জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “Plant a tree today, let a child breathe tomorrow” (আজকের একটি গাছ, আগামীকাল আপনার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস)—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসের খান (অপু)-এর অর্থায়নে উপজেলার ১৩৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে ফলজ,বনজ এবং ওষধি - এই তিন জাতীয় দেড় হাজার চারাগাছ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আজিজ। এছাড়াও গাছের উপকারিতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ এবং চরলহনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আজিজ তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে যে ১০টি করে চারাগাছ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঠিক যত্ন নিতে হবে। শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, নিয়মিত সার-পানি দেওয়া এবং গাছগুলো রক্ষায় উপযুক্ত বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন আগামী ছয় মাস বা এক বছর পর গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন ব্যারিস্টার নাসের খান অপুর এই মহতি ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী মানুষ। বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে তার এই অবদান প্রশংসনীয় এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা আঙিনায় তার স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে চারাগাছ সংগ্রহ, পরিবহন ও সুশৃংখলভাবে বিতরণের পেছনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম।
উক্ত কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উজানচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোহাম্মদ আলী পলাশ, হোগলাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শাহজালাল টিপু, আছমা জাহান শম্পা, আছাদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইরফান মিয়া, বকুল আহমেদ, ঝুটন সরকার, দরিয়াদৌলতের আহাদ খান, আব্দুল্লা আল মামুন, মাখন মিয়া, মোজাফফর রহমান, সৈয়দ ওসমান গনি, সামছুল আলম এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। পরিশেষে, বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা ও পরিবেশের সামগ্রিক কল্যাণে ব্যারিস্টার অপুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের এই ধরনের নিঃস্বার্থ ও জনকল্যাণমুখী কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।




