• ই-পেপার

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ

আদালতের রায় শুনে হাসলেন ইনু

অনলাইন ডেস্ক
আদালতের রায় শুনে হাসলেন ইনু
সংগৃহীত ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় থাকা আসামি ইনু হেসে ওঠেন।

এর আগে দুপুরে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

এর আগে গত ২২ জুন রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ইসতি মেডিক্যালের এমডি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ইসতি মেডিক্যালের এমডি কারাগারে
পুলিশের সঙ্গে আসামি মোহাম্মদ ফয়সাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভাগ্নিকে যৌন পীড়নের অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণের পর ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ফয়সাল। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন।

আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জমিসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে আসামির জামিন চেয়ে শুনানি করেন তারা।

অন্যদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। এ সময় তারা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আসামির জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ভিক্টিমের বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি মোহাম্মদ ফয়সাল বাদীর শ্যালক। ২০২৫ সালের ২১ জুন বিভিন্নভাবে বাদীর মেয়েকে (আসামির ভাগ্নি) ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। আসামি আপন মামা হওয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরী তার কথায় রাজি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। এই সময়ে আসামি নিজে ধূমপান করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীকেও ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে ধূমপানে অস্বীকৃতি জানায়।

এজাহারে বলা হয়, এ ঘটনার তিন দিন পর ২৪ জুন কিশোরীকে দুপুরে আসামি গুলশান থানাধীন কনকর্ড সিলভি হাইটস (৪র্থ তলা) ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলেন। তার কথায় রাজি হয়ে সে সেখানে যায় এববং লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের ব্যালকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, ওই রাতে গাড়িতে করে কিশোরীকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হন আসামি। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে তাকে গাড়ি চালানো শিখানোর কথা বলেন আসামি ফয়সাল। এ সময় ফয়সাল ওই কিশোরীকে ড্রাইভিং সিটে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন এবং তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করে এবং অসুস্থতার ভান করে বাসা যাওয়ার কথা বলে। পরে তাকে বাসায় পৌঁছে দেন ফয়সাল।

সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেনি ভুক্তভোগী কিশোরী। পরে গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় এলে তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালাগাল করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এ ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা ফয়সালকে বাদী করে মামলা করেন।

আদালতে ভাগ্নের সাজার রায় শুনে মামার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতে ভাগ্নের সাজার রায় শুনে মামার মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামি মো. মিঠুনসহ নয় আসামির পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ৩০ জুন ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় রায় শুনে আদালতে উপস্থিত থাকা মিঠুনের মামা আইয়ুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান বলেছেন, এই মামলার নয় আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র মিঠুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ সময় আদালতে উপস্থিত মিঠুনের মামা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। 

সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামিরা হলেন মুরাদ, ছাবির, রাজা, মাসুম হোসেন, মিঠুন, বিল্লাল, রাজা, ওয়াহিদুল সনু ও জুম্মন মিয়া। তারা সবাই পলাতক থাকায় সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। এ সময় এক হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনার দিন পুলিশ পরিদর্শক ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সাজেদুল হক। এতে আসামি মিঠুনসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরে ২০১৯ সালের ২৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছরের এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধে মো. আ. মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আ. মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ভাবনাবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে মমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আ. মমিন তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছেন। এসময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত মমিনের ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি এর কোনো বিচার না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণ করায়, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিলেন আদালত।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, দণ্ডিত আসামির ওপর আরোপিত দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমা করা অর্থ পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামি তদন্ত ও বিচার চলাকালীন যতটুকু সময় হাজতবাস করেছেন, তা তার মূল সাজা থেকে বাদ যাবে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ বলেন, ‘আমার মক্কেল মমিন সম্পূর্ণ নির্দোষ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের মধ্যে অনেক গরমিল ছিল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করব। আশা করি সেখানে তিনি খালাস পাবেন।’