• ই-পেপার

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক আইনমন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক আইনমন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৪ সালের ব্যর্থ সামরিক আইন ঘোষণার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী পার্ক সুং-জেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিতর্কিত সামরিক আইন ঘোষণার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।

ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালত পার্ককে বিদ্রোহে অংশ নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির চেষ্টা ঘিরে এই এই বিদ্রোহের অভিযোগ আসে। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় দেশটিতে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। গভীর রাতে সামরিক আইন ঘোষণা করা হলেও তা মাত্র প্রায় ছয় ঘণ্টা কার্যকর ছিল। এরপরই পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডেকে আইনটি বাতিল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, এই সামরিক আইন কার্যকরের পরিকল্পনায় পার্ক সুং-জে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আদালতে বলা হয়, সামরিক আইন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার ও আটক ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়। 

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনমন্ত্রী হিসেবে পার্ক এমনভাবে কাজ করছিলেন যেন সামরিক আইন দীর্ঘ সময় চালু থাকবে। সেই ধারণা থেকেই তিনি প্রশাসনিক পর্যায়ে সহযোগিতার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পার্কের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এই রায়ের ফলে ব্যর্থ সামরিক আইন ঘিরে দায়ী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তালিকা আরো দীর্ঘ হলো।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল এর আগে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে আটক অবস্থায় আছেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করছেন। চলতি মাসেই আলাদা এক মামলায় তাকে আরো ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছিলেন, যাতে সামরিক আইন জারির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো যায়।

ইউনের ঘনিষ্ঠ আরো কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু বর্তমানে ১৫ বছরের সাজা ভোগ করছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে দেওয়া হয়েছে নয় বছরের কারাদণ্ড। গত সপ্তাহে সাবেক এক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হি আলাদা মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ব্যর্থ সামরিক আইন ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। তখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোও সেই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

কঙ্গোয় ইবোলায় আক্রান্ত এক হাজার ছাড়াল, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গোয় ইবোলায় আক্রান্ত এক হাজার ছাড়াল, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা
ছবি: রয়টার্স

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও সংক্রমিত হচ্ছেন। এতে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে মোট ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৭৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ‘বিশেষ’ ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে নয়, বরং সাধারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করার সময় সংক্রমিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্পসের কঙ্গো শাখার চিকিৎসা প্রধান আবদু সেবুশিশে জানান, আক্রান্ত সব স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণ ঘটেছে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে। তার মতে, রোগটি শুরুতে সাধারণ অসুখের মতো মনে হওয়ায় অনেক সময় ইবোলা শনাক্ত হতে দেরি হয়।

ইবোলার বান্ডিবুগিও ধরন শুরুতে ম্যালেরিয়া বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখায়। ফলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়পক্ষই শুরুতে বুঝতে পারে না এটি ইবোলা। এই সময়েই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং হাসপাতালগুলোর দুর্বল নজরদারি পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকলে ইবোলা আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। 

কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৩ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২৫৪ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে ১০০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ইতুরি প্রদেশে। মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে। এই এলাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী নিয়ে কাজ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতুরি অঞ্চলে সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনো জটিল। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫৮ শতাংশকে। কয়েক দিন আগেও এই হার ৭০ শতাংশের বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় রোগীর গতিবিধি চিহ্নিত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের প্রধান মারি রোজেলিন বেলিজেয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পূর্ণ প্রস্তুতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি পরিস্থিতির অগ্রগতিকে ১০-এর মধ্যে তিন বা চার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করার জন্য রোগী, তাদের পরিবার এবং নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সব বাধা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তুলনায় এখন বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ফিরছেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।

জুন মাসে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৯১ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। 

তার জীবনে আসিম মুনীর কতটা গুরত্বপূর্ণ, জানালেন জেডি ভ্যান্স

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
তার জীবনে আসিম মুনীর কতটা গুরত্বপূর্ণ, জানালেন জেডি ভ্যান্স

