• ই-পেপার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান নদভির ইন্তেকাল

ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের মালিকানা

সায়্যিদ মুনিব মুর্শিদ
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের মালিকানা

পৃথিবীতে সম্পদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত পুরনো, এর মালিকানার প্রশ্নটিও তত পুরনো। মানুষ সব যুগেই কিছু জিনিসকে নিজের বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছে। জমি, ঘর, ব্যবসা কিংবা অর্থ—এসবের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তি যেমন চেষ্টা করেছে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন তৈরি করেছে।

অর্থনীতির ইতিহাসের একটি বড় অংশ জুড়েই আছে এই মালিকানার প্রশ্ন। কে সম্পদের মালিক হবে, তার অধিকার কতটুকু হবে, সেই অধিকার কোথায় গিয়ে শেষ হবে—সভ্যতার বিভিন্ন পর্যায়ে এসব প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিহাসের একটি বাস্তবতা কখনো পরিবর্তিত হয়নি।

মানুষের মালিকানা স্থায়ী নয়। যে জমি একসময় একজনের ছিল, পরবর্তী সময়ে তা অন্যের হয়েছে। যে সম্পদ নিয়ে মানুষ গর্ব করেছে, মৃত্যুর পর তা উত্তরাধিকারীদের হাতে চলে গেছে। মানুষ পৃথিবী ছেড়ে গেছে, কিন্তু সম্পদ পৃথিবীতেই রয়ে গেছে। এই সরল অথচ গভীর সত্যটিকেই ইসলাম মালিকানা দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

ইসলামী অর্থনীতি মানুষের মালিকানাকে অস্বীকার করে না; বরং ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃতি দেয়, সুরক্ষা দেয় এবং বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করে। কিন্তু ইসলাম একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মালিকানা চূড়ান্ত নয়। মানুষের হাতে যা কিছু আছে, তা মূলত তার কাছে অর্পিত একটি আমানত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আসমান ও পৃথিবীর সার্বভৌম মালিকানা আল্লাহর।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৯)

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তাদের প্রদান করো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৩)

দ্বিতীয় আয়াতটির ভাষা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে মানুষের হাতে থাকা সম্পদকেও ‘আল্লাহর সম্পদ’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ সম্পদের ভোগদখলকারী হতে পারে, আইনগত মালিক হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত মালিক নয়। ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শনের ভিত্তি এখানেই। মানবসভ্যতার অর্থনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ গড়ে উঠেছে।

ইংরেজ দার্শনিক জন লক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সেকেন্ড ট্রিটিজ অব গভর্নমেন্ট’-এ ব্যক্তিগত মালিকানার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘Though the earth, and all inferior creatures, be common to all men, yet every man has a property in his own person...’

লকের মতে, মানুষের শ্রম তার নিজের সম্পত্তি। আর যখন সে তার শ্রমকে কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত করে, তখন সেই বস্তু তার বৈধ সম্পত্তিতে পরিণত হয়। আধুনিক ব্যক্তিগত মালিকানাতত্ত্বের বিকাশে এই ধারণা গভীর প্রভাব ফেলেছে।

ইসলাম শ্রমের মর্যাদাকে অস্বীকার করে না; বরং শ্রম, উদ্যোগ ও বৈধ উপার্জনকে সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু ইসলাম এখানেই থেমে যায় না। ইসলাম প্রশ্ন করে—শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কি মানুষকে সীমাহীন অধিকার দেয়? সে কি ইচ্ছামতো সম্পদ ব্যবহার করতে পারে? তার সম্পদের মধ্যে কি অন্য কারো কোনো অধিকার নেই? ইসলামের উত্তর হলো, সম্পদের সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। সম্পদ শুধু অধিকার নয়, আমানতও।

এই দায়িত্বের ধারণাই ইসলামী অর্থনীতিকে শুধু অর্থনৈতিক তত্ত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাকে একটি নৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ এমন এক বিষয়, যার ব্যাপারে মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। সে শুধু কত সম্পদ অর্জন করেছে, তা নয়; কিভাবে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কোরআন সম্পদকে নিছক আশীর্বাদ হিসেবে নয়, পরীক্ষা হিসেবেও উল্লেখ করেছে। ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষা।’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১৫)

এই আয়াত আমাদের একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা দেয়। মানুষ সাধারণত সম্পদকে সাফল্যের প্রতীক মনে করে। কিন্তু কোরআন সম্পদকে দায়িত্বের মানদণ্ড হিসেবেও দেখছে। সম্পদ মানুষের মর্যাদা বাড়াতে পারে, আবার তাকে বিভ্রান্তও করতে পারে। সম্পদ মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে, আবার তার নৈতিক পতনের কারণও হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই জবাবদিহির বিষয়টিকে আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদক্ষেপ সরবে না, যতক্ষণ না তাকে তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে।’ (জামে তিরমিজি)

