• ই-পেপার

এসএসসির ফল প্রকাশ কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বাজেটে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ পেল কত

অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ পেল কত
সংগৃহীত ছবি

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এসব খাতে ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত ১৮৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বাজেটের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা রাজস্ব (পরিচালন) ব্যয় এবং ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং ইউজিসির গবেষণা বাজেট একীভূত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ইউজিসির বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা। এতে ইউজিসির গবেষণা খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে এ খাতে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব বরাদ্দ পেয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাদ্দের পরিমাণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো-  

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা
  • ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা
  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮২ কোটি ৯২ লাখ টাকা
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ৬২ কোটি ৮৭ লাখ
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা
  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা
  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা
  • নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা
  • কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা
  • নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা
  • মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা
  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা
  • রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ২১ কোটি ১৬ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ১৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা
  • চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ৬৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা
  • ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা
  • ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা
  • অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮ কোটি ২০ টাকা
  • শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা
  • হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা
  • মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা
  • পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা
  • নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা
  • যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
  • পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৬৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা
  • গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা
  • রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
  • জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২১ কোটি ৯০ লাখ টাকা
  • সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা
  • পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা
  • চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা
  • বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
  • চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা
  • রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা
  • খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
  • ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৭ কোটি ৫ লাখ টাকা
  • গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১০২ কোটি ৮২ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৫২ কোটি ১২ লাখ টাকা
  • শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা
  • খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা
  • হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা
  • কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা
  • রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা
  • সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ৬৩ লাখ টাকা
  • খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা
  • চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
  • বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ২৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা
  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা

শিগগিরই এনটিআরসির গণবিজ্ঞপ্তি, জানা গেল শূন্য পদের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক
শিগগিরই এনটিআরসির গণবিজ্ঞপ্তি, জানা গেল শূন্য পদের সংখ্যা
সংগৃহীত ছবি

দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

রবিবার (১৪ জুন) রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত শূন্যপদগুলো পূরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে, রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাত অত্যন্ত বড় একটি সেক্টর। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম থাকলেও সেগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।

এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) এবং আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা ও আসনবিন্যাস প্রকাশ করেছে। পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রের কোড, কেন্দ্রের নাম, ভেন্যু এবং আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ শিক্ষার্থীদের ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই তালিকায় ঢাকা জেলা ও মহানগরের অন্তর্গত বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র যেমন— ঢাকা (মূল কেন্দ্র), মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা-১ (আমুলিয়া), ডেমরা-২ (দারুন্নাজাত), উত্তরা, সাভার ও ধামরাইসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মাদরাসাগুলোকে সুনির্দিষ্ট কোড নম্বরসহ পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার আলিম পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম ও কোড তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ পরিচালনার জন্য একটি বিস্তারিত আসনবিন্যাস ও বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের সংশোধিত ও প্রতিস্থাপিত চিঠিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে কেন্দ্র ফির টাকা গ্রহণ করবেন। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অলিখিত উত্তরপত্রসহ অন্যান্য গোপনীয় কাগজপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবেন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা সদরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরীক্ষাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নীতিমালার কথা উল্লেখ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ডাকযোগে ওএমআরের প্রথম অংশ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কম্পিউটার কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরপত্রসমূহ পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা মোতাবেক সরাসরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভেন্যুকেন্দ্রসমূহ মূল কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় টাকা ও কাগজপত্র গ্রহণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবে এবং পরীক্ষা শেষে যাবতীয় নথিপত্র মূল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেবে। নির্বাচিত কলেজের অধ্যক্ষ বা সিনিয়র কোনো অধ্যাপক এই পরীক্ষার কেন্দ্র প্রধান বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র তালিকায় এবার বেশ কিছু নতুন কেন্দ্র যুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা অঞ্চলের ‘ঢাকা উইমেন্স কলেজ’ এবং খিলক্ষেতের ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। এ ছাড়া রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও আসনবিন্যাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এইচএসসির কেন্দ্রে ৩৫ নির্দেশনা

কক্ষে দুজন পরিদর্শক, চার ফুটের বেঞ্চে বসবেন একজন

অনলাইন ডেস্ক
কক্ষে দুজন পরিদর্শক, চার ফুটের বেঞ্চে বসবেন একজন

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, আকার অনুযায়ী কোনো বেঞ্চে কত শিক্ষার্থীর আসন, কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর সব কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় যা যা বলা হয়েছে—
১. নিয়মিত (সেশন ২০২৪-২৫) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

২. অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন ২০২৩-২৪ ও তৎপূর্বের) পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

৩. পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় ও বেলা ২টায় পরীক্ষা শুরু হবে।

৪. পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে বা থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই–সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।

৫. প্রশ্নপত্রের ২ সেট করে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) সেট, পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে নিরাপত্তা (সিকিউরিটি) খামে প্যাকেট করতে হবে।

৬. প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সাজিয়ে নিরাপত্তা খামে গাম লাগিয়ে এবং কার্টন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে।

৭. ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের নিকট থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের খাম (সৃজনশীল ২ সেট ও বহুনির্বাচনি ১ সেট) গ্রহণ করতে হবে।

৮. অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার  এবং পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (সিকিউরিটি খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।

৯. মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে ফয়েল প্যাকেটে অমোচনীয় কলম দিয়ে স্বাক্ষর করার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকবন্দী করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

১১. প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন।

১২. ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

১৩. সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে এবং পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।

১৪. পরীক্ষা শুরুর পূর্বে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হবে।

১৫. বোর্ড থেকে সরবরাহ করা নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।

১৬. ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁর কেন্দ্রের আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।

১৭. পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

১৮. ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করা যাবে না।

১৯. শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

২০. পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।

২১. পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লিখে দিতে হবে।

২২. নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালা করা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।

২৩. পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

২৪. পুরোনো ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরোনো সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।

২৫. উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন।

২৬. প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের লিখিত উত্তরপত্র পৃথকভাবে প্যাকেট করে লেবেল লাগিয়ে ‘বিশেষ পরীক্ষার্থী’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।

২৭. পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

২৮. পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে, তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই, সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

২৯. পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

৩০. পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের শৌচাগারগুলো তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে।

৩১. পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

৩২. ট্রেজারি/থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী/ট্যাগ অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর বোর্ডে পাঠাতে হবে।

৩৩. সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হবে।

৩৪. পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত খড়ি ব্যতীত অন্য কোনো ঘড়ি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

৩৫. যেসব কেন্দ্র থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে উত্তরপত্র প্রেরণ করা হয়, সেসব কেন্দ্র থেকে অবশ্যই প্রতিদিনের উত্তরপত্র প্রতিদিন রেলযোগে পাঠাতে হবে। যদি রেলযোগে পাঠানো না যায়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।