সন্ত্রাসবাদ, দুই প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা, ভঙ্গুর অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ, রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ—নানান বিষয়ে বিপর্যস্ত ছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ছিল তলানিতে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ যেন তাদের জন্য লাইফলাইন হয়ে এসেছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত চুক্তিতে যাওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা। প্রায় চার মাসের যুদ্ধকে হরমুজ প্রণালি থেকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পর্দার সামনে-পেছনে অনেকেরই ভূমিকা আছে। তবে সবার আগে বলতে হবে পাকিস্তানের নাম। যুদ্ধ থামাতে তাদের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বিশ্ব। ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানি নেতারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে বিরামহীন কথা বলেছেন, প্রয়োজনে উড়ে গেছেন। কোথাও আটকে গেলে জট খুলতে চেষ্টা করেছেন। সমঝোাতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে একবারই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি বসেছিল, সেটিও ইসলামাবাদে। আর এই দূতিয়ালিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর। আইয়ুব খানের পর ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হওয়া পাকিস্তানের প্রথম ব্যক্তি আসিম মুনীর। একই সঙ্গে তিনি দেশটির প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের মর্যাদাও পেয়েছেন। দেশের ভেতরে স্বীকৃতির পাশাপাশি যুদ্ধ থামাতে ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন আসিম মুনীর।

এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসলেন আসিম মুনীর। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকের লেক লুসার্নের বিলাসবহুল রিসোর্টে রবিবার আলোচনায় সব পক্ষের সামনেই আসিম মুনীরকে তার জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদা দিলেন ভ্যান্স।

উপমহাদেশের দুজন বক্তি ভ্যান্সের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, একজন তো পাকিস্তানের আসিম মুনীর। অপরজন হলেন–ভারতীয়, তার নাম ঊষা ভ্যান্স। দ্বিতীয় নামটির ক্ষেত্রে অবশ্য ভ্যান্সের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ ঊষা ভ্যান্স তার জীবনসঙ্গী। 

রবিবার আসিম মুনীরের উপস্থিতিতেই জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ইসলামাবাদে যখন প্রধানমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে ফিল্ড মার্শাল মুনীর আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি কৌতুক করে আসছি যে আমার জীবনে অত্যন্ত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি আছেন—একজন ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি। ভারতীয় জন হলেন আমার স্ত্রী, আর পাকিস্তানি হলেন ফিল্ড মার্শাল মুনীর।’

ভ্যান্স আরো জানান, গত তিন মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন আসিম মুনীরের সঙ্গে।

উচ্ছ্বসিত ভ্যান্স বলেন, ‘তার (আসিম মুনীর) দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ছাড়া আমি আজ এখানে থাকতে পারতাম না। তিনি নিশ্চিতভাবেই একজন চমৎকার সেনানায়ক। তবে আমি মনে করি, তিনি নিজেকে একজন বিচক্ষণ কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। অবশ্যই, তিনি একজন অসাধারণ নেতা।’

আসিম মুনীর এবং পাকিস্তান তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগান, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ক্ষমতা ছাড়তে পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষমতা ছাড়তে পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সোমবার (২২ জুন) সকালে তার পদত্যাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রগুলো এ ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, স্টারমার ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে সোমবার একটি বিবৃতি দিতে পারেন, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি গত তিন দিন ধরে নিজের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন এবং বার্নহামের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হয়। এরপর থেকেই তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্নহাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। সম্প্রতি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠলে বার্নহাম মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। 

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের বরাতে স্টারমার সোমবার (২২ জুন) সকালে ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তারা শুক্রবার পর্যন্ত দাবি করছিলেন, স্টারমার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন। কিন্তু অন্তত ছয়জনের বেশি ক্যাবিনেট মন্ত্রী গোপনে তাকে জানিয়েছেন, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহান্তে চেকার্স গ্রামীণ বাসভবনে অবস্থান করে সম্ভাব্য পদত্যাগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।

চাপ বাড়তে থাকায় গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছেন। দলীয় নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও, অনেকেই মনে করছেন অ্যান্ডি বার্নহাম সহজেই নতুন নেতা হিসেবে উঠে আসতে পারেন।