• ই-পেপার

ক্ষমতা ছাড়তে পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

কঙ্গোয় ইবোলায় আক্রান্ত এক হাজার ছাড়াল, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গোয় ইবোলায় আক্রান্ত এক হাজার ছাড়াল, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা
ছবি: রয়টার্স

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও সংক্রমিত হচ্ছেন। এতে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৭৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ‘বিশেষ’ ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে নয়, বরং সাধারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করার সময় সংক্রমিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্পসের কঙ্গো শাখার চিকিৎসা প্রধান আবদু সেবুশিশে জানান, আক্রান্ত সব স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণ ঘটেছে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে। তার মতে, রোগটি শুরুতে সাধারণ অসুখের মতো মনে হওয়ায় অনেক সময় ইবোলা শনাক্ত হতে দেরি হয়।

ইবোলার বান্ডিবুগিও ধরন শুরুতে ম্যালেরিয়া বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখায়। ফলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়পক্ষই শুরুতে বুঝতে পারে না এটি ইবোলা। এই সময়েই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং হাসপাতালগুলোর দুর্বল নজরদারি পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকলে ইবোলা আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। 

কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৩ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২৫৪ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে ১০০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ইতুরি প্রদেশে। মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে। এই এলাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী নিয়ে কাজ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতুরি অঞ্চলে সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনো জটিল। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫৮ শতাংশকে। কয়েক দিন আগেও এই হার ৭০ শতাংশের বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় রোগীর গতিবিধি চিহ্নিত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের প্রধান মারি রোজেলিন বেলিজেয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পূর্ণ প্রস্তুতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি পরিস্থিতির অগ্রগতিকে ১০-এর মধ্যে তিন বা চার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করার জন্য রোগী, তাদের পরিবার এবং নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সব বাধা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তুলনায় এখন বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ফিরছেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।

জুন মাসে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৯১ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। 

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩
ছবি : সংগৃহীত।

ফিলিপাইনের একটি স্কুলে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে। ফিলিপাইনে গুলির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।

লেইতে প্রদেশের তাকলোবান সিটিতে অবস্থিত সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ এখনো এই হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

আঞ্চলিক পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দেশটির সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম পিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া দুজনই ছাত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্লেয়ার কাস্ত্রো সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজনদের আটক করেছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।’ 

ফিলিপাইনে স্কুলে গুলির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, প্রাদেশিক রাজনীতিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। এর আগে ২০২২ সালে রাজধানী ম্যানিলার অ্যাটেনিও দে ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন সাবেক মেয়রসহ তিনজন নিহত হয়েছিলেন।

পরে তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি ব্যক্তিগত কারণে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে বৈধভাবে অস্ত্র রাখার নিয়ম কঠোর হলেও অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় বাজার বিদ্যমান।

তার জীবনে আসিম মুনীর কতটা গুরত্বপূর্ণ, জানালেন জেডি ভ্যান্স

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
তার জীবনে আসিম মুনীর কতটা গুরত্বপূর্ণ, জানালেন জেডি ভ্যান্স

সন্ত্রাসবাদ, দুই প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা, ভঙ্গুর অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ, রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ—নানান বিষয়ে বিপর্যস্ত ছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ছিল তলানিতে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ যেন তাদের জন্য লাইফলাইন হয়ে এসেছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত চুক্তিতে যাওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা। প্রায় চার মাসের যুদ্ধকে হরমুজ প্রণালি থেকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পর্দার সামনে-পেছনে অনেকেরই ভূমিকা আছে। তবে সবার আগে বলতে হবে পাকিস্তানের নাম। যুদ্ধ থামাতে তাদের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বিশ্ব। ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানি নেতারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে বিরামহীন কথা বলেছেন, প্রয়োজনে উড়ে গেছেন। কোথাও আটকে গেলে জট খুলতে চেষ্টা করেছেন। সমঝোাতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে একবারই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি বসেছিল, সেটিও ইসলামাবাদে। আর এই দূতিয়ালিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর। আইয়ুব খানের পর ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হওয়া পাকিস্তানের প্রথম ব্যক্তি আসিম মুনীর। একই সঙ্গে তিনি দেশটির প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের মর্যাদাও পেয়েছেন। দেশের ভেতরে স্বীকৃতির পাশাপাশি যুদ্ধ থামাতে ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন আসিম মুনীর।

এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসলেন আসিম মুনীর। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকের লেক লুসার্নের বিলাসবহুল রিসোর্টে রবিবার আলোচনায় সব পক্ষের সামনেই আসিম মুনীরকে তার জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদা দিলেন ভ্যান্স।

উপমহাদেশের দুজন বক্তি ভ্যান্সের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, একজন তো পাকিস্তানের আসিম মুনীর। অপরজন হলেন–ভারতীয়, তার নাম ঊষা ভ্যান্স। দ্বিতীয় নামটির ক্ষেত্রে অবশ্য ভ্যান্সের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ ঊষা ভ্যান্স তার জীবনসঙ্গী। 

