• ই-পেপার

আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হব না—সাফ কথা মেলোনির

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক বছরের জন্য বন্ধ দাতব্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক বছরের জন্য বন্ধ দাতব্য সংস্থা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসে অবস্থিত ‘আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির’ সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এর পরপরই সংস্থাটিকে এক বছরের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি সামরিক যান নাবলুসের সুফিয়ান স্ট্রিট ও আল-আদল স্ট্রিটে প্রবেশ করে আল-তাদামোন চ্যারিটেবল সোসাইটির কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

একই অভিযানের অংশ হিসেবে নাবলুসের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘বালাতা’ ও ‘আসকার’ শরণার্থী শিবিরেও তল্লাশি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযানে কোনো হতাহত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অতিচালাকের গলায় দড়ি

অনলাইন ডেস্ক
অতিচালাকের গলায় দড়ি
সিয়া গোয়েল, কেতন আগরওয়াল ও চেতন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

সিনেমার চিত্রনাট্যও এতটা নিখুঁতভাবে লেখা সম্ভব হয় না। ২০ বছর বয়সী সিয়া গোয়েল আর তার প্রেমিক ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরী মিলে কিভাবে এমন একটি ক্রাইম থ্রিলার ভাবলেন, সেটা ভেবেই অবাক তদন্ত কর্মকর্তারা। পুলিশ তদন্তে যতই এগোচ্ছে, কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে ততই নতুন নতুন বিস্ময়কর সব উপাখ্যান বেরিয়ে আসছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিয়া ভালোবাসতেন চেতন চৌধুরীকে। দুজন মিলে ঠিক করেন, কেতন আগরওয়ালকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবেন। মে মাসের শেষ দিকে তারা হত্যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। এ নিয়ে দুজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলেছেন। 

পুলিশ দেখেছে, গত ৭ মাসে সিয়া আর চেতন ২ হাজার ৪ বার ফোন কলে ২৩৮ ঘণ্টা কথা বলেছেন। কিভাবে কেতনকে হত্যা করবেন, তা চূড়ান্ত করতে তারা গুগলের সাহায্যও নিয়েছেন। আলোচনায় তারা লোহাগড় দুর্গকেই হত্যার স্পট হিসেবে চূড়ান্ত করে। তারা দুজন লোহাগড় পরিদর্শন করে হত্যার রিহার্সালও করেন।

প্রথমে ৩১ মে সিয়া আর কেতন লোহাগড় দুর্গ ভ্রমণ করেন। কিন্তু তখন লোকজনের ভিড় থাকায় একা একা সিয়া কিছু করার সাহস বা সুযোগ পাননি। পরে ৪ জুন আবার তারা লোহাগড় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেতনের মা সেবার তাদের যেতে দেননি। এ নিয়ে সিয়া কেতনের সঙ্গে অনেক রাগারাগিও করেছেন।

এরপর সিয়া কেতনকে নিয়ে লোহাগড়ে যান ১৪ জুন। সেদিন সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঝোপঝাড় আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান কেতন। সিয়া তখন ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জড়িয়ে ধরে বলেন, সাপ থেকে বাঁচাতে তিনি কেতনকে সরাতে চেয়েছিলেন। ১৮ জুন আবার লোহাগড় যেতে চাইলে কেতনের মা বাধা দেন। কিন্তু সিয়া নিজের জন্মদিনের কথা বলে কেতনের মাকে রাজি করান।

