• ই-পেপার

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অতিরিক্ত সময়ে নিল কেপ ভার্দে

বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই সহজ নয়, বুঝলেন স্কালোনিও

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই সহজ নয়, বুঝলেন স্কালোনিও
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন স্কালোনি। ছবি : রয়টার্স

শক্তি-সামর্থ্যে ধারে কাছে ছিল না কেপ ভার্দে। র‌্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বর দলের বিপক্ষে খেলা চূড়ায় থাকা আর্জেন্টিনার। আবার আলবিসেলেস্তাদের নামের পাশে তিন বিশ্বকাপের বিপরীতে প্রথমবার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অভিষেক কেপ ভার্দের।

অতীত ইতিহাস আর পরিসংখ্যানের হিসেবে লড়াইটা তাই একপেশেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মায়ামিতে আজ যা হলো তাতে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে আর্জেন্টিনা। স্কোরলাইন ৩-২ হলেও আলবিসেলেস্তাদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে প্রতিপক্ষরা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একদম চমকে দিয়েছে তারা।

জয় কতটা কঠিন ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে। তার মতে, ম্যাচটা অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন ছিল। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ যে সহজ নয় তা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন তিনি।

 

অতিরিক্ত সময়ে জয় পাওয়ার পর স্কালোনি বলেছেন, ‘ম্যাচটি অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন ছিল। লোকে যখন বলে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়, কথাটা আসলেই শতভাগ সত্যি। আজ তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েছিল কেপ ভার্দে। তবে প্রতিবারই সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনার নাভিশ্বাস তুলেছিল তারা। দুর্দান্ত পারফম্যান্সের জন্য তাই প্রশংসা পাচ্ছে স্কালোনির কাছে থেকেও। আর্জেন্টিনার কোচ বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আজ তারা মাঠে দেখিয়েছে কতটা দুর্দান্ত দল।’

শিষ্যদের হাল না ছাড়ার মানসিকতার প্রশংসাও করেছেন স্কালোনি। তিনি বলেছেন, ‘সবকিছুর মাঝেও আপনাকে সবসময় ইতিবাচক দিক খুঁজে নিতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—দলটি কখনো হাল ছেড়ে দিতে জানে না।’

‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ম্যাচের দীর্ঘ একটা সময় মনে হচ্ছিল ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ তম দলের কাছে অঘটনের শিকার হবে না তো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! নবাগত কেপ ভার্দে যে খেলা দেখাল মেসিদের তাতে তাদের দুর্বল বলার আর কোন উপায় নেই। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দেখিয়েছে কিভাবে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত মেসিদের গোলে নয় বরং নিজেদের আত্মঘাতী গোলেই হারতে হয়েছে ভোজিনহাদের।

সব নাটকীয়তা শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মেসিবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে শনিবার ভোরে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচের প্রথম আসল সুযোগটি তৈরি করেছিল কেপ ভার্দেই, সপ্তম মিনিটে বক্সে ঢুকে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস খেই না হারালে তখনই লিড পেতে পারত তারা।

ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণমেসি-জাদু! ২৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধে দাঁড়িয়ে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এক নিখুঁত দূরপাল্লার লং-বল বাড়ান। প্রথম স্পর্শেই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে বোকা বানান মহাতারকা।

এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখালেন এলএমটেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০টি গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। একই সাথে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল এবং একাধিক বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ৭টি করে গোল করার অতিমানবীয় বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আফ্রিকার দেশটি। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে প্রথমবার এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরীক্ষায় ফেলেন দিরয় দুয়ার্তে। তার খানিক বাদেই মেন্দেসের ক্রস থেকে সেই দুয়ার্তেরই নিচু শটে লিসান্দ্রোর পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনার সামনে স্রেফ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। ৬৩ মিনিটে মেসির শট, ৭৩ মিনিটে মেসির টপ কর্নার ঘেঁষা ফ্রি-কিক কিংবা ৮১ মিনিটে এনজোর নিশ্চিত হেডএকের পর এক অতিমানবীয় সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডুবিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন এই বুড়ো।

ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনার শেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের ৭টিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। কাতার বিশ্বকাপের নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স বধের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয় মিনিটেই আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে জোরালো শটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ডিফেন্ডার।

কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি! হারার আগে হার না মানার পণ করা কেপ ভার্দে ১০৩ মিনিটে আবারও স্তব্ধ করে দেয় মায়ামিকে। মাক আলিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের কোনা থেকে সিডনি লোপেজ কাবরালের নেওয়া ডান পায়ের দুর্দান্ত শট টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২!

শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ও ভাগ্যনির্ধারক গোল। মেসির কর্নার থেকে বক্সে হেড নিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, তবে বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালের ভেতর আশ্রয় নেয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ৫ মিনিট আগে আরও একবার ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে এবার আর ভুল করেননি আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক সেভে নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর টিকিট। 

মেসির রেকর্ড গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির রেকর্ড গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

ফুটবল মাঠে কখনো কখনো প্রতিপক্ষের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সামনে স্রেফ করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। রাউন্ড অব থার্টি-টুর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচ যেন আরও একবার সেই চিরন্তন সত্যকেই মনে করিয়ে দিল।

কেপ ভার্দের ইস্পাতকঠিন রক্ষণ আর নিখুঁত ফুটবলকে এক লহমায় চূর্ণ করে দিলেন ফুটবলের যাদুকর লিওনেল মেসি। তার অবিশ্বাস্য এক ফিনিশিংয়ে আপাতত লিড নিয়ে বিরতিতে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।

লড়াকু ফুটবল খেলা কেপ ভার্দে তখন পর্যন্ত প্রায় নিখুঁত এক ব্লু-প্রিন্টেই আটকে রেখেছিল আলবিসেলেস্তেদের। কিন্তু প্রতিপক্ষ শিবিরে যখন ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারী মেসি থাকেন, তখন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে এক মুহূর্তের জাদুই যথেষ্ট।

ঠিক তেমনই এক জাদুর মহড়া দেখা গেল ম্যাচের এক মুহূর্তে। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত এক দূরপাল্লার থ্রু-পাস বাড়ালেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। চোখের পলকে বলের লাইনে চলে গেলেন লিওনেল মেসি, ততক্ষণে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

এরপর স্রেফ কোনো চিত্রকরের ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো এক গোল। প্রথম স্পর্শেই রানিংয়ের ওপর বলটিকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন মেসি। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা পজিশন সামলানোর আগেই, দ্বিতীয় ছোঁয়ায় চোখের পলকে বল পাঠিয়ে দিলেন জালে! চলতি আসতে তারকা বনে যাওয়া গোলরক্ষক কেবল চেয়ে চেয়ে দেখলেন বলের সেই নিখুঁত গতিপথ।

আর এই চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের রাজকীয় মঞ্চে নিজের রেকর্ড ২০তম গোলটি উদযাপন করলেন এলএম-টেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আগেই ভেঙেছেন মেসি। এখন নিজের সেই রেকর্ডকেই আরো দূরে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাতারকা।

একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি মেসির ৭ম গোল। এছাড়া আজকের ম্যাচ দিয়ে আরেক অনন্য মাইলফলক গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড ৩০ ম্যাচে মাঠে নামলেন আর্জেন্টাইন যাদুকর। 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ, রক্ষণে চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ, রক্ষণে চমক

শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে আজ ভোরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে লিওনেল স্কালোনির দলে আবার শুরুর একাদশে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। 

আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হচ্ছেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর হুলিয়ান আলভারেজ থাকছেন বেঞ্চে। এছাড়া একাদশে চমক আছে একটি। সেটি হলো নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে ফাকুন্দো মেদিনা লেফট-ব্যাকে শুরু করবেন।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।