• ই-পেপার

দোষী হলে সিয়ার ফাঁসি চান তার বাবা-মাও

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫
ছবি : বিবিসি

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকেপড়া স্বজনদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ভবন ফেটে যায়, ধসে পড়ে কিংবা বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে।

বৃহস্পতিবারও একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানান, কম্পনে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক কিশোরীর কান্না ঘণ্টার পর ঘণ্টা শোনা গেলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা দানি রিজো বলেন, ‘আমাদের লোক দরকার, সেনাবাহিনীর সদস্য দরকার, যাতে মেয়েটিকে বের করে আনা যায়।’ তবে কিছুক্ষণ পরই স্থানীয়রা জানান, মৃত্যু হয়েছে মেয়েটির।

একই রাজ্যের আরেকটি ধসেপড়া ভবনের নিচে তিনজনের জীবিত থাকার শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্তোনিও বারমুদেজ বলেন, ‘তারা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। কোনো যন্ত্রপাতি নেই, তাদের উদ্ধার করার কোনো উপায়ও নেই।’

এদিকে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। সারা বিশ্ব থেকে সাহায্যের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ১৫ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের একটি সর্বাত্মক সরকারি পদক্ষেপ রয়েছে। এটি হবে ব্যাপক, দ্রুত এবং কার্যকর।’ এ ছাড়া চীন, ভারত, ব্রাজিল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির জন্য প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, ১২৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্প মোকাবেলায় ‘সম্মিলিতভাবে ব্যাপক উদ্যোগ’ প্রয়োজন।

জাহাজে হামলার পর হরমুজে জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
জাহাজে হামলার পর হরমুজে জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান স্থগিত
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আগে সংস্থাটি নিশ্চিত হতে চায় যে, সমুদ্রে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আগের মতোই রয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের দাহিত বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু আঘাত করে। এতে জাহাজের কেউ হতাহত হননি। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানায়, হামলার শিকার জাহাজটির নাম 'এভার লাভলি'। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার পরও যাত্রা বন্ধ না করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহাজটিতে ইরান গুলি চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলা জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, অনুমোদিত পথ ছেড়ে চলাচল করলে যেকোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনার দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্যাপ্টেনকেই বহন করতে হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন।

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার পর আইএমও বড় পরিসরে আটকে পড়া নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তখন সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, এই অভিযানে ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং সামুদ্রিক খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। তবে বৃহস্পতিবার নতুন এক বিবৃতিতে তিনি জানান, হামলার শিকার হওয়া জাহাজটি আইএমওর নির্ধারিত উদ্ধার ব্যবস্থার আওতায় চলাচল করছিল না। তিনি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট 'মেরিন ট্রাফিক' জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে এভার লাভলি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রণালির পূর্ব দিক দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যায়। ভ্যানগার্ড জানায়, হামলার পরও জাহাজটির কোনো ধরনের কারিগরি বা নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ সংঘাত কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো অর্থ না নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল নয়, বরং সামুদ্রিক সেবা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। তাই এখানে কোনো দেশ এককভাবে টোল বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে না। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বাহরাইন সফরে রয়েছেন মার্কো রুবিও।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়। পরে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগের দামের কাছাকাছি। তবে দিনের শেষদিকে দাম আবার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৩ দশমিক ২৩ ডলারে ওঠে।
 

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮৮

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮৮
সংগৃহীত ছবি

ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮৮ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ২০০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবারের এ ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলাকে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘দ্রুত, কার্যকর ও বড় পরিসরের’ মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।

চেতন নির্দোষ, সিয়া বাঁচার জন্য তাকে ফাঁসাচ্ছে—দাবি বাবার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
চেতন নির্দোষ, সিয়া বাঁচার জন্য তাকে ফাঁসাচ্ছে—দাবি বাবার
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় নতুন দাবি নিয়ে সামনে এসেছেন অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর বাবা। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন ও পরে ৪০০ ফুট ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করেন। দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা এখন সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছে।

তবে চেমন চৌধুরীর বাবা বাবুলাল চৌধুরী দাবি করেছেন, এ ঘটনায় তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিয়া গোয়েল নিজে বাঁচার জন্য চেতনকে ফাঁসাচ্ছে। বাবুলাল চৌধুরী দাবি করেন, সিয়ার সঙ্গে চেতনের প্রেমের সম্পর্কের যে কথা বলা হচ্ছে, তা তারা জানতেন না। বাবুলালের দাবি, থানায় যাওয়ার আগে তিনি কখনো সিয়ার নাম শোনেননি, দেখেনওনি। 

পুলিশ রিমান্ডে থাকা চেতন চৌধুরীর সঙ্গে থানায় দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা। চেতনের বাবা দাবি করেন, চেতন তাদের বলেছে, ঘটনার সময় তিনি বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে চেতন কেন ওই সময় লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন, এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর ছিল না তার বাবার কাছে। চেতনও তাদের এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। ব্যবসায়ী বাবুলাল চৌধুরী পুনেতে একটি দোকান চালান। 

তিনি দাবি করেন, ‘আমার ছেলে মোটেই এমন নয়। সে নিয়মিত দোকানের কাজে আসত।’

চেতনের চাচা উদয়রাম চৌধুরীও তার ভাতিজাকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘চেতন একজন খেলোয়াড় এবং সব সময় সরাসরি কথা বলা মানুষ। বাজারে বা এলাকায় কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কেউ চেতনের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানত না।’ তিনি জানান, থানায় তারা এক মিনিটের জন্য চেতনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে চেতন তাদের বলেছেন, তিনি নির্দোষ, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

চেতনের আইনজীবী রাম সাহানেরও দাবি তার মক্কেল নির্দোষ, ‘এফআইআরে কথিত অপরাধে তার (চেতন) ভূমিকার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রধান আসামির প্রেমিক, শুধু এ ভিত্তিতেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

তবে পরিবার ও আইনজীবীর দাবির সঙ্গে পুলিশের তদন্তের কোনো মিল নেই। গত ১৮ জুন কেতন আগরওয়াল পুনের লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে মারা যান। সঙ্গে থাকা তার বাগদত্তা সিয়া গোয়েল পুলিশ ও পরিবারকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতন পড়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে পরিবার ও পুলিশ নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় ঘটনার ৫ দিন পর গত ২৩ জুন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পুনের একটি আদালত নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

গত বছরের নভেম্বর থেকে সিয়া ও চেতন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বাগদান হয়। প্রস্তুতি চলছিল আগামী নভেম্বরে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের। এ জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় একটি প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল। অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন মিলে তাদের প্রেমের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো কেতনকে একেবারে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে তা বাস্তবায়ন করেন।

মোবাইল কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখেছে, গত ৭ মাসে সিয়া ও চেতন ২ হাজার ৪ বার টেলিফোনে মোট ২৩৮ ঘণ্টা কথা বলেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ দেখেছে, ঘটনার দিন সিয়া ও কেতনকে ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে হুডি পরা এক যুবক অনুসরণ করছিলেন। সে যুবকটিই চেতন। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তামপাত্রায় ট্র্যাকিং ট্রেইলে হুডি পরার সন্দেহ থেকেই পুলিশ চেতন পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।

পুনের (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সন্দ্বীপ সিং গিল জানান, ১৮ জুন সকালেও পুনের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতন বৈঠক করেছেন। পুলিশের ধারণা, সকালের  বৈঠকে সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন এবং ঠিক কোন জায়গা থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হবে, তা ঠিক করেন। বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত সম্পর্কে সন্দ্বীপ গিল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সব সূত্র এক সুতায় গাঁথার পর সিয়া ও চেতনের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে।’