১৮ জুন হত্যা পরিকল্পনা কার্যকর করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন সিয়া-চেতন। এবার আর কোনো ঝুঁকি নেননি। ১৮ জুন সকালে তারা পুনের একটি ক্যাফেতে বসে পরিকল্পনার খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করেন। এরপর সিয়া কেতনের গাড়িতে লোহাগড় চলে যান। আর চেতন বসেন তার পরিকল্পনা নিয়ে। শুধু হত্যা নয়, হত্যা পরবর্তী সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল, নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখার চেষ্টা—সব ছিল তাদের পরিকল্পনায়। এমনকি কোনো কারণে ধরা পড়ে গেলে পুলিশকে তারা কী বলবেন, সেটাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিয়েছিলেন সিয়া আর চেতন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চেতন সকাল ৭টায় তার মোবাইল ফোনের ডাটা অফ করে দেন, যাতে জিপিএস ট্র্যাকারে গতিবিধি অনুসরণ করা না যায়। আরো সাবধানতার অংশ হিসেবে তিনি তার ফোনটি দোকানে রেখে জরুরি যোগাযোগের জন্য এক কর্মচারীর ফোন নিয়ে যান। আর দোকানের লোকজনকে বলে যান, যাতে ফোন আসলে তারা ধরে কথা বলেন।

ফোন চালু রেখে এবং দোকানে রেখে চেতন বোঝাতে চেয়েছিলেন, তিনি পুনেতেই আছেন, বাইরে কোথাও যাননি। পুনে থেকে লোহাগড়ের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। দীর্ঘ এ পথ কেতন পাড়ি দিয়েছেন স্কুটারে। গাড়ি ব্যবহার করলে টোল প্লাজার সিসিটিভিতে প্রমাণ থাকবে। তাই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি গাড়ির পরিবর্তে স্কুটার ব্যবহার করেছেন।

লোহাগড় পৌঁছে তিনি ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে সিয়া ও কেতনকে অনুসরণ করেন। তার পরণে ছিল শর্টস, মাথায় ছিল হুডি, তার ওপর হেডফোন ঝোলানো। হত্যার ৩৪ মিনিট আগে সিয়া চেতনকে ফোন করে চূড়ান্ত সিগনাল দেন। তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল, লোকজন নেই, আগেই নির্ধারিত এমন একটি স্পটে গিয়ে সিয়া পানি খাওয়া বা জুতার ফিতা বাধার অজুহাতে বসে যাবেন; তখনই চেতন চৌধুরী কেতনকে ধাক্কা দেবেন।

চূড়ান্ত সিগন্যাল হিসেবে সিয়ার বসে যাওয়ার পেছনেও তাদের যুক্তি ছিল। ধাক্কা খেয়ে কেতন বাঁচার সহজাত আকুতি থেকে পাশে থাকা সিয়াকে আকড়ে ধরতে চাইবেন। তাতে সিয়ার প্রাণও ঝুকিতে পড়তে পারত। তাই সিয়াকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতেই তাকে বসে গিয়ে সিগন্যাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলে এক নিরাপত্তারক্ষী ছুটে আসেন। তিনি প্রথম পুলিশে খবর দেন। আর সিয়া কেতনের মাকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানান। 

মনে খচখচানি থাকলেও কেতনের পরিবার প্রথমে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবেই মেনে নিয়েছিল। থানায়ও প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। বুকে পাথর চাপা দিয়ে পরিবার কেতনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। কিন্তু সবাই বিশ্বাস করলেও কেতনের বোন সানজানা আগরওয়ালের সন্দেহ কিছুতেই যায়নি। অভিজ্ঞ ট্র্যাকার একমাত্র ভাইয়ের চারদিনের ব্যবধানে দুইবার পড়ে যাওয়ার ঘটনা মানতেই পারেননি সানজানা।

ঘটনার তিনদিন পর ২১ জুন সিয়া কেতনের বাসায় আসলে সানজানা তার কাছে থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে সেদিনের ঘটনা জানতে চান। সিয়ার কথায় অসংলগ্নতা ছিল, যা সানজানার সন্দেহ আরো গাঢ় করে। সানজানা সন্দেহের কথা পরিবারকে জানান। সেদিনই কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল লোহাগড় দুর্গে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারও মনে হয়েছে, এখান থেকে পা পিছলে পড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তখনই তারা পুলিশকে সন্দেহের কথা জানান। 

