বিশিষ্ট সাহাবি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে কোনো খাবারে উপস্থিত হতাম, তখন তিনি খাবার শুরু না করা পর্যন্ত আমরা তাতে হাত দিতাম না। (খাবার খেতাম না।) একবার আমরা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে কোনো এক খাবারের মজলিসে উপস্থিত হলাম। তখন একটি বাচ্চা মেয়ে এমনভাবে দৌড়ে খাবারে হাত দিতে এলো, যেন তাকে (পেছন থেকে) ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল। তখন মহানবী (সা.) তার হাতটাকে ধরে ফেললেন, তখন একজন বেদুইনও সেভাবে দৌড়ে এলো, যেন তাকে তাড়িয়ে আনা হচ্ছে। মহানবী (সা.) তার হাতও ধরে বললেন, যে খাবারে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয়, সেখানে শয়তান তার জন্য খাবারকে বৈধ করে নেয়, আর বাচ্চাটিকে শয়তানই মূলত নিয়ে এসেছে, যাতে তার মাধ্যমে সে নিজের খাবার বৈধ করতে পারে। কিন্তু আমি তো তার হাত ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। তারপর শয়তান এই বেদুইনকে নিয়ে এসেছিল, যাতে তার মাধ্যমেও শয়তান খাবার বৈধ করে নিতে পারে। আমি তার হাতও ধরে ফেললাম। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, ওই দুজনের হাতের সঙ্গে শয়তানের হাতও পাকড়াও করা হয়েছিল। তারপর মহানবী (সা.) আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার গ্রহণ করতে লাগলেন, (এবং উপস্থিত সাহাবিরাও তাঁর সঙ্গে খাবার খেতে শুরু করলেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫২৫৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩২৪৯)
শিক্ষা ও বিধান
১. খাবার শুরু করার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত। কেননা আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার শুরু করলে শয়তান তাতে অংশ নিতে পারে না।
২. শিশুদের ইসলামী আদব-কায়দা শেখানো অভিভাবকদের দায়িত্ব। তাই ছোটবেলা থেকেই ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার শুরু করানোর মধ্য দিয়ে এই অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
৩. শয়তান মানুষকে গুনাহ ও অসতর্কতার দিকে প্ররোচিত করে। তাই সর্বদা সচেতন থাকা এবং আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা জরুরি।
৪. শয়তানের কৌশল সূক্ষ্ম ও গোপন। সে কখনো শিশু বা অসচেতন ব্যক্তিকে মাধ্যম বানিয়ে মানুষকে সুন্নাহ থেকে দূরে সরাতে চায়।
৫. গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সত্যতা জোরালোভাবে বোঝাতে শপথ করা বৈধ। মহানবী (সা.) প্রয়োজনে আল্লাহর নামে শপথ করে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সারকথা, এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা শুধু একটি সুন্নত নয়; বরং এটি শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে খাবারকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই নিজেরা এ আমল করার পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানদেরও এর শিক্ষা দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য।




