো।

কোণঠাসা অবস্থা থেকে এই কৌশলী জয়কে টুর্নামেন্টের সেরা আখ্যা দিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটাই বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। প্রথমার্ধে জাপান আমাদের কোনো জায়গাই দেয়নি, ফলে আমাদের ভুগতে হয়েছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সেই বাধা কাটিয়ে ক্রস বাড়াতে শুরু করি। নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের কৌশলের বড় উন্নতি।’

বিরতির সময় শিষ্যদের কী টোটকা দিয়েছিলেন, তাও খোলাসা করলেন এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমি ছেলেদের ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। কারণ আমি জানতাম গোল আমরা পাবই, শুধু পজিশন ধরে রেখে নতুন কোনো গোল হজম করা যাবে না।’ 

জাপানের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘ওরা খুবই শক্তিশালী ও সুসংগঠিত দল, রক্ষণেও দারুণ জমাট ছিল।’

এই কঠিন অগ্নিপরীক্ষা পার করে এবার কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্যে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। 
 

ব্রাজিল শেষ এমন ঘটনা ঘটিয়েছিল ২০০২ সালে

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল শেষ এমন ঘটনা ঘটিয়েছিল ২০০২ সালে
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধে চেনা ব্রাজিলকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাদের একের পর এক অগোছালো আর ধারহীন আক্রমণ কেবল হতাশারই জন্ম দিচ্ছিল। উল্টো জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে গোল হজম করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে সেলেসাওরা। তবে বিরতির পর যেন খোলস ছেড়ে বেরোল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের চরম ভোগান্তি ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যাবধানে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতার কীর্তি ব্রাজিল সবশেষ দেখিয়েছিল ২০০২ সালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাল সেলেসাওরা।

হিউস্টনে সোমবার ম্যাচের শুরু থেকেই পজিশন কিংবা অন টার্গেট শটে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে দাপট দেখিয়েছে জাপানই। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে খেলে ম্যাচের ২৯তম মিনিটেই কাইশু সানোর চমৎকার গোলে লিড নেয় এশিয়ান পরাশক্তিরা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে চেনা ছন্দে ফেরার আভাস দেয় আনচেলত্তির শিষ্যরা। বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণের গতি বাড়ায় তারা। কয়েক মিনিটের ঝড়ে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর, অবশেষে ৫৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। জাপানি ডিফেন্সের দেয়াল ভেঙে ব্রাজিলের মুখে হাসি ফোটান কাসেমিরো। এর পর ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে হলুদ শিবির। কিন্তু জাপানের রক্ষণভাগে কিছুতেই ফাটল ধরানো যাচ্ছিল না। ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ম্যাজিক দেখান বদলি নামা গাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। তার নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল, নিশ্চিত হয় শেষ ১৬-র টিকিট। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায় ঘণ্টা বাজাল প্যারাগুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায় ঘণ্টা বাজাল প্যারাগুয়ে
টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার ওরলান্দো হিল। ছবি: ফিফা

বল জালে পাঠিয়ে ছুটলেন হোসে কানালে। মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গেলেন সতীর্থরা। প্রথমে একজন চড়ে বসলেন তার কাঁধে। ঝাঁপিয়ে পড়লেন একে একে সবাই। অবিশ্বাস্য এক মুহূর্তের জন্ম হলো ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল প্যারাগুয়ে।

রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে প্যারাগুয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম পাঁচটির দুটি ঠেকিয়ে প্যারাগুয়ের নায়ক গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল। জার্মানির বিপক্ষে তিনবারের দেখায় প্যারাগুয়ের প্রথম জয় এটি।

বিশ্বকাপে পাঁচবার টাইব্রেকারে গিয়ে এই প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল জার্মানি। দুইবার টাইব্রেকারে গিয়ে দুইবারই শেষ হাসি হাসল প্যারাগুয়ে।

২০১০ সালে শেষ ষোলোয় জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল প্যারাগুয়ে, যা বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। তারপর এই প্রথম বিশ্ব মঞ্চে ফিরেছে তারা। এবার নকআউট পর্বের শুরুতে অভাবনীয় সাফল্য পেল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী এই দেশ।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো গোলই ছিল না প্যারাগুয়ের। সেই খরা কাটিয়ে প্রথমার্ধে দলটিকে এগিয়ে নেন হুলিও এনসিসো। বিরতির পর সমতা আনেন আর্সেনাল তারকা কাই হাভার্টজ।

সেই হাভার্টজই ব্যর্থ হন টাইব্রেকারের শুরুতে। তার শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন হিল। শটে অবশ্য খুব বেশি জোরও ছিল না। জার্মানির পরের দুই শটে জাল খুঁজে পান ইয়োশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা।

প্যারাগুয়ের প্রথম তিন শটেই মেলে জালের দেখা। এরপর জার্মানির চতুর্থ শট নিতে আসেন নক ভল্টেমাডা। তার শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান হিল।

চতুর্থ শটে গোল করে জয়ের সুযোগ তখন প্যারাগুয়ের সামনে। কিন্তু বাইরে মেরে বসেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া। বেঁচে থাকে জার্মানির আশা।

জার্মানির পঞ্চম শট জালে পাঠান নাদিম আমিরি। প্যারাগুয়ের সামনে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ আসে আবার। কিন্তু ফাবিয়ান বালবুয়েনার নেওয়া তাদের পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়্যার।

এরপর সাডেন ডেথের শুরুতে উড়িয়ে মারেন জার্মানির ইয়োনাথান টাহ। এবার আর ভুল করেনি প্যারাগুয়ে। কানালে বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে মাতে গুস্তাভো আলফারোর দল।

গত দুটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানি ২০১৪ সালের ফাইনালে জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছিল। কিন্তু অভাবনীয় হারে শুরুতেই বিদায় নিল ইউলিয়ান নাগলসমানের দল।

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে চমক জাগানো প্যারাগুয়ে।