• ই-পেপার

বিশ্বকাপে কবে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে টানটান উত্তেজনা। চলমান টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্ট। আর তাতেই ফুটবলবিশ্বে নতুন করে রোমাঞ্চের হাওয়া বইতে শুরু করেছে— আবারও কি দেখা হচ্ছে এই দুই চিরশত্রুর?

চলমান আসরে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপ এবং ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট কেটেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউটের এই ধাপ পার হতে পারলে দলগুলোকে খেলতে হবে শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের বৈতরণী। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর খবর হলো, ফাইনালের আগেই মাঠে গড়াতে পারে ‘সুপার ক্লাসিকো’।

অবশ্য হাইভোল্টেজ এই মহারথ দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজ নিজ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সফলভাবে টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নকআউট নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ মেলাতে আলবিসেলেস্তেদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত। মেসিরা যদি গ্রুপসেরা হতে পারে, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল।

অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপপর্বের শুরুটা করেছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে। তবে পরের দুই ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফেরে সেলেসাওরা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে পা রেখেছে তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ (নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে যেকোনো একটি দল)।

পরিসংখ্যানের পাতায় দুই দলের লড়াই সবসময়ই সেয়ানে সেয়ানে। এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল ১০৬টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জয় ৪১টি ম্যাচে, আর ব্রাজিল জিতেছে ৩৯টিতে। বাকি ২৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। এবার সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির দেখা হলে সেই লড়াই যে আরও জমজমাট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বে ‘৭-১’ সংখ্যাটি শুনলেই ব্রাজিল সমর্থকদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে সেই দুঃস্বপ্নের পরাজয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে একই সংখ্যা এবার সেলেসাওদের জন্য নিয়ে এলো স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন আশার বার্তা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ শেষে ব্রাজিল করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে কার্লো আনচেলত্তির দল ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এ জায়গা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর একটি গোল যোগ করেন মাথেউস কুনিয়া। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

গ্রুপ পর্বে ৭ গোল করে মাত্র ১ গোল হজম করার ঘটনা ব্রাজিলের জন্য নতুন নয়। সর্বশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপেও একই পরিসংখ্যান ছিল সেলেসাওদের। সেবার ক্রোয়েশিয়াকে ১-০, অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ এবং জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিখুঁতভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল তারা।

এবারও আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড—তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

আরো একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন মাত্র চারজন—জর্জিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদো (২০০২)। আর প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছিল ব্রাজিলের হাতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

গ্রুপে সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড এখন সেরা তৃতীয় দলের আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। আর তিন ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে হাইতি।

আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপসেরা হয়ে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বের টিকিট কেটে ফেলেছে। ফলে রবিবার জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য স্রেফ নিয়মরক্ষার। আর এমন এক সমীকরণের ম্যাচে শুরুর একাদশে বড়সড় ওলটপালটের আভাস দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশেষ করে দলের দুই প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে নতুন ছক কষছেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের জোরালো গুঞ্জন, নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বাড়তি চাপ থেকে দূরে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামাটা প্রায় নিশ্চিত। ধাপে ধাপে ফিটনেস ধরে রাখার পরিকল্পনায় মেসিকে হয়তো পুরো ম্যাচ খেলানো হবে না। তিনি কি শুরুর একাদশে থাকবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন—সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচ শুরুর আগেই নেবেন স্কালোনি। চলমান বিশ্বকাপে ৫ গোল করে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন বুটের রেসে সবার ওপরে আছেন এই কিংবদন্তি।

মেসির পাশাপাশি অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়েও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ। সম্প্রতি ডান হাতের অনামিকায় চোট পেয়েছিলেন এই বাজপাখি। অবশ্য চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে গ্লাভস হাতে মাঠে নামার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এমি। শেষ পর্যন্ত স্কালোনি তাকে সবুজ সংকেত দেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে নিয়মিত একাদশের একঝাঁক তারকাকে বিশ্রামে দেখা যেতে পারে।

অস্ট্রিয়া ম্যাচে হালকা চোটের কারণে বাইরে থাকা গঞ্জালো মন্তিয়েল ফিরতে পারেন রক্ষণভাগে। নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে সেন্টার ব্যাকে জুটি বাঁধতে পারেন মার্কোস সেনেসি কিংবা ফাকুন্দো মেদিনা। আর বাঁ প্রান্ত সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগেও বড় পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের আগের প্রস্তুতি ম্যাচের কৌশলকে মাথায় রেখে সাজানো হতে পারে রবিবারের একাদশ।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন এজেকিয়েল পালাসিওস অথবা ভ্যালেন্তিন বারকো। উইংয়ে গতি বাড়াতে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমিওনে ও জিওভানি লো সেলসো।

আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে সুযোগ মিলতে পারে হোসে লোপেজেরও।

আর যদি মেসিকে শুরুর একাদশে না রাখা হয়, তবে মাঠে তার চেনা ভূমিকা ও সৃজনশীলতা সামলানোর গুরুদায়িত্ব পড়তে পারে তরুণ তুর্কি নিকোলাস পাজের কাঁধে। 
 

ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন
ছবি : রয়টার্স