• ই-পেপার

বিক্ষোভে ২০ জনের বেশি নিহত, অচল পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর

যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে: জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে: জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিকে অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এই হামলার আগে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক আক্রমণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রুশ হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। দেশটির ছয়টি অঞ্চলে একদিনেই এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

এদিকে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠ কমপ্লেক্সেও হামলা চালিয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই স্থাপনাটি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিদর্শন। রুশ হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে একটি তেল শোধনাগারও ছিল। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীর দিকে আসার সময় প্রায় ১৮০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, 'ইউক্রেনের মানুষ এই যুদ্ধ চায় না। তারা কখনোই তা চায়নি। কিন্তু যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে।'

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া যে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে, তার জবাব হিসেবে ইউক্রেন মস্কোতে ড্রোন হামলা করেছে। তার মতে, এটি প্রতিশোধমূলক বা অযৌক্তিক কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং রাশিয়ার হামলারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেন শুধু সাধারণ লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং রাশিয়াকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তাকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করছে। মস্কোর তেল শোধনাগারের মতো স্থাপনায় হামলাকে তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইউক্রেন শুধু নিজেদের রক্ষাই করছে না, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতাকেও দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় ১৬ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধে দুই পক্ষের কত সেনা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধ তিন বছরের বেশি সময় ধরে চললেও এখনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন (এইচআরএমএমইউ) চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানায়, এই বছরের মে মাস গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ছিল। ওই মাসে রুশ হামলায় ২৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন আরো এক হাজার ৭৬৩ জন।

এদিকে রাশিয়ার ভেতরেও ইউক্রেনীয় হামলার ঘটনা ঘটছে। চলতি সপ্তাহে রুশ গণমাধ্যম জানায়, বেলারুশের একটি কিশোর ফুটবল দলকে বহনকারী একটি বাসে ইউক্রেনের হামলায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া নিয়মিতভাবে বড় আকারের সম্মিলিত হামলা চালাবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনকে নতুন করে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮০ কোটি ডলারে। মার্লেস বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ইউক্রেনের যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, অস্ট্রেলিয়া সেই সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
 

গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জিতলেন বার্নহাম, চ্যালেঞ্জের মুখে কিয়ার স্টারমার

অনলাইন ডেস্ক
গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জিতলেন বার্নহাম, চ্যালেঞ্জের মুখে কিয়ার স্টারমার
ছবি : রয়টার্স।

উত্তর ইংল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম সহজেই জয় পেয়েছেন। এই বিজয় তাকে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহাম অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের রবার্ট কেনিয়নকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি হাউস অব কমন্সে একটি আসন নিশ্চিত করেছেন। এটি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

অ্যান্ডি বার্নহাম ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং কেনিয়নের চেয়ে নয় হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
রিস্টোর ব্রিটেনের রেবেকা শেফার্ড অনেক ব্যবধানে তৃতীয় হয়েছেন। তার পেছনে অবস্থান করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির মাইকেল উইনস্টানলি, গ্রিন পার্টির সারা ওয়েকফিল্ড এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের জেক অস্টিন।

বিজয়ী ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ‘সবাই জানে যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না।’

সকলেই বুঝতে পারবেন, দেশটি যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই। আজকের রাতটিই হতে পারে একটি সন্ধিক্ষণ। এখন থেকে আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে তা নিশ্চিত করব।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহামের এই জয় স্টারমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরো বাড়াতে পারে। এতে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে পারে বা তার নেতৃত্বকে ঘিরে বার্নহাম ও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই সংসদ সদস্যরা নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পারেন। স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করলে বার্নহামকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শ্রমিক ইউনিয়ন-সমর্থক ভোটার কিথ ডেভিস বলেন, ‘আমি কিয়ার স্টারমারের ওপর আস্থা হারিয়েছি। মনে হয় তিনি পথ হারিয়েছেন।’ একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশদের ২৫ শতাংশ অ্যান্ডি বার্নহামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন, যেখানে কিয়ার স্টারমারের সমর্থন ১২ শতাংশ।

স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলে বার্নহাম হবেন ২০১৬ সালের ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালে লেবার নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি শুরুতে এগিয়ে থাকলেও পরে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেলেও স্টারমার এখন সমালোচনা ও অসন্তোষের মুখে। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় হার তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি আরো বাড়িয়েছে। গত দুই বছরে তার সরকারের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের অনেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিংও আছেন।

তবে স্টারমার পদত্যাগের দাবি মানছেন না এবং বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবেলা করবেন।

উত্তর ইংল্যান্ডে জনপ্রিয়তার কারণে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত অ্যান্ডি বার্নহামকে নির্বাচনি প্রচারে লেবারকে বদলে দেশ বদলানোর কথা বলেছেন। মেয়র হিসেবে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর পক্ষে কথা বলে জনপ্রিয়তা পান এবং লন্ডনকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নব্য উদারনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনা করেন।

২০১৭ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০২১ ও ২০২৪ সালে আবারও জয়ী হন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ রাজনীতি অনেক বেশি লন্ডনকেন্দ্রিক এবং ট্রিকল-ডাউন অর্থনীতি ঠিকভাবে কাজ করেনি।

বিজয়ী ভাষণে তিনি মেকারফিল্ডকে তার রাজনীতির ‘মানদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ‘মেকারফিল্ড টেস্ট’ নিশ্চিত করবে, অবহেলিত এলাকাগুলো ন্যায্যতা পাবে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং গর্ডন ব্রাউনের অধীনে মন্ত্রী থাকা বার্নহাম এই নির্বাচনে সামান্য এগিয়ে ছিলেন বলে জরিপে দেখা যায়। লেবার পার্টির জোশ সাইমন্স আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনটি হয় এবং বার্নহাম স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান। প্রায় ৭৫ হাজার ভোটারের এই আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক৭৫ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
 