রবিবার আসিম মুনীরের উপস্থিতিতেই জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ইসলামাবাদে যখন প্রধানমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে ফিল্ড মার্শাল মুনীর আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি কৌতুক করে আসছি যে আমার জীবনে অত্যন্ত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি আছেন—একজন ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি। ভারতীয় জন হলেন আমার স্ত্রী, আর পাকিস্তানি হলেন ফিল্ড মার্শাল মুনীর।’

ভ্যান্স আরো জানান, গত তিন মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন আসিম মুনীরের সঙ্গে।

উচ্ছ্বসিত ভ্যান্স বলেন, ‘তার (আসিম মুনীর) দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ছাড়া আমি আজ এখানে থাকতে পারতাম না। তিনি নিশ্চিতভাবেই একজন চমৎকার সেনানায়ক। তবে আমি মনে করি, তিনি নিজেকে একজন বিচক্ষণ কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। অবশ্যই, তিনি একজন অসাধারণ নেতা।’

আসিম মুনীর এবং পাকিস্তান তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগান, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার বৈঠকে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’, দাবি মধ্যস্থতাকারীদের

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার বৈঠকে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’, দাবি মধ্যস্থতাকারীদের
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তের চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, এতে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হওয়ার পর রবিবার সুইজারল্যান্ডে এই আলোচনা শুরু হয়।

সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার ও পাকিস্তান জানায়, একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের কমিটি’ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এর আগে আলোচনায় যুক্ত থাকা এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা নিয়ে ইরানের কিছু বিভ্রান্তিকর বার্তার ব্যাখ্যা পরিষ্কার করতেই মূলত আলোচনা হচ্ছে। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে একটি ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা’ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন ওই কূটনীতিক বলেন, আলোচনায় পারমাণবিক চুক্তির কিছু বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরে বৈঠকে থাকা দুই দেশের প্রতিনিধিদল এই কার্যক্রমকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে। 

গত সপ্তাহের প্রাথমিক চুক্তিতে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। এতে লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথাও ছিল। তবে এরপর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ইসরাইলি বিমান হামলায় বহু লেবাননি নিহত হন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপরও সংঘর্ষ ও বিমান হামলা চলতে থাকায় শনিবার ইরান ঘোষণা দেয়, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে লেবানন প্রজাতন্ত্র এবং মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় সব পক্ষ একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে। লুসার্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ইরানকে ‘অবিলম্বে লেবাননে থাকা তাদের বড় অঙ্কের বেতন পাওয়া প্রতিনিধিদের সমস্যা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে’। তা না হলে তিনি ‘আবারও খুব কঠোরভাবে ইরানের ওপর আঘাত হানার’ হুমকি দেন। এর জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘তারা কি বুঝতে পারে না, তাদের হুমকির যদি সত্যিই কোনো প্রভাব থাকত, তাহলে আজ তাদের এমন অসহায় অবস্থায় থাকতে হতো না? তারা শুধু কথা বলে, আর কাজ করে দেখাই আমরা।’

রবিবার সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, উত্তর ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান করবে। হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ নিজেদের রক্ষা করবে। 

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনাকে নতুনভাবে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরির কার্যক্রম এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বন্ধ করতে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ভ্যান্সের সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে গালিবাফের সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। পুরো যুদ্ধজুড়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা আলোচনার আয়োজনও করেছিল দেশটি। কাতারও মধ্যস্থতায় অংশ নিয়েছে। রবিবার গভীর রাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অব্যাহত থাকায় তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন।

সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেন। এর লক্ষ্য ছিল দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়েছিল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছিল। এ ছাড়া ইরানের বন্দরে যাওয়া ও সেখান থেকে আসা জাহাজের ওপর আরোপ করা সামরিক অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক চুক্তিতে ইরানের ‘পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির কথাও ছিল। পাশাপাশি দেশটির ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। এটিকেই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন। পরে তিনি আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রবিবার সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, কিছু জাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ, বের হওয়া এবং চলাচল করতে দেখা গেছে। যদিও ইরান দাবি করেছিল, তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিকেলের শেষ দিকে চারটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে। আরো চারটি পণ্যবাহী বা পরিবহন জাহাজ, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে প্রণালির পশ্চিম অংশে স্থির ছিল। পরে সেগুলোকে পূর্ব দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে আরো চারটি জাহাজকে পশ্চিম দিকে প্রণালি ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। সেগুলো ইরানের উপকূলসংলগ্ন জলসীমা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে সব ধরনের চলাচল এই তথ্যের মধ্যে ধরা নাও পড়তে পারে। কারণ কিছু জাহাজ তাদের অবস্থান জানানোর যন্ত্র বন্ধ করে রাখতে পারে। 

প্রাথমিক চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা থাকলেও লেবাননে এরপর ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় পাঁচজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বলেছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের সংঘাত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে তারাও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। এর কিছুদিন পর লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা এক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ছোঁড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে। তারা দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির প্রায় পাঁচ শতাংশ এলাকা দখল করে নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা করেনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দুই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে অন্তত ৩৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরো চারজন বেসামরিক মানুষ।