এই হাদিস ইসলামী অর্থনীতির একটি মৌলিক নীতি তুলে ধরে। পৃথিবীর বহু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের সম্পদের পরিমাণকে গুরুত্ব দেয়; ইসলাম গুরুত্ব দেয় তার উৎস ও ব্যবহারের ওপর। একজন ব্যক্তি বিপুল সম্পদের মালিক হতে পারেন, কিন্তু যদি সেই সম্পদ অন্যায়ভাবে অর্জিত হয় কিংবা অন্যায় কাজে ব্যয় হয়, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে তা সাফল্য নয়। এ কারণেই ইসলামে উপার্জনের বৈধতা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। শুধু ধনী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়, বৈধ উপায়ে ধনী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যয় করা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সঠিক স্থানে ব্যয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

সমকালীন ইসলামী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ওমর চাপরা তাঁর ‘ Islam and the Economic Challenge’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নৈতিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে প্রকৃত মানবকল্যাণ অর্জন সম্ভব নয়। সম্পদ বৃদ্ধি সমাজের জন্য কল্যাণকর হতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদ যদি ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং সামাজিক ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা নতুন সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

ইসলামী অর্থনীতিতে মালিকানা তাই একাধারে অধিকার ও দায়িত্ব। একজন ব্যক্তি তার সম্পদের মালিক, কিন্তু সেই সম্পদের মধ্যে দরিদ্রের অধিকার রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী তাঁর লাভের অধিকার রাখেন, কিন্তু প্রতারণার অধিকার রাখেন না। একজন ধনী তাঁর সম্পদ ভোগ করতে পারেন, কিন্তু অপচয়ের অধিকার রাখেন না। এ কারণেই ইসলামে জাকাত শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়, এটি মালিকানার দর্শনের একটি বাস্তব প্রকাশ। কারণ ইসলাম মনে করে সম্পদ একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় নয়। সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষেরও সেই সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।

একইভাবে উত্তরাধিকার আইনও ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বহু সভ্যতায় সম্পদ কয়েকটি পরিবারের হাতে শতাব্দীর পর শতাব্দী কেন্দ্রীভূত থেকেছে। ইসলাম উত্তরাধিকারের মাধ্যমে সেই কেন্দ্রীভবনকে ভেঙে সম্পদের বিস্তৃত বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে। ফলে সম্পদ সমাজে চলাচল করে, স্থবির হয়ে থাকে না।

কোরআন সম্পদের সঞ্চয়কে নয়, সম্পদের সঠিক প্রবাহকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণেই সুরা আল-হাশরে বলা হয়েছে, ‘যাতে সম্পদ কেবল তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৭)

এই সংক্ষিপ্ত আয়াতটি ইসলামী অর্থনীতির সামাজিক দর্শনকে গভীরভাবে ধারণ করে। ইসলাম সম্পদের বিরোধিতা করে না; বরং সম্পদের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরোধিতা করে।

ইসলামের ইতিহাসে আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাই। উসমান ইবনে আফফান (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন মদিনার অন্যতম ধনী সাহাবি। ইসলাম তাঁদের সম্পদের জন্য সমালোচনা করেনি; বরং তাঁদের সম্পদকে সমাজকল্যাণে ব্যয় করার জন্য প্রশংসা করেছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইসলামের আপত্তি সম্পদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে নয়; বরং সম্পদের অহংকার, অপব্যবহার এবং অন্যায় কেন্দ্রীভবনের বিরুদ্ধে। বস্তুত ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শন মানুষকে দুটি ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। একদিকে এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মালিকানার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, অন্যদিকে সীমাহীন মালিকানার ধারণাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষকে সম্পদ অর্জনে উৎসাহিত করে, কিন্তু সম্পদের দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকতে শিক্ষা দেয়।

এ কারণেই ইসলামে সম্পদকে শুধু ভোগের উপকরণ হিসেবে দেখা হয় না; বরং একটি আমানত হিসেবে দেখা হয়। আর আমানতের প্রকৃতি হলো তার সঙ্গে দায়িত্ব জড়িত থাকে। মানুষ তার সম্পদের হিসাব ব্যাংকের কাছে দিতে পারে, রাষ্ট্রের কাছেও দিতে পারে; কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তাকে একদিন তার রবের কাছেও হিসাব দিতে হবে। সেই বোধই ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা-দর্শনের প্রাণ। এখানে সম্পদ আছে, মালিকানা আছে, বাজার আছে, উদ্যোগ আছে; কিন্তু সবকিছুর ওপর রয়েছে নৈতিক জবাবদিহির ছায়া। আর এখানেই ইসলামী অর্থনীতি শুধু একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং একটি নৈতিক সভ্যতার অংশ হয়ে ওঠে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ জুন ২০২৬

আজ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৩ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫০ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বান্দা যে সময়ে দোয়া করলে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

অনলাইন ডেস্ক
বান্দা যে সময়ে দোয়া করলে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
সংগৃহীত ছবি

বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি কিংবা কোনোকিছু চেয়ে বরাবরই মুমিনরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু’হাত তুলে ধরেন। মহান আল্লাহ তা’আলাও খোদ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।

পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে। আশা করা যায়, তারা সফলকাম হবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।

অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তাদের আমি অবশ্যই অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করবো। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে দোয়া করতেন। উম্মতদেরও মহান রবের নিকট দোয়া করার পদ্ধতি জানিয়েছেন তিনি। যা বিভিন্ন সময়ে সাহাবায়ে-কেরামদের মাধ্যমে বর্ণিত নানা হাদিসে এসেছে। এরমধ্যে দোয়া কবুলের উত্তম সময় শেষরাতের দিকে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তা‘আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে (প্রথম আসমান) অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)

তবে এমন একটি সময় রয়েছে যে সময়ে বান্দা দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না। এই সময়টি হলো আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে করা দোয়া কখনোই প্রত্যাখ্যাত হয় না। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫২১)

ইন্টারনেট ভাড়া দিলে ব্যবহারকারীর গোনাহের দায় কি মালিকের ওপর বর্তাবে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ইন্টারনেট ভাড়া দিলে ব্যবহারকারীর গোনাহের দায় কি মালিকের ওপর বর্তাবে?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা, ব্যবসা, যোগাযোগ, চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে। অনেকেই নিজেদের ইন্টারনেট সংযোগ অন্যদের কাছে ভাড়া দেন বা শেয়ার করেন। এ অবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—যদি কোনো ব্যক্তি সেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে গোনাহের কাজ করে, তাহলে কি ইন্টারনেটের মালিকও সেই গোনাহের অংশীদার হবেন?

ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। কোনো বৈধ জিনিসের অপব্যবহার করলে তার দায় সাধারণত অপব্যবহারকারীর ওপরই বর্তায়। তবে যদি কেউ জেনে-শুনে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোনাহের কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬৪)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত সৎকর্মের সুফল পাবে এবং তার কৃত অসৎকর্মের দায়ভারও তারই ওপর বর্তাবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মের জন্যই জবাবদিহি করবে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিজে ক্ষতি করবে না এবং অন্যেরও ক্ষতি করবে না।’ (ইবন মাজাহ, হাদিস : ২৩৪০)
হাদিসে আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘সমস্ত কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১)
অতএব, যদি ইন্টারনেটের মালিকের উদ্দেশ্য বৈধভাবে সেবা প্রদান করা হয়, আর ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছায় সেটিকে হারাম কাজে ব্যবহার করে, তাহলে সেই গোনাহ ব্যবহারকারীর ওপর বর্তাবে।

ইসলামী ফিকহে মালিকানার একটি মৌলিক নীতি হলো—মালিক তার সম্পত্তি বৈধ উপায়ে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার ও অন্যকে ব্যবহারের অধিকার দিতে পারেন। ফোকাহায়ে কেরাম বলেন, ‘তাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অংশ নিজের ইচ্ছামতো নিষ্পত্তি করার অধিকার আছে।’ (শারহুল মাজাল্লা, ১/৬৪৩)
আরো বলা হয়েছে যে, ‘মালিক তিনিই, যিনি নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি নিজের ইচ্ছামতো নিষ্পত্তি করেন।’ (তাফসিরে বায়জাবি, ১/৭)
এছাড়া—‘মালিকানা হলো এমন অধিকার, যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের সম্পদের ওপর একচ্ছত্রভাবে বৈধ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে।’ (রাদ্দুল মুহতার, ৭/১০, ২৩৫), আল-মাওসুআতুল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ১৪/২৯)

বৈধ জিনিসের অপব্যবহারের দায় কার?
ইন্টারনেট একটি বৈধ সেবা। কেউ যদি সেটিকে বৈধ কাজে ব্যবহার করে, সওয়াব পেতে পারে; আবার কেউ যদি হারাম কাজে ব্যবহার করে, তাহলে গোনাহও তার নিজের হবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। তা হলো, যদি ইন্টারনেটের মালিক নিশ্চিতভাবে জানেন যে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এটিকে শুধু হারাম কাজেই ব্যবহার করবে এবং তিনি সেই উদ্দেশ্যেই ইন্টারনেট সরবরাহ করেন বা উৎসাহ দেন, তাহলে তা গোনাহের কাজে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ২)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ইন্টারনেট একটি বৈধ সেবা। তাই বৈধভাবে ইন্টারনেট ভাড়া দেওয়া বা অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া জায়েজ। ব্যবহারকারী যদি নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় সেটিকে হারাম কাজে ব্যবহার করে, তবে সেই গোনাহ তার নিজের ওপর বর্তাবে; সাধারণ অবস্থায় ইন্টারনেটের মালিক তার জন্য দায়ী হবেন না। তবে মালিক যদি জেনে-শুনে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা নিশ্চিতভাবে হারাম কাজে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন। (তাহতাবি আলাদ-দুররুল মুখতার, ৪/১৯৬, তাহতাবি, ৪/১৯৭, আদ-দুররুল মুখতার, ৪/১৯৬,  আল-মাওসুআতুল-ফিকহিয়্যাহ, ৯/২১৫)।