সৌন্দর্যসেবাকে এগিয়ে নিতে জোট বাঁধল ল’রিয়াল ও ওপেনএআই

অনলাইন ডেস্ক
সৌন্দর্যসেবাকে এগিয়ে নিতে জোট বাঁধল ল’রিয়াল ও ওপেনএআই
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সের বহুজাতিক সৌন্দর্যপণ্য প্রতিষ্ঠান ল’রিয়াল গ্রুপ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পানি ওপেনএআইয়ের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব শুরু করেছে। এই ঘোষণা দেওয়া হয় ইউরোপের বড় প্রযুক্তি সম্মেলন ভিভা টেকনোলজি-তে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য হলো সৌন্দর্যপণ্য কেনাকাটা, গবেষণা এবং বিপণনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরো বাড়ানো। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা সহজ হবে ও তারা একান্তই নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য পাবেন। ল’রিয়ালের মতে, এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করে সহজেই সঠিক সৌন্দর্যপণ্য খুঁজে নিতে পারবেন, পণ্য সম্পর্কে আরো সহজে জানতে পারবেন এবং ব্যবহারবিধি বুঝতে পারবেন। কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, এই প্রকল্প দুটি প্রধান দিককে লক্ষ্য করে অগ্রসর হবে। প্রথমত, গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এআই ব্যবহার করা। দ্বিতীয়ত, গবেষণা, পণ্য়ের উন্নয়ন এবং কনটেন্ট তৈরির কাজকে আরো দ্রুত ও আধুনিক করা।

ল’রিয়ালের প্রধান ডিজিটাল ও মার্কেটিং কর্মকর্তা আসমিতা দুবে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গ্রাহক সেবা, বিপণন এবং গবেষণার কাজ আরো উন্নত করা সম্ভব। তার মতে, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সৌন্দর্য শিল্পে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ও সমাধান আনতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ল’রিয়ালের ব্র্যান্ড মেবেলিন নিউইয়র্ক অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি মেকআপ 
প্রয়োগ করার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ল’রিয়ালের স্কিনসিউটিক্যালস এবং সেরাভি ব্র্যান্ড ওপেনএআইয়ের বিজ্ঞাপন পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত হবে। সেখানে এআই ব্যবহার করে গ্রাহকের পণ্য খোঁজা থেকে শুরু করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করার চেষ্টা করা হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে ল’রিয়াল জানিয়েছে, তারা ত্বকের জীবাণু ও অণুজীব সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে ওপেনএআইয়ের বিশেষ জীববিজ্ঞানভিত্তিক মডেল জিপিটি-রোজালিন্ড ব্যবহার করবে। এর পাশাপাশি কম্পানিটি তাদের নিজস্ব জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্ম 'ক্রিয়েলটেক'-এ ওপেনএআইয়ের নতুন মডেল যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা আরো দ্রুত ও সহজ হবে।

ল’রিয়াল এই প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি এশিয়ার বাজারেও মনোযোগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্য ব্র্যান্ডগুলোর দিকে। ২০১৮ সালে কোরিয়ান মেকআপ ব্র্যান্ড 'থ্রিসিই'-কে কিনে কোরিয়ান বাজারে প্রবেশ করে ল’রিয়াল। এরপর থেকে ব্র্যান্ডটির পূর্ব-পরিচয় বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে এর বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। বর্তমানে এটি এশিয়া ও চীনের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেকটি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড 'ডক্টর জি'-কে ল’রিয়ালের পোর্টফোলিওতে যুক্ত করা হয়। এই ব্র্যান্ডটি এখন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশে বিক্রি হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাতেও বিস্তার লাভ করছে।

বিশ্বজুড়ে ত্বকবিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত পণ্যের ওপর ভর করে ল’রিয়াল তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, বেশির ভাগ অপরাধীই পাকিস্তানি পুরুষ

অনলাইন ডেস্ক
ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, বেশির ভাগ অপরাধীই পাকিস্তানি পুরুষ
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২১৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো দাবি করেন, গত কয়েক দশকে অন্তত আড়াই লাখ মেয়ে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষ। 

এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যের সরকার বা পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়, বরং এটি এমপি লো-এর নিজস্বভাবে প্রকাশ করা একটি রিপোর্ট। যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে বোঝানো হয়, যারা মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের টার্গেট করে। তাদের অনেকেই সুবিধাবঞ্চিত,পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা সামাজিক ঝুঁকিতে থাকা মেয়ে। প্রথম ধাপে অপরাধীরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। তারা ভালোবাসা, যত্ন বা সম্পর্কের ভান করে মেয়েদের প্রভাবিত করে। এরপর ধীরে ধীরে এসব মেয়েদের যৌন নির্যাতনের চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়। একপর্যায়ে তারা ভয়, চাপ এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আটকে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার শিকারদের বড় একটি অংশ শ্বেতাঙ্গ মেয়ে। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে যে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের সরকার এই সমস্যাকে সঠিকভাবে গুরুত্ব দেয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, তারা সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ইয়াহু নিউজের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর যে সংখ্যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে সংখ্যাগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে লোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন, ভয়ভীতি, হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

রুপার্ট লো জানান, এই প্রতিবেদন তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এতে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। এর আগে যুক্তরাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’ উল্লেখযোগ্য।  ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্রের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে শত শত ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য, আদালতের নথি এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক সময় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তদের অনেকেই পাকিস্তানি মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি বর্ণবাদী ইস্যু হিসেবে দেখা হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা, যৌন অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে অভিযোগ পাওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।