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সিয়া-কেতনের পেছনে হুডি পরা তরুণকে দেখে সন্দেহ করে। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হুডি পরাটাই ছিল সন্দেহজনক। সেই সন্দেহ থেকে খুঁজতে খুঁজতে চেতন পর্যন্ত পৌঁছায় পুলিশ। নিজের কৌশলের ফাঁদে নিজেই ধরা খেয়ে যান চেতন।

সন্দেহ থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয় চেতনের আরেক কৌশলের কারণেই। ১৮ জুন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা ৪০ পর্যন্ত চেতনের মোবাইল ডাটা অফ ছিল। এই বয়সের একটা ছেলের মোবাইল ডাটা ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অফ থাকাটাও সন্দেহজনক। আর এই সময়ে চেতনের মোবাইলে আসা সব কল অন্য কেউ ধরেছে, এটাও পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য চেতন যে কৌশল নিয়েছিল, সেখানেই চোখ পড়েছে পুলিশের। এ যেন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

১৪ জুন প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ১৮ জুন দ্বিতীয় চেষ্টায় সিয়া আর চেতন কেতনকে হত্যা পরিকল্পনায় সফল হন। তবে কোনো কারণে দ্বিতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হলেও তাদের ‘প্ল্যান সি’ তৈরি ছিল। হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সফল হওয়ার পর পর সিয়া ও চেতন তাদের কথোপকথনের সব ইতিহাস মোবাইল থেকে মুছে ফেলেন। এমনকি রিসাইকেল বিন থেকেও মুছে ফেলা হয়। অবশ্য পুলিশ তাদের মোবাইল ফরেনসিকে পাঠিয়েছে মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধারে।

লোহার বাসর ঘর বানিয়েও রক্ষা পায়নি লখিন্দর। সিয়া-চেতনের নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনায়ও ছিদ্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। ভাইয়ের প্রতি বোনের ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হত্যা রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করেছে। সিনেমার মত বাস্তবেও শেষ পর্যন্ত ভিলেন পরাজিত হয়, সত্যেরই জয় হয়।

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতকে কঠোরভাবে সতর্ক করল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতকে কঠোরভাবে সতর্ক করল পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে ইসলামাবাদ আবারও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, দেশটির প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তারের ন্যায্য পানির অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার খর্বের যেকোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। ডন-এর বরাতে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের নেতৃত্ব এমন বক্তব্য দিয়েছে যে পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রচলিত নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। ফলে পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তার দাবি, দেশের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে কৃষি খাত জড়িত। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার কঠোর পরিণতি হবে। তার ভাষায়, ‘কেউ যদি আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ায়, সেই হাত কেটে ফেলা হবে।’

আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক নদীতেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও উজান থেকে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সেখানে সিন্ধু নদীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কিভাবে- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসব বক্তব্য প্রকাশিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে। তার ভাষায়, সিন্ধু নদীর পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়েছে। আতাউল্লাহ তারার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন যে পাকিস্তানের জন্য পানি শুধু একটি সম্পদ নয়, এটি দেশের ‘রেডলাইন’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে এবং ভারতের জন্য বরাদ্দ এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না। এর পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো। এদিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে সিন্ধ ও বেলুচিস্তানে পানির ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন, জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাপে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পানির সংকটের প্রভাব ভোগ করছে। যদিও পাকিস্তান এ পরিস্থিতির জন্য ভারতের পদক্ষেপকে দায়ী করছে, বিভিন্ন বিশ্লেষণে দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ বণ্টনব্যবস্থার সমস্যাকেও সংকটের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ ৫৮ হাজারের বেশি ভবন

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ ৫৮ হাজারের বেশি ভবন
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৭০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক জানান, ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা অনুমান করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

তারা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের উচ্চ-রেজোলিউশনের রাডার চিত্র ব্যবহার করে এই হিসাব করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং এখনো মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। তাই এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়, একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেখা উচিত।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নাসা বলেছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধারকর্মীদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।