• ই-পেপার

অবসরের বিষয়ে কী বললেন রোনালদো

৮৮ বছর পর নকআউটে জয়, শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
৮৮ বছর পর নকআউটে জয়, শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে এনদোয়ের (মাঝে) উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

ফাঁকা গোলবার পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে মিস করলেন ফাবিয়ান রেইডার। ৮১ মিনিটে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সুযোগটা মিস করলেও তাতে অবশ্য জয় পেতে সমস্যা হয়নি সুইজারল্যান্ডের। কেননা তার আগেই ২-০ গোলের লিড পায় সুইসরা।

সেই ব্যবধানেই পরে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা দলটির হয়ে গোল দুটি করেছেন ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ে। এতে করে ৮৮ বছর পর নকআউটে প্রথম জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। সর্বশেষ ১৯৩৮ বিশ্বকাপে নকআউটে জিতেছিল তারা।

ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল পায় সুইজারল্যান্ড। সতীর্থ জোহান মানজাম্বির পাসে ৬ গজ দূরত্ব থেকে গোলটি করতে ভুল করেননি এমবোলো। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এমবোলোর সেই গোলে পরে বিরতিতে যায় সুইজারল্যান্ড।

বিরতির পরপরেই লিড দ্বিগুণ করে সুইজারল্যান্ড। ৪৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন এনদোয়ে। বিপরীতে ব্যবধান কমানোর তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আলজেরিয়া। আর শেষ দিকে রেইডারের সেই অবিশ্বাস্য ভুল। গোলে শট নিলেও ঠিকমতো পাওয়ার দিতে না পারায় প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন।

জুটি বাঁধছে পাকিস্তান-সৌদি আরব, স্টেডিয়াম নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই

ক্রীড়া ডেস্ক
জুটি বাঁধছে পাকিস্তান-সৌদি আরব, স্টেডিয়াম নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই
জেদ্দায় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণে চুক্তি হয়েছে পাকিস্তান-সৌদি আরবের। ছবি : এক্স থেকে

জুটি বাঁধছে পাকিস্তান-সৌদি আরব। জেদ্দায় ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি করতে সমঝোতা চুক্তি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও সৌদি আরবের ক্রিকেট ফেডারেশন (এসএসিএফ)। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজকের এই অংশীদারিত্ব কেবল জেদ্দায় একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হলো যৌথ আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বস্ত অংশীদারিত্ব এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌদি আরবে ক্রিকেটের একটি দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।’

সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর করেন দুই বোর্ডের সভাপতি। পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভি ও এসএসিএফের সভাপতি প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন মোহাম্মদ আল সৌদ। চুক্তির বিষয়ে নাকভি বলেছেন, ‘সৌদি আরবের এই রোমাঞ্চকর ক্রিকেটযাত্রায় অবদান রাখতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। একসঙ্গে এমন এক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি যা খেলাটিকে আরও শক্তিশালী করবে। আমাদের ক্রিকেটপ্রেমী জনগোষ্ঠীকে কাছাকাছি নিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে এক দীর্ঘস্থায়ী গৌরবময় অধ্যায় রেখে যাবে।’

১৯৬০ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান ও ভারতের অভিবাসীদের হাত ধরে সৌদি আরবে ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০০৩ সালে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) এফিলিয়েট (অনুমোদিত) সদস্যপদ লাভ করে। আর ২০১৬ সালে তা সহযোগী সদস্যপদ পায়।

জোতাকে উৎসর্গ পর্তুগালের রোমাঞ্চকর জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
জোতাকে উৎসর্গ পর্তুগালের রোমাঞ্চকর জয়
জোতার জার্সি হাতে ফটোসেশন রোনালদোদের। ছবি : রয়টার্স

বেঁচে থাকলে আজ হয়তো টরন্টো থাকতেন ডিয়েগো জোতা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে সাক্ষী হতেন তিনিও। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-বেনার্দো সিলভাদের। 

আজকের দিনেই স্পেনের জামোরা প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন জোতা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার। সতীর্থকে হারানোর দিনে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পর্তুগাল। 

রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর তাই জোতাকে ভুললেন না রোনালদোরা। ম্যাচ জয়ের পর তার জার্সি নম্বর ২১ হাতে নিয়ে পর্তুগালের সকলে একসঙ্গে ছবি তুললেন। জার্সিটা হাতে নিয়ে ছবি তোলার আগে রোনালদো গায়েও জড়িয়েছিলেন। সে সময় ‘সিআর সেভেনের’ চোখে চিকচিক করছিল জল। সেই ভেজা চোখেই আকাশের পানে চেয়ে সতীর্থকে স্মরণ করেন তিনি। 

 

পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলেছেন জোতা। করেছেন ১৪ গোল। ম্যাচে নামার আগেই সতীর্থর মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেছেন, ‘এটা ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম। এটা সত্যিই আবেগঘন একটা মুহূর্ত ছিল। আজ জীবনের অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয়টা নিয়ে দলের সবাই মিলে কথা বলছিলাম, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

জোতাকে অবশ্য বিশ্বকাপের শুরু থেকেই স্মরণ করছে পর্তুগাল। অন্যরা ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করলে পর্তুগিজরা তাকে নিয়ে ২৭ দলের স্কোয়াড সাজায়। জোতা সব সময় তাদের সঙ্গে আছে জানিয়ে জয়টা তাকে উৎসর্গ করেছেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘আমরা জানি সে আমাদের সঙ্গেই আছে। তাকে সবচেয়ে সুন্দর উপায়ে সম্মান জানানোর জন্য আজকের এই জয়টা খুবই দরকার ছিল।’

টরন্টোয় প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ইভান পেরিসিচের গোল পেনাল্টিতে শোধ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন গঞ্জালো রামোস। এতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।

মহানাটকীয় জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

ক্রীড়া ডেস্ক
মহানাটকীয় জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি যারা দেখেছেন, তারা হয়তো বহুদিন মনে রাখবেন ফুটবলের এই অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মনে হতে পারে, এমন রুদ্ধশ্বাস, নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধ শেষ কবে দেখেছিল বিশ্ব ফুটবল?

খেলার প্রথমার্ধটা যদি হয় শান্ত নদীর মতো, তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল উত্তাল সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস। ভাঙা-গড়ার এই খেলায় নাটকের শুরুটা হয় ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। পিছিয়ে পড়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে পর্তুগাল। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর এক নান্দনিক ফিনিশিংয়ে উল্লাসে মেতেছিল পর্তুগিজ শিবির, কিন্তু ভাগ্য দেবী তখনো মুচকি হাসছিলেন। অফসাইডের খাঁড়ায় কাটা পড়ে সেই গোল।

তবে সিআরসেভেনকে কি আর বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়? ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান এই মহাতারকা। এরপর নাটকের চিত্রনাট্য বদলায় দ্রুত। এবার ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। একটু পরই এক বুক হতাশা নিয়ে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোকে, ডাগআউটে বসে তখনো হয়তো ভাবছিলেন ম্যাচের ভাগ্যে কী আছে।

ম্যাচের বয়স যখন ৯৪ মিনিট, তখন পর্তুগাল শিবিরে আনন্দের জোয়ার ভাসিয়ে দেন বদলি নামা গনসালো রামোস। বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন ২-১ ব্যবধানে। গ্যালারিতে তখন পর্তুগিজদের উৎসব, সবাই ধরেই নিয়েছিল ম্যাচের গল্প ওখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন আরও বড় কোনো ক্লাইম্যাক্স জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ মুহূর্তের জন্য!

ঘড়ির কাঁটা তখন ৯০+১৩ মিনিট ছুঁয়েছে। অবিশ্বাস্য এক আক্রমণে গোল করে বসল ক্রোয়েশিয়া! সমতায় ফেরার আনন্দে বন্য উল্লাসে মাতল ক্রোয়াটরা। দীর্ঘ উদযাপনে যখন ম্যাচ শেষের আবহ তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই রেফারির বাঁশি। ভিএআর মনিটর দেখে রেফারি জানিয়ে দিলেন, গোলটি অফসাইড!

মুহূর্তেই ক্রোয়েশিয়ার ডাগআউটে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। বাঁধভাঙা আনন্দ রূপ নিল বিষাদে।

কিছুক্ষণ আগের হতাশ রোনালদোর মুখে তখন চওড়া হাসি, আর অন্যপ্রান্তে মাঠের ওপর বিষাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন লুকা মদরিচ। এই জয়েই শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল পর্তুগাল। আর মদরিচরা ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।