• ই-পেপার

‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

৪ মাসে হামলামুক্ত একটি দিন পেল লেবানন

অনলাইন ডেস্ক
৪ মাসে হামলামুক্ত একটি দিন পেল লেবানন
সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরের মার্চে লেবাননে শুরু হয় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত। দফায় দফায় যুদ্ধবিরতির কথা শোনা গেলেও বন্ধ হয়নি হামলা। লাগাতার এই হামলা প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানি হয়েছে সেখানকার মানুষের। তবে চার মাস ধরে চলমান এই হামলা পাল্টা হামলার মধ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গত রবিবার। সেদিন দু’পক্ষের মাঝে কোনো ধরনের হামলা ঘটনা হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতো গত রবিবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতে প্রথমবারের কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করেনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা।

জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গত রবিবার ছিল এমন একটি দিন, যেটা সংঘাম শুরুর পর প্রথম দিনের মতো দক্ষিণ লেবাননে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করেনি শান্তিরক্ষীরা। একইসঙ্গে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিহত করার ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করেনি তারা।

তিনি বলেন, ‘সোমবার সকাল পর্যন্তও এই ধরনের সামরিক কার্যক্রমের অনুপস্থিতি অব্যাহত ছিল।’

এই পরিস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে দুজারিক বলেন, ‘আমরা সংঘাতের এই হ্রাসকে স্বাগত জানাই এবং সেখানে থাকা মানুষের স্বার্থে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) এখনো তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক স্থল তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাঁজোয়া যান চলাচল, প্রকৌশল কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক কার্যক্রম।

এছাড়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাও এখনও দেখা যাচ্ছে, যদিও এর মাত্রা আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে জানান তিনি।

দুজারিকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইউএনআইএফআইএল ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিমান হামলা এবং মোট ৪৫১টি গোলাগুলির ঘটনা শনাক্ত করেছিল। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেটের গতিপথও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জাতিসংঘের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা কমে আসার লক্ষণ দেখা গেলেও স্থল পর্যায়ে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি এবং পরিস্থিতি এখনো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সব কৌশলগত আলোচনা দ্রুত চালুর আহ্বান চীনের

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের সঙ্গে সব কৌশলগত আলোচনা দ্রুত চালুর আহ্বান চীনের
সংগৃহীত ছবি

চীন ও ভারতের মধ্যে স্থগিত থাকা বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনা দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, এই দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগ, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো বাড়ানো উচিত।

সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন ওয়াং ই। মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারতের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, সীমান্ত বিরোধকে এমনভাবে সামাল দিতে হবে, যাতে তা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বেশিরভাগ কৌশলগত আলোচনার অচলাবস্থায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য এসেছে। এর আগে চলতি মাসে ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সরকার পর্যায়ে প্রায় ৫০টি কৌশলগত আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এর বেশিরভাগই এখনো বন্ধ অবস্থায় আছে।

সোমবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে ওয়াং ই ও অজিত ডোভালের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলেও মত দেন তারা। তবে বাস্তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর মতো বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আলোচনাও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের জন্য অজিত ডোভালের বেইজিং সফরের প্রস্তুতিও চলছে। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ভারত সফর করবেন কি না, সে বিষয়েও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, চীন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধীরে ধীরে কঠিন সময় পার করে উন্নয়নের পথে ফিরছে। ওয়াং ইর ভাষায়, চীন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৌশলগত সমঝোতা। তিনি বলেন, বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের উচিত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো। 

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতিও মোটামুটি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি সহজে আসেনি। তাই দুই দেশের উচিত এই অর্জনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ওয়াং ইর মতে, দুই দেশ একে অপরের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নেও একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে ওয়াং ই বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে কৌশলগত আলোচনা ও যোগাযোগ দ্রুত চালুর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সামাজিক ও জনসমর্থনের ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে হবে। ব্রিকস প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, চীন, ভারত এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত একসঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরো ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা।

চীনের বিবৃতিতে অজিত ডোভালের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ডোভাল বলেন, ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক ভারত-চীন সম্পর্ক দুই দেশেরই স্বার্থ রক্ষা করে। তিনি বলেন, ভারত কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে কাজ করতে চায়। ডোভাল আরো বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। চীনের বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ডোভাল ওয়াং ইকে বলেছেন যে, নতুন চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল ভারত। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে। তবে সীমান্ত ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় সম্পর্কের উন্নতি কতটা দ্রুত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
রয়টার্স ছবি

বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে জোর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার হুমকি মোকাবেলায় সরকারি ব্যবস্থাকে আরো সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন তিনি।

এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় সময় সোমবার দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স

হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়ের (ওএসটিপি) পরিচালক মাইকেল ক্রাটসিওস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালের মধ্যেই একটি অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।

