ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটা কাটার দায়ে আটজনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। মামলায় তিন চালকসহ আটজনের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাতনামা আরো ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার গভীর রাতে ইটভাটায় মাটি নেওয়ার সময় তিন ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় পাঁচটি ড্রাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ট্রাকচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. হৃদয় ও আবু রায়হান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলার মহিশাষী গ্রামের রাতুল, শোলধন গ্রামের জুয়েল, মধুডাঙ্গা গ্রামের রাফি মোহাম্মদ সজিব ও সুরুজ আহমেদ।
স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট ও ইটভাটার মালিকদের দৌরাত্ম্যে ধামরাইয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা সত্ত্বেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে এই ধ্বংসলীলা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। ফলে দিনদিন কৃষি জমি কমে আসছে, কৃষিপণ্য উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক জমির মালিক সাময়িক লাভের আশায় মাটি বিক্রি করে দেন, যা আশপাশের অন্যের কৃষি জমির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি জমির এই নীরব ধ্বংস যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় সাধারণ কৃষকরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে ভেকু জব্দ করছে। সেটা আবার জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জরিমানা দিয়ে পুনরায় চক্রগুলো মাটি কাটা শুরু করায় স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন বলেন, ফসলি জমির মাটিকাটা বন্ধে প্রতিরাতেই অভিযান পরিচালনা করে ভেকু ও ট্রাক জব্দ করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এরপরও মাটিকাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ায় ফলে গোটা ধামরাই এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মতো জমি পাওয়া যাচ্ছে না।
এমপি জানান, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটিকাটা বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




