• ই-পেপার

একসঙ্গে ৩ কিংবদন্তিকে পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে

হালান্ডের জোড়া গোলে ইরাককে উড়িয়ে দিল নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
হালান্ডের জোড়া গোলে ইরাককে উড়িয়ে দিল নরওয়ে
গোলের পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

বোস্টন স্টেডিয়ামে ৮২ মিনিটের গোলটি পেলে আর্লিং হালান্ডের অভিষেকটা সোনায় সোহাগা হতো। বিশ্বকাপ অভিষেকে হ্যাটট্রিক পেতেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। হ্যাটট্রিক না পেলেও তার দল বড় জয় পেয়েছে। 

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে নেমে আজ ইরাকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। 

বিস্তারিত আসছে...
 

দেখে নিন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
দেখে নিন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ
মাঠে নামার আগে শেষ প্রস্তুতি সারছেন বল পায়ে মেসি। ছবি : রয়টার্স

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে নাকি রক্ষা করা কঠিন। সেই কঠিন কাজটা করতেই এবারের বিশ্বকাপে নামবে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু হবে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

প্রথম ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনির সেনারা কারা হবেন তা জানা গেছে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে লিওনেল মেসিকে নিয়েই একাদশ সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে আছেন লাওতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদা।

 

বিপরীতে প্রথম ম্যাচে গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে যে শঙ্কা জেগেছিল সেটা দূর হয়েছে। তিন কাঠির নিচে অ্যাস্টন ভিলার গোলরক্ষকের হাতেই দায়িত্ব থাকছে আর্জেন্টিনার গোল বাঁচানোর। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলবে আলবিসেলেস্তারা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।

স্বপ্নের অভিষেক হালান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
স্বপ্নের অভিষেক হালান্ডের
অভিষেকে গোল করেছেন হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

স্বপ্নের অভিষেক আর্লিং হালান্ডের। বিশ্বকাপের অভিষেকে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনি। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ অবশ্য আছে তার সামনে। এখনো অর্ধেক ম্যাচ বাকি। 

তবে ইতিমধ্যে একটা দুর্দান্ত মাইলফলক গড়েছেন হালান্ড। ২৯ মিনিটে অভিষেক গোল পান তিনি। তাতে অভিষেকে গোল পাওয়ার দারুণ কীর্তি গড়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচে গোল করার কীর্তিটা এবার বিশ্বকাপেও টেনে আনলেন তিনি।

 

আজ ইরাকের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে গোল করা হালান্ড এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, বুন্দেসলিগা ও প্রিমিয়ার লিগে। বিরতিতে যাওয়ার আগে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়েছেন তিনি। 

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পাওয়া হালান্ডের গোলটিতে অবশ্য অবদান রয়েছে ইরাকের এক ডিফেন্ডারের। সেই ডিফেন্ডার ব্যাক পাস করলে গোলরক্ষক জালাল হাসান দ্রুত শট নিলে একদম কাছাকাছি থাকা হালান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল। তার জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে নরওয়ে।

প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ২-১। ৩৯ মিনিটে ইরাকের হয়ে ব্যবধান কমান আয়মান হুসেইন। যোগ করা সময়ে অবশ্য সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। কিন্তু তাদের কপাল খারাপ। তৃতীয় মিনিটে ইব্রাহিম বায়েসের শট অবিশ্বাস্যভাবে ব্লক করেন মোলার উলফ। ২ মিনিট পর অল্পের জন্য একটি শট বাইরে যায়। আবার রেফারি বিরতির বাঁশি দেওয়ার আগে আকাম হাশিমের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

এমবাপ্পের রেকর্ড গোলের রাতে ফ্রান্সের দাপুটে জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের রেকর্ড গোলের রাতে ফ্রান্সের দাপুটে জয়
জয়ের নায়ক এমবাপ্পেকে ঘিরে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধে অনেকটা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-মাইকেল ওলিসেরা। বিরতির পর চেনা রূপে ফিরলেন তারা। আর সেটাই কাল হলো সেনেগালের। প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের বিপরীতে অন্যটি করেছেন বদলি নামা ব্র্যাডলি বার্কোলা।