তবে এই পদক্ষেপ চীনের সঙ্গে চলমান কোয়ান্টাম প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমন একটি প্রযুক্তি, যা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নীতির মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। এটি জটিল সমস্যার সমাধান শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের চেয়েও অনেক দ্রুত করতে সক্ষম। তবে এই প্রযুক্তি প্রচলিত এনক্রিপশন (ডেটা বা তথ্য) ভেঙে ফেলতে পারে, ফলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ কারণে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কম্পিউটার ব্যবস্থাকে ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ ব্যবস্থায় স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের কোয়ান্টামভিত্তিক সাইবার হামলা প্রতিহত করা যায়।

আগাম সতর্কতা

কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উপাদান বিজ্ঞান, রসায়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় ২০২৮ সালের মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনকে কোয়ান্টাম সেন্সর মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এসব সেন্সর যুদ্ধক্ষেত্রে জিপিএস ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিমান চলাচলে সহায়তা করতে পারবে। 

এছাড়া স্যাটেলাইটে স্থাপন করা হলে ভূগর্ভস্থ টানেল বা ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণের মতো কার্যক্রমও মহাকাশ থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফ্লেকশনের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ কিনসেলা রয়টার্সকে বলেন, ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের আগেই কোয়ান্টাম সেন্সিং প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

গত মাসে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতের নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে আইবিএমের একটি নতুন উদ্যোগও রয়েছে।

এছাড়া ট্রাম্পের আরেকটি নির্বাহী আদেশে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী ও বৈরী দেশগুলোর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে কোয়ান্টামভিত্তিক সেন্সর ও নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে
সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইবাদানে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান। যমজ দুই ভাই তাইও ও কেহিনদে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ দুই বোন তাইও ও কেহিনদে আদেদিরানকে। বিরল এই বিয়ে দেখতে গির্জায় জড়ো হয়েছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং অসংখ্য অতিথি।

স্থানীয়দের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, যমজ সন্তানের সংখ্যা এই অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি হলেও, যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের একসঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী ইয়োরুবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যমজ সন্তানের জন্মের হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে যমজ সন্তানকে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে যমজ সন্তানদের জন্য বিশেষ নামও আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। বড় সন্তানের নাম রাখা হয় 'তাইও'(অর্থ- যে পৃথিবীকে পরীক্ষা করে) এবং ছোট সন্তানের নাম 'কেহিনদে' (অর্থ- যে পরে এসেছে)।

বিয়ের দিন তাইও ওগুনতোয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ও তার ভাই যমজ কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আরো বলেন, তারা চান ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্ম নিক। 

এই চারজনের প্রেমের গল্প শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তখন তারা সবাই ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওগুনতোয়ে ভাইদের এক শিক্ষক তাদের জানান, তিনি এমন দুই যমজ বোনকে চেনেন, যাদের সঙ্গে তাদের পরিচিত হওয়া উচিত। এরপর দুই ভাইয়েরও আগ্রহ তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, এর আগেও তারা অন্য যমজ বোনদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে আদেদিরান বোনেরাও শুরুতে পরিচিত হতে আগ্রহ দেখাননি। এমনকি ওই শিক্ষকের ফোন কলেরও উত্তর দেননি। পরে অবশ্য চারজনের দেখা হয়। তাইও ওগুনতোয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক কথাও হয়েছিল। কিন্তু তখন আদেদিরান বোনেরা কোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

প্রথম সাক্ষাতের পর প্রেম নয়, বরং চারজনের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন পথে এগিয়ে যায়। আদেদিরান বোনেরা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। অন্যদিকে ওগুনতোয়ে ভাইরা কাজের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও কর্মজীবন কাটান। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও পরে আবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরাও এই সম্পর্ককে সাদরে গ্রহণ করেন। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও তাদের খুব দ্রুতই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই দম্পতি একই ধরনের পোশাক পরেছিলেন। এতে অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরো কয়েক জোড়া যমজ উপস্থিত ছিলেন। কারণ, ওগুনতোয়ে ভাইরা স্থানীয়ভাবে যমজ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। তারা 'ওগুনতোয়ে টুইনস' নামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। যদিও দুই ভাই অভিন্ন যমজ নন এবং তাদের চেহারায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের স্ত্রীরা দেখতে প্রায় একই রকম। কেহিনদে ওগুনতোয়ে মজা করে বলেন, তাদের স্ত্রীরা এতটাই একই রকম দেখতে যে, তাদের পরিবারের সদস্যরাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যান। তবে তারা কখনো ভুল করেন না। তারারা নিজ নিজ স্ত্রীকে খুব ভালোভাবেই চিনতে পা্রেন

দুই ভাই জানান, তাদের ও তাদের স্ত্রীদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো শান্ত, আবার কখনো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সম্পর্ক খুব গভীর হলেও, বিয়ের পর দুই দম্পতি আলাদা থাকবেন বলে জানান তাইও ওগুনতোয়ে। 

এখন নতুন জীবনের শুরুটা উপভোগ করছেন এই নবদম্পতিরা। দীর্ঘদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার পথ পেরিয়ে অবশেষে চারজনের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিরল এই বিয়ে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো ইবাদান শহরের মানুষের কাছেও এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।