• ই-পেপার

বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা

সীমান্তে দুই শতাধিক মোবাইলসহ ৪ ভারতীয় গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, দাবি ভারতীয় সেনাপ্রধানের

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, দাবি ভারতীয় সেনাপ্রধানের
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানশাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চল এখনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনো সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল মানে এই নয় যে ভারত আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবেলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী মোতায়েন ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

ভারতীয় এই সেনাপ্রধান আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) অবসরে যাচ্ছেন। এর এক দিন আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। উভয় দেশই এখন একে অপরের উদ্বেগের বিষয়ে আরো সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘উত্তর সীমান্তের পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে সংবেদনশীল। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা কমেছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়মিত বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থাও কিছুটা বেড়েছে।’

উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখতে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের (ডব্লিউএমসিসি) অধীনে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্যে ঐকমত্য এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা।

সামরিক পর্যায়েও নিয়মিত আস্থা তৈরির নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘প্রতিবছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি মাঠ পর্যায়ের বৈঠক হয়। হটলাইন, পতাকা বৈঠক এবং কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনার মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলোর সমাধান করা হচ্ছে।’

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনোভাবেই আত্মতুষ্টে ভুগছে না। সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি, রসদ সরবরাহ, সেনা চলাচলের সক্ষমতা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্থিতিশীলতা মানে আত্মতুষ্টি নয়। যেকোনো হুমকি প্রতিহত করা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী মোতায়েন বজায় রেখেছে। উত্তর সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি, রসদ, চলাচলের সক্ষমতা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন অগ্রাধিকার। সীমান্তের নিয়মিত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে যেকোনও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েও কথা বলেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল স্পষ্ট— সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান করা এবং একই সঙ্গে আমাদের প্রস্তুতি, মোতায়েন ও অবকাঠামোকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থায় রাখা।’

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতীয় এই সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের স্পষ্ট অবস্থান। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো, পাকিস্তানের ‘অবৈধ দখলে’ থাকা অঞ্চলগুলো সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ দেয়া এবং জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি এখনো নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের সামরিক পরিকল্পনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কেও ভারত সচেতন। এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। সে অনুযায়ী সেনা মোতায়েন, নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় কেট মিডলটনের ২৪ ঘণ্টায় তিন পাহাড় জয়

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার চিকিৎসায় কেট মিডলটনের ২৪ ঘণ্টায় তিন পাহাড় জয়
ছবি : সিএনএন

ক্যান্সার জয় করা ক্যাথরিন, দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস এবার ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া জয় করেছেন। ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়ামসের স্ত্রী প্রিন্সেস অব ওয়েলস, যিনি কেট মিডলটন নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি সেরে ওঠার ঘোষণা দেন।

গত সপ্তাহে তিনি যুক্তরাজ্যের ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেন এবং জয় করেন। ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’-এ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অন্তর্গত তিনটি দেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বতচূড়ায় আরোহন করতে হয়। পর্বত তিনটি হলো, ১ হাজার ৩৪৫ মিটার উচ্চতার স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত বেন নেভিস, ৯৭৮ মিটার উচ্চতার ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত স্কাফেল পিক ও ১ হাজার ৮৫ মিটার উচ্চতার ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বত স্নোডন। থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ জিততে হলে পর্বতারোহীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি চূড়ায় উঠতে হয়। এতে আরোহীকে পায়ে হেঁটে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার চড়তে হয় আর এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে গাড়িতে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

নিছক অ্যাডভেঞ্চারের জন্য প্রিন্সেস এ অভিযানে যাননি। থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ জয় তার শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ তো বটে, তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল ক্যান্সার চিকিৎসার হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহ। প্রিন্সেস যে হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, সেই রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি প্রিন্সেসের এই পদযাত্রার জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ চালু করেছে।

এ চ্যালেঞ্জ জয়কে প্রিন্সেস ‘ডায়াগনসিস’এর গণ্ডি পেরিয়ে জীবনকে অন্বেষণ করার এবং প্রতিদানে কিছু দেওয়ার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রবিবার বেন নেভিসের চূড়ায় নিজের একটি ছবির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় কেট মিডলটন লিখেছেন, ‘ক্যান্সার কেবল শরীরকেই আক্রান্ত করে না। এটি আপনার চিন্তা ও অনুভূতির ধরন বদলে দেয় এবং জীবনের প্রতিটি দিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।’

