• ই-পেপার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ত্রুটি উদ্বেগজনক নয় — এনপিসিবিএল

জামালগঞ্জ

পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

ধান বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় কৃষক দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ
বস্তা সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবার উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনে। ছবি: কালের কণ্ঠ

চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসে। তবে বস্তা সংকটের কারণে উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষক।

‎উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই  হাজার ৩৭৩ টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পাটের বস্তার সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

‎এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট দূর করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন।

‎কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘দিনদশেক আগে আমি ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার কারণে ধান দিতে পারছি না।‘

‎সজল সরকার নামের কৃষক বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে ধান দিতে না পারায় খুব সমস্যায় আছি। ধান বিক্রি করছি টাকার জন্য। কিন্তু সময়মতো টাকা না পেলে পরে টাকা দিয়ে কী হবে।’

‎উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করেছি। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা না, সুনামগঞ্জ জেলার গুদামেও বস্তা সংকট চলছে। আমাদের উপজেলায় আপাতত ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘‎আমরা বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি  শিগগিরই বস্তা চলে আসবে। তখন পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’

মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সালথায় ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি বাবু মোল্যা গ্রেপ্তার

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সালথায় ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি বাবু মোল্যা গ্রেপ্তার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সালথায় মো. খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা (৪৮) নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।‎ সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ‎উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মৃত আব্দুল কুদ্দুছ মোল্যার ছেলে। তিনি সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা পলাতক ছিলেন। কয়েক মাস ধরে তিনি মাঝে মাঝে গোপনে এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করেন।

সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান বাবু মোল্যার বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নটখোলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হবে।’

মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস নিলেন ইউএনও

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস নিলেন ইউএনও
ছবি: কালের কণ্ঠ

দাপ্তরিক ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিতভাবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন মধ্যনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ। শুধু পরিদর্শন নয়, অনেক সময় তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে নিজেও পাঠদান করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে তিনি চামরদানী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি ইংরেজি ক্লাস নেন। হঠাৎ একজন ইউএনওকে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ক্লাসে তিনি ইংরেজি বিষয়ের বিভিন্ন বিষয় সহজভাবে উপস্থাপন করেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ইউএনও স্যার খুব সুন্দরভাবে ক্লাস নিয়েছেন। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তিনি পাঠ সহজ করে বুঝিয়েছেন এবং কিভাবে সহজে বিষয়গুলো মনে রাখা যায় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ক্লাসটি ছিল শিক্ষণীয় ও আনন্দদায়ক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জিলানী বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি যেভাবে শ্রেণিকক্ষে এসে পাঠদান করেছেন, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরো আগ্রহী করে তুলবে।

ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াতে আমি আনন্দ পাই। জ্ঞান বিতরণের মতো তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ হয়। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে শিক্ষা খাতে সামান্য অবদান রাখতে পারাও আমার জন্য গর্বের বিষয়।