• ই-পেপার

ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলায় হামে শিশুরা মারা গেছে : নাসিক প্রশাসক

রংপুরে

নুজসাত মৃত্যু মামলায় এক দিনের রিমান্ডে সাকিন, জামিন নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর
নুজসাত মৃত্যু মামলায় এক দিনের রিমান্ডে সাকিন, জামিন নাকচ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরে এইচএসএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম সাকিনের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী তিন দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে সকালে কারাগার থেকে সাকিনকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল আলামত উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করে। তারা দাবি করেন, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রংপুর নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। পরদিন তার বাবা নজরুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত ১৬ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাকিন ও নুজশাত ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড ফোনে কথা বলেন। গত তিন মাসে তাদের মধ্যে ১১৮ বার ফোনালাপ এবং অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদান হয়েছে। এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রয়োজনীয় আইনি উপাদান এজাহারে নেই। দুটি মোবাইল ফোনই পুলিশের কাছে রয়েছে। তাই রিমান্ডের প্রয়োজন ছিল না। রিমান্ড শেষে তারা আবার জামিনের আবেদন করবেন।

এদিকে নুজসাতের পরিবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত নারীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত নারীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় উসনাই বেগম (৬০) নামের আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৭ জুন) তার মৃত্যু হয়।

রবিবার (২৮ জুন) ময়মনাতদন্ত শেষে নিহত উসনাই বেগমের মরদেহ এলাকায় এনে দাফন করা হয়েছে। নিহত উসনাই বেগম ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। গত ২৪ জুন (বুধবার) রাতে জমির সীমানা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন ইউপি মেম্বার শহীদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম ও স্বপ্না বেগম। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উসনাই বেগমের পরিবারের সঙ্গে বাড়ির জমির সীমানা নিযে প্রতিবেশি আব্দুল হালিম, ডালিম মিয়া ও ছানা মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হালিমের লোকজন উসনাই বেগম ও তার ছেলে স্বপন মিয়ার (২৫) ওপর হামলা করলে মা-ছেলে দুজনই আহত হন। গুরুতর আহত উসনাইকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে শুক্রবার রাতে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার সকাল ১০টায় সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই উসনাই বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উসনাই বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে খানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠনোর নির্দেশ দিলে তাদেরকে জেলা কারাগাওে পাঠানো হয়।

ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে পূর্বে যে মামলা করা হয়েছে, সেটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। সেই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নেত্রকোনা

আর্জেন্টিনা-জর্দান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ভাঙচুর

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনা-জর্দান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ভাঙচুর
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আর্জেন্টিনা বনাম জর্দান ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্দানের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় উত্তেজিত ফুটবলপ্রেমীরা কেন্দুয়া বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছিল। রবিবার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্দানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সেই ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। তাদের দাবি, এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এক পর্যায়ে জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্দানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক অফিসে ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি মৌখিকভাবে থানায় জানানো হয়েছে। 

এজিএম বলেন, আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 

অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দামুড়হুদা

ভৈরবের ভাঙনে সড়ক বিলীন

ঝুঁকিতে নদপারের বসতবাড়ি

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
ভৈরবের ভাঙনে সড়ক বিলীন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ভেঙে ভৈরব নদে বিলীন হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ভৈরব নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদতীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতবাড়ি। 

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার ও নদীতীর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে একাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিভাঙ্গা গ্রামের একটি মহল্লার পানি দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের ওপর দিয়ে ভৈরব নদীতে প্রবাহিত হয়। এতে সড়কটির নিচের মাটি সরে যায় এবং এক পর্যায়ে তা  ধসে পড়ে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও নদীর পানির চাপ বাড়ায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। এরই মধ্যে সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে  এলাকাবাসী। 

নদতীরের বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, ৩০ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করেছি। সড়কের পাশে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমার ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে। এতে আমি পথে বসে যাব। একই কথা বলেন একই এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন। তারা বলেন, এখানে আরো দুইটি বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিবার দুটি ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল হাসান বলেন, সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে আরো বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। তিনি জানান, নদ থেকে ১০০ গজ দূরে সড়কের পাশে আরো ৩০-৪০টি পরিবারের বসবাস। দ্রুত মেরামত করা না হলে পরিবারগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। 

উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, সড়কটির বিষয়ে জানতে পেরেছি, দ্রুত পরিদর্শনে যাব। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন আলম বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।