নিজের ক্যান্সার চিকিৎসার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি জানি। চিকিৎসা চলাকালীন এবং এর পরবর্তী যাত্রা কেবল ওষুধের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে।’

প্রিন্সেস আরো বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে, আমি গুরুতর অসুস্থতার গভীর প্রভাব এবং সামগ্রিক যত্নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চাই।’ সামগ্রিক যত্নের ধারণায় ক্যান্সার আক্রান্ত একজন মানুষকে পুরোপুরি সমর্থন করা হয়; যেখানে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সুস্থতাকে এক সুতোয় গাঁথা হয়।’

ওয়েলসে এই চ্যালেঞ্জ শেষ করার পর, প্রিন্সেসের সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেখা করেন। যার মধ্যে ছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস, তাঁর তিন সন্তান— জর্জ, শার্লট ও লুই, তাঁর বাবা-মা—ক্যারল ও মাইকেল মিডলটন এবং তাঁর ভাই জেমস।

প্রিন্সেসের এ মহৎ উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি জানিয়েছে, ‘এটি ক্যান্সার আক্রান্ত আরো বেশি মানুষকে সামগ্রিক যত্নের সুবিধা পেতে সহায়তা করবে।’

রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্যালি পামার বলেছেন, ‘রয়্যাল মার্সডেনের প্রতি প্রিন্সেসের এই প্রতিশ্রুতি একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া মানুষদের প্রতি গভীর সহানুভূতি থেকে এসেছে। আমরা এই উদার সমর্থনের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যা বহু ক্যান্সার রোগী এবং তাঁদের পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’

উগান্ডার শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক
উগান্ডার শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান
ছবি : এপি

উগান্ডার শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা। ২৮ জুন (রবিবার) সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন তিনি। এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, যে  ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ বিশ্বাস করেন না।

মুহুজি কাইনেরুগাবা উগান্ডার দীর্ঘমেয়াদি প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। মুহুজি কাইনেরুগাবা বলেছেন, উগান্ডার দুটি প্রধান গণমাধ্যমকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ডেইলি মনিটর পত্রিকা এবং এনটিভি সম্প্রচার কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেন এবং জোর দিয়ে বলেন, এটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে তাঁকে অর্পিত ক্ষমতার আওতাধীন।

কেনিয়াভিত্তিক নেশন মিডিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন উগান্ডার অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দৈনিক পত্রিকা ডেইলি মনিটর এবং প্রধান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি উগান্ডা। 

এ ছাড়া একই গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান যেমন ডেম্বে এফএম, স্পার্ক টিভি, কেএফএম এবং দ্য ইস্ট আফ্রিকানের সম্প্রচার ও প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরো জানিয়েছেন, উগান্ডায় আমার ইচ্ছামতো যেকোনো গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে। ২০১৭ সাল থেকে এই ক্ষমতা আমার কাছে রয়েছে। এই ক্ষমতা আমাকে দিয়েছেন আমার মহান বাবা প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি।

এটা ‘কেবল শুরু’ এবং ‘আরো অনেককে গ্রেপ্তার করার’ হুমকি দেন এই সেনাপ্রধান।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন

অনলাইন ডেস্ক
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে টার্গেট করে পরিচালিত হয় না এবং এতে বাইরের কোনো দেশের প্রভাব থাকাও উচিত নয়। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে চীন। খবর এনডিটিভি

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা-বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। চীন বলেছে, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

Tista

গুও জিয়াকুন বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্পে চীন সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের আরো সমন্বয় এবং বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিময় বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।’

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ প্রকল্পের বিষয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে, যা আগে হয়নি। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।’

মূলত তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণার দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই করে। এর ফলে তিস্তা প্রকল্পের কাজ আরো এগিয়ে যায়।

ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। এই করিডরটি ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত।

ভারতের আশঙ্কা, চীনের উপস্থিতিসহ বাইরের কোনো দেশের প্রভাব এ অঞ্চলে বাড়লে তা তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরো বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এ গুরুত্বপূর্ণ করিডরের জন্য নতুন কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।