মোংলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষিকা লাঞ্ছনার ঘটনায় করা মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা তুলে নিতে তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠাতে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে মব তৈরির অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৭ জুন মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পশ্চিম বাজিকরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ফারুকুল ইসলাম মৃধা ও জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বিদ্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
তারা অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালায়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে। আসবাবপত্রও ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানম (৪৮)-কে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ফেলে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানম মোংলা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় ফারুক মৃধাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
নাজমী খানম অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকেই আসামি ও তাদের সহযোগীরা তাকে এবং তার স্বামীকে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা না তুললে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশও তৈরি করা হয়েছে। এতে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার স্বামী মো. তরিকুল মৃধার মালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে হামলা চালানো হয়েছে। সেখান থেকে মাছ লুট করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি ফারুক মৃধা। তার দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে রয়েছেন। হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মামলার আসামিরা পলাতক। তাই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাদীপক্ষ নতুন করে হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