তবে নিউ জার্সি/নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ভালো খেলে সেনেগালই। ২৫ মিনিটে তো গোল প্রায়ই পেয়েই গিয়েছিল তারা। ভাগ্যে পাশে থাকলে নিকোলাস জ্যাকসনের নামের পাশে গোল থাকত। কিন্তু তার নেওয়া শটটি ডান পাশের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য এতটাই খারাপ যে, পোস্টে লেগে ফিরে আসা বলটি ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁর শরীরে লেগে জালে নয়, বাইরে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন ইসমাইল সার। কিন্তু প্লেস করতে গিয়ে যেভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বলটি মারলেন, তার ব্যাখ্যাই আসলে হয় না। ৬ গজ দূরত্ব থেকে গোলরক্ষক মেনিয়ঁকে একা পেয়েও উড়িয়ে মারলেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড।

ফ্রান্স সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় ৫২ মিনিটে। তবে মাইকেল ওলিসেকে হতাশ করেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। তার শটটি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্ডি। ৫ মিনিট পর আরেকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন তিনি। বক্সের মধ্যে থেকে ৫৭ মিনিটে নেওয়া এমবাপ্পের শট সামনে বেরিয়ে এসে পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্ডি।

ফিরতি মিনিটে পেনাল্টির আবেদন করেছিল ফ্রান্স। তবে ভিএআরে দেখার পরেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি। হয়তো এমবাপ্পে বক্সে পরে যাওয়ার আগে সাদিও মানের কোনো ধরনের সংস্পর্শ না হওয়াতেই। ৬৪ মিনিটে ফ্রান্সকে লিড এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ডি বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্স চেরা পাস দিয়েছিলেন ওলিসে। 

তবে এমবাপ্পে বলের নাগাল না পাওয়ায় গোলরক্ষক মেন্ডি বল ধরে ফেলেন। ৬৬ মিনিটে অবশ্য ঠিকই জালের দেখা পেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ১২ গজের কাছাকাছি থেকে ফ্রান্সকে উদযাপনের মুহূর্ত এনে দেন তিনি। তাকে অবিশ্বাস্য পাসটি দেন ওলিসে।

এই গোলে অলিভিয়ের জিরুকে ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন দুজনই। তাদের গোলসংখ্যা ৫৭। ২ মিনিট পরেই সমতায় ফিরেছিল সেনেগাল। তবে গোল করা আগে জ্যাকসন অফসাইড হওয়া তা বাতিল হয়। 

৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। তবে পিএসজির ফরোয়ার্ডের শট কর্নারের বিনিময়ে সেভ করেন মেন্ডি। ৮০ মিনিটে জ্যাকসন সতীর্থর ক্রসটা ঠিকমতো জালে রাখতে পারলে সমতায় ফিরতে পারত সেনেগাল।

উল্টো ৮২ মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে সেনেগাল। বদলি নেমে গোলটি করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। আদ্রিয়েন রাবিওটের পাস থেকে সহজেই গোলরক্ষক মেন্ডিকে পরাস্ত করেন তিনি। 

যোগ করা সময়ে ব্যবধানে কমিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ের জোরালো শট গোলরক্ষক মেনিয়েঁর হাতে লাগলেও পাওয়ার কারণে ঠিকই জালে জড়ায়। তবে ম্যাচে আর ফেরা হয়নি সেনেগালের। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে যে ব্যবধান ৩-১ করেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটের নিজের জোড়া গোলটি করেন তিনি। তাতে জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনেছেন তিনি (৫৮)।

লিওনেল মেসিকেও পেছনে ফেললেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন দুইয়ে তিনি। ১৪ গোল তার। মেসির ১৩